শ্রুতি হাসান ভারতের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা কমল হাসানের কন্যা।
তবে তার পরিচিতিতে পিতার পরিচয়টি কখনো জরুরি হয়ে ওঠেনি।
নিজ গুণেই তিনি ভারতের বিনোদন দুনিয়ার খ্যাতিমান তারকা।
একাধারে অভিনেত্রী ও গায়িকা হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
মূলত দক্ষিণের তারকা হলেও বলিউডেও আছে তার প্রভাব।
চলচ্চিত্র থেকে বেশ কিছুদিন হলো দূরে আছেন শ্রুতি।
কারণ জানতে প্রশ্ন করা হয়েছিল টাইমস অব ইন্ডিয়া থেকে।
শ্রুতি জবাব দিয়েছেন, ‘প্রায় দুই বছর হলো আমি সিনেমা থেকে বিরতি নিয়েছি।
আমি প্রতিজ্ঞা করেছি সংগীত ও সিনেমা দুটো ক্ষেত্রেই কাজ করব।
গান নিয়ে আমি যথেষ্ট সময় দিইনি অথচ সংগীত দিয়েই আমার ক্যারিয়ারের শুরু।
তাছাড়া যেসব কাজের প্রস্তাব আসে সেগুলো নিয়েও আমি খুব একটা সন্তুষ্ট নই।’
অন্যদিকে বলিউডে কাজ নিয়েও মতামত জানিয়েছেন তিনি।
তার মতে, হিন্দি ছবির ইন্ডাস্ট্রিতে সবসময়ই কাজে থাকতে হয়।
আর এ নিয়মিত কাজ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
অন্যদিকে তার শৈল্পিক চেতনার সঙ্গে মানানসই না হলে তিনি কোনো কাজ নেন না।
দুনিয়ার সব জায়গার মতো মহামারীর মধ্যে ভারতেও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে ওটিটি প্লাটফর্ম।
সালমান খানও বছর খানেক অপেক্ষা করে তার রাধে মুক্তি দিয়েছেন ওটিটি প্লাটফর্মে।
ওটিটির মাধ্যমে ভারতের অনেক আঞ্চলিক শিল্পী সর্বভারতীয় তারকায় পরিণত হয়েছেন।
এক্ষেত্রে বাহুবলী খ্যাত প্রভাসের নামটি সর্বাগ্রে চলে আসে।
এ নিয়ে শ্রুতি বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে খুবই আনন্দিত।
আগে আমরা কয়েকজন নারী শিল্পীই কেবল একসঙ্গে বিভিন্ন চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছি।
এটা দারুণ ব্যাপার যে এখন পুরুষ তারকারা আমাদের পথ অনুসরণ করছেন।’
শ্রুতিকে অ্যামাজন প্রাইমের অনেক শোতে দেখা যাচ্ছে।
এর মাধ্যমে তিনি নতুন করে বলিউডের চোখে পড়বেন কিনা এমন প্রশ্ন করলে শ্রুতি জানান তিনি বিশেষ কোনো ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা নিয়ে উন্মুখ হয়ে নেই।
‘অনেকে বলেন বলিউডের অংশ হতে হলে আমাকে সুপার কমার্শিয়াল ছবি করতে হবে।
এসব বিষয় আমার ভালো লাগে না।
আমি অন্যদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে চাই না।
আমি নিজের ভালো লাগাটাই করতে চাই।’
সিনেমা থেকে আপাতত দূরে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব শ্রুতি।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দেখেন বেশ ইতিবাচকভাবে।
তার মতে, সোস্যাল মিডিয়া ব্যক্তিকে নিজস্বভাবে প্রকাশে সহায়তা করে।
এর মাধ্যমে ব্যক্তি তার নিজের ন্যারেটিভকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
‘শিশুবেলা থেকেই মানুষ আমাকে ভুল বুঝত।
এটা আমার জন্য একটা সমস্যা ছিল।
অনলাইনে আমি একেবারেই আমি, আপনি তা পছন্দ করতে পারেন, ঘৃণাও করতে পারেন।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিত্যদিনের অনেক কিছুই শেয়ার করেন শ্রুতি।
কিন্তু তার পরও তার ব্যক্তিগত জীবন যেন অদৃশ্য এক দেয়াল দিয়ে ঘিরে রাখেন।
এ প্রসঙ্গে শ্রুতি শুনিয়েছেন তার কৌতূহলোদ্দীপক অভিজ্ঞতার কথা।
তার কথায় ছোটবেলা থেকেই তিনি বড় হয়েছেন মানুষের সামনেই।
সম্ভবত পিতা কমল হাসানের তারকাখ্যাতিই ছিল এর কারণ।
ছোটবেলায়ই মনে হয়েছে তার পরিবার মনে হয় কেবল তার নিজের নয়, বরং আরো অনেক মানুষই যুক্ত এ পরিবারে।
আর এ কারণে শ্রুতি মনে করেন তার ব্যক্তিগত জীবন বলে তেমন কিছু নেই।
এ নিয়ে আরেকটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
কোনো কিছু গোপনে করার ইচ্ছা বা ভাবনা কোনোটাই তার নেই।
‘আমি কোনো কিছু লুকাই না।
এটা আমার স্বভাব নয়।
কোনো কিছু গোপন রাখতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়।
এবং অনেক আগেই আমি এটা ঠিক করে নিয়েছি যে এ রকম কিছু আমি জীবনে চাই না।’
শিল্পী হিসেবে মহামারীর এ সময়কাল শ্রুতিকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে।
বিশেষত তিনি গান নিয়ে কাজ করতে পারছেন না।
তবে এ সময়টা হঠাৎই কবিতা লিখছেন তিনি।
এবং এটা তার জন্য শিল্পের একটি নতুন মাধ্যম।
শ্রুতি মনে করেন, বিজ্ঞান ও শিল্প দুনিয়াকে বদলে দেয়।
তাই সবারই উচিত নিজের শিল্পসত্তাকে গুরুত্ব দেয়া।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া










