প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো পৃথিবীতে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধের অন্যতম অংশীদার হওয়ায় তাদের প্রচুর সেনা সদস্যের প্রয়োজন হয়। এজন্য টেক্সাস রাজ্যের অনেক যুবককে সেনাবাহিনীতে ভর্তি হতে বাধ্য করা হয়। ইচ্ছের বিরুদ্ধে যখন এ কাজের জন্য লোকবল নিয়োগ দেয়া হচ্ছে ঠিক তখনই এক মহামারী ছড়িয়ে পড়ে পুরো রাজ্যে। এবার যুদ্ধ বাদ দিয়ে নিজের ঘর সামলানোটাই জরুরি হয়ে দেখা দেয়।
এমনই গল্প অবলম্বনে ১৯৮৫ সালে নির্মিত হয় ‘১৯১৮’
চলচ্চিত্রটি। মূলত ১৯১৮ সালে পুরো আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়া স্প্যানিশ ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস এবং তার কারণে প্রচুর মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়েই এগিয়েছে ছবির কাহিনী। একদিকে যুদ্ধের দামামা, অন্যদিকে মহামারীর ভয়াবহতা দুটি বিষয় জীবন্ত করে তুলে ধরা হয়েছে ড্রামা জনরার এ ছবিতে। ছবিটি মূলত হর্টন ফুটে রচিত একই নামের নাটককে ভিত্তি করে নির্মাণ করা হয়।
ছবির গল্প শুরু হয় মূলত ১৯১৮ সালের আমেরিকা যখন পূর্ণোদ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিচ্ছে তখনকার অবস্থা বর্ণনার মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতা চুক্তি আর মানা হচ্ছে না। আমেরিকায় বসবাসরত সব জার্মান নাগরিককে বিশ্বাসঘাতক উপাধি দেয়া হয়েছে। আর যারা আমেরিকার যুবক নাগরিক তাদের দেশপ্রেমের কথা বলে সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক ভর্তি করানো হচ্ছে। কিন্তু কারো কিছু বলার নেই।
টেক্সাস রাজ্যের তেমনই একজন ব্যক্তি হোরাস রবেডক্স। নিজের তরুণী স্ত্রী এলিজাবেথ এবং শিশুসন্তান জেনিকে ছেড়ে সে যুদ্ধে অংশ নিতে চায় না। কিন্তু তাকে বাধ্য করা হচ্ছে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার জন্য। অবস্থা যখন এমন যে সেনাবাহিনীতে যোগ না দিলে পরিবারের ওপর বিপদ নেমে আসবে, ঠিক তখনই প্রকৃতি যেন মহামারী পাঠাল। পুরো শহর এবং আস্তে আস্তে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে নাগরিকরা মারা যাচ্ছে নিয়মিত। সবার পরিকল্পনাই ভেস্তে গেছে। এখন যুদ্ধ নয় আগে নিজ ঘর বাঁচাতে হবে। পরিবারের জন্য যুদ্ধে যেতে রাজি হচ্ছিল না হোরাস। কিন্তু এখন তার পরিবারও প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে মহামারীর কারণে। বিশেষ করে তার ছোট্ট সন্তানটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে বসেছে। নিজের পরিবারের জন্য হলেও এখন আর বসে থাকার উপায় নেই হোরাসের।
৯৪ মিনিট দৈর্ঘ্যের এ ছবিটি পরিচালনা করেছেন কেন হ্যারিসন। লিলিয়ান ফুটে ও কেলভিন স্কাজসের প্রযোজনায় ছবিতে অভিনয় করেন উইলিয়াম কনভার্স রবার্টস (হোরাস), হ্যালি
ফুটে (এলিজাবেথ), রেচেল
অলিভার, মাইকেল হিগিংস, ম্যাথিউ ব্রডেরিক প্রমুখ। ছবিটি চলচ্চিত্র সমালোচক ও দর্শক দুই জায়গা থেকে মোটামুটি সাড়া পায়।










