হঠাৎ করেই এক মহামারীর কারণে দুনিয়ার সব নারী গর্ভধারণের ক্ষমতা হারিয়েছেন? ১৮ বছর ধরে পৃথিবীতে নতুন কোনো সন্তান জন্ম নেয়নি। পুরো পৃথিবী থেকেই মানবসভ্যতা বিলুপ্ত হওয়ার মতো অবস্থা। আর মাত্র তিন বা চার যুগ পরেই পৃথিবীতে আর কোনো মানবসন্তান থাকবে না। এর ওপর পৃথিবীজুড়েই মহামারীর কারণে মানুষ পাগল হয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থার মাঝেও ১৮ বছর পর আশার আলো হয়ে দেখা দেয় নতুন এক নারীর গর্ভবতী হওয়া। কিন্তু তাকেও বাঁচতে দেবে তো?
এমন টান টান উত্তেজনার বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে ‘চিলড্রেন অব মেন’
চলচ্চিত্রের গল্প। ১৯৯২ সালে পি ডি জেমসের লেখা একই নামের উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে ২০০৬ সালে ছবিটি নির্মাণ করা হয়। ২০০৬ সালে ছবিটি মুক্তি পেলেও এর গল্প বর্ণিত হয়েছে ২০২৭ সালের কথা।
ছবিটির গল্প শুরু হয় ২০০৮ সালে পৃথিবীজুড়ে ভাইরাসজনিত এক মহামারী ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে। এতে একদিকে যেমন মানুষ পাগল হতে থাকে, অন্যদিকে সব নারী বন্ধ্যা হয়ে যায়। পাগলদের পাগলাগারদে বন্দি করে রাখা হয়। আর ২০০৯ সালে সর্বশেষ যে শিশুটি জন্মগ্রহণ করে সেই শিশুটি ২০২৭ সালে মারা যায়। পুরো পৃথিবীর এখন অন্যতম উদ্বেগের বিষয় মানবসভ্যতা বিলুপ্তির শঙ্কা।
এ অবস্থার মাঝেও যে কয়েকটি রাষ্ট্রব্যবস্থা এখনো টিকে আছে, তার মধ্যে ব্রিটেন একটি। কিন্তু চারপাশে এত কড়াকড়ি যে দেশের ভেতরের কেউ সহজে বাইরে যেতে পারছে না। আর অভিবাসীদের জন্য সেটা আরো শক্ত আইন। প্রায় সবাই রাষ্ট্রীয় গোলামে পরিণত হয়েছে। এদের মধ্যেই একজন থিও। এরই মধ্যে জুলিয়ান একদিন তার সাবেক স্বামী থিওকে কিডন্যাপ করে।
থিওকে নিয়ে জুলিয়ান এমন এক জায়গায় যায়, যেখানে থিও দেখতে পায় একজন অভিবাসী নারীকে, যে কিনা গর্ভবতী। বিষয়টি একই সঙ্গে দারুণ আনন্দ আর দুঃখেরও বটে। কারণ যে মহামারী চলছে, তাতে গর্ভবতী মহিলাটি যে কারো দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। তাই বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে জাল কাগজপত্র জোগাড় করে সেই অভিবাসীকে হিউম্যান প্রজেক্টের কাছে তুলে দিতে অনুরোধ জানায় জুলিয়ান। ‘হিউম্যান প্রজেক্ট’
নতুন করে কীভাবে নারীরা গর্ভবতী হতে পারে এবং মানবসভ্যতা বেঁচে উঠতে পারে, তা নিয়ে গবেষণা করছে। কিন্তু গর্ভবতী সেই নারীকে গোপনে পৌঁছাতে গিয়ে খুন হয় জুলিয়ান। এখন মানবসভ্যতা বাঁচানোর পুরো দায়িত্ব পড়েছে থিওর কাঁধে। কিন্তু সামনে বিপদের শেষ নেই। ষড়যন্ত্র, আক্রমণ, ভয় সবকিছু মিলিয়ে থিও যেন গভীর সমুদ্রে পড়েছে।
১০৯ মিনিট দৈর্ঘ্যের অ্যাকশন থ্রিলারধর্মী ছবিটি পরিচালনা করেন আলফনসো কুয়ারো। ছবিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন ক্লাইভ ওয়েন, জুলিয়ান মুর, মাইকেল কেইন, চার্লি হানাম প্রমুখ। যদিও অল্প পরিসরে মুক্তির কারণে ছবিটি বক্স অফিসে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। তবে সমালোচকদের মন ঠিকই জয় করে নিয়েছে। অস্কারে তিন ক্যাটাগরিতে নমিনেশন, বাফটা অ্যাওয়ার্ডে সেরা চিত্রনাট্য ও সেরা প্রডাকশন ডিজাইন ক্যাটাগরিতে এবং স্যাটার্ন অ্যাওয়ার্ডে সেরা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ক্যাটাগরিতে
পুরস্কার জিতে নেয়। এমনকি ২০১৬ সালে সারা পৃথিবীর ১১৭ জন সমালোচকের ভোটে ২১ শতাব্দীর সেরা ১০০টি ছবির তালিকায় ১৩তম স্থান দখল করে নেয় ছবিটি।










