রকস্টারের সাউন্ডট্র্যাক এখনো শ্রোতাদের কাছে প্রিয়। সম্ভবত সিনেমাটি যতজন মন দিয়ে দেখেছেন তাদের চেয়ে বেশি মানুষ এর গান শুনেছেন। একুশ শতকের দ্বিতীয় দশকে এআর রহমানের করা অসাধারণ কাজগুলোর একটা হচ্ছে রকস্টার। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে ইমতিয়াজ আলী জানালেন সিনেমার সংগীত পরিচালক হিসেবে অনেক আগে থেকেই এআর রহমানের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। এমনকি জাব উই মেট সিনেমার কাজ করারও আগে থেকে রকস্টারের কাজ শুরু করেছিলেন দুজন। সিনেমাটি নানা কারণে পিছিয়ে যায়। তবে এর আগে যখন কাজ শুরু হয়েছিল, এআর রহমান তার পারিশ্রমিক নিয়ে কিছুই ভাবেননি। তিনি পারিশ্রমিক নিয়ে কোনো কথাই বলেননি।
মজার ব্যাপার হলো সিনেমাটিতে প্রথমে অভিনয় করার কথা ছিল জন আব্রাহামের। এটি পিছিয়েছিল নানা কারণে। কিছুদিন আগে রোশন আব্বাসের পডকাস্টে সে সময়ের স্মৃতিচারণ করেন ইমতিয়াজ। তিনি জানান, সিনেমার সংগীত পরিচালনার জন্য প্রথমে কোনো অর্থ দাবি করেননি এআর রহমান। জাব উই মেটেও তাদের কাজ করার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু রহমান কথা দেননি। বরং রকস্টার নিয়েই তার আগ্রহ ছিল বেশি। সিনেমার অগ্রগতি নিয়ে বারবার জানতে চাইতেন। প্রথমে কথা বলার পাঁচ বছর পর সিনেমাটি মুক্তি পায়।
এ নিয়ে ইমতিয়াজ বলেন, ‘সিনেমাটি ইউটিভির প্রযোজনা করার কথা। তারা ‘রং দে বাসন্তি’ করছিল এআর রহমানের সঙ্গে। এভাবেই আমার সঙ্গে তাদের কথা হয়। তারা বলেছিল, ‘রহমান এতে সংগীত দেবে কিনা তা নিয়ে কী বলছে বোঝা যাচ্ছে না। তুমি একটা কিছু নিশ্চিত করো।’ রহমানের সঙ্গে কথা বলার প্রথম দিকের বিষয়টি বেশ কৌতুহলোদ্দীপক। এ নিয়ে ইমতিয়াজ বলেন, ‘গল্পটা বলতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু সে মাঝপথে আমাকে থামিয়ে দেয়। এরপর একটি কবিতা বলা শুরু করে। তখনই বুঝেছিলাম তাকে কাজটার জন্য পাচ্ছি।’
তারা কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু সিনেমাটি তখন হয়নি। ইমতিয়াজ বলেন, ‘আমরা বসেছিলাম কয়েকবার। সে সংগীতের কাজ করেছিল, কিন্তু পারিশ্রমিক নিয়ে কোনো কথাই বলেনি। এ পেশায় আমি খুব কম মানুষই পেয়েছি, যারা কাজের শুরুতে পারিশ্রমিকের প্রসঙ্গ তোলে না।’
রকস্টার ইমতিয়াজের অন্যতম সেরা সিনেমা হিসেবে বিবেচিত। এরপর ইমতিয়াজ আলীর তামাশায়ও সংগীত পরিচালনা করেছিলেন এআর রহমান।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










