চারদিকে কপাটগুলো বন্ধ, সমস্ত কোলাহল থেমে গেছে। গোটা পৃথিবীর মানুষ আতঙ্কিত। অথবা তারা অদ্ভুত এক ঘোরে আচ্ছন্ন, যে মগজ দখল করা ঘোর বারবার বলে চলেছে ‘লক্ষণরেখায় থাকো হে, লক্ষণরেখায় বাঁচো’। এ লক্ষণরেখায় আকাশ নেই, আছে কংক্রিট বাসনার ছাঁদ। এ লক্ষণরেখায় সকাল নেই, আছে নিয়ন কুয়াশার রাত। এ লক্ষণরেখায় সবুজ নেই, আছে বারুদের গন্ধমাখা হাত.....
ব্যান্ড ‘সহজন’
এ লক্ষণরেখা ভেঙে বেরোতে চায়, সজোরে ধাক্কা দিয়ে খুলে দিতে চায় সব কপাট, দেখতে চায় আকাশ, দেখাতে চায় আকাশ, যে আকাশে পৃথিবীর সমস্ত ডানা নিরাপদ, স্বাধীন।
এমনই সংকল্প নিয়ে গত বছর ৩১ ডিসেম্বর গড়ে ওঠে সহজন ব্যান্ড। খুব গভীরের ‘বোধের ঠিকানায়’
‘জেগে ওঠার চিঠি’
পৌঁছে দিতে গানের লণ্ঠন হাতে রানার হয়ে ছুটে চলেছে ‘সহজন’।
কীভাবে শুরু দলটির পথচলা? গীতিকার ও ভোকালিস্ট জাহিদুর রহমান শাওন বলেন, প্রায় দুই বছর আগে প্রথম একটা গান লিখি। নাম দিই ‘জোনাকি’। অনুজ বন্ধু অনুপ আর রাজু দেখে বলেন, ‘ভাই সুর দিয়ে ফেলেন।’ অনুপকে একটা সুর বেঁধে শোনানোর কথা বলতেই ও এটা নিয়ে কাজ করবে জানায়। কিন্তু পারিবারিক কারণে হঠাৎ করেই শহর ছাড়ে অনুপ। আমিও জোনাকি আর সহজনের স্বপ্ন মাটি চাপা দিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি জীবিকার চক্রে।
শাওন বলেন, কিন্তু চাপা দেয়া স্বপ্ন যেন আবারো জেগে ওঠে। সহজনের ড্রামার ও কাহন বাদক রাজু খুবই নাছোড়বান্দা। একদিন সন্ধ্যায় সে ছিপছিপে আর অগোছালো সহজনের লিড গিটারিস্ট, কম্পোজার আকাশকে নিয়ে হাজির হয়। কিছুক্ষণ কথা বলেই আমি (শাওন) রাজু আর আকাশ বুঝতে পারলাম, একই গন্তব্যের প্রতি, একই প্লাটফর্মে, একই ট্রেনের জন্য অপেক্ষায় আমরা। ব্যস, উঠে পড়লাম একসঙ্গে। শুরু হলো যাত্রা। আমি তুমি, তুমি আমি অথবা চাওয়া-পাওয়ার বাণিজ্যিক মোড়ক ছিঁড়ে ফেলে ‘সহজন’
খুঁজে ফেরে অন্য এক জীবন। যেখানে প্রতিটি মানুষের নিজস্ব মানুষটা জেগে ওঠে, জেগে থাকে। সহজনের গান বার্তা পাঠায় জেগে ওঠার ‘বোধের ঠিকানায়’। অল্প সময়ের মধ্যেই দলটি এক্কা-দোক্কা, আলোর কাব্য, সভ্য লেখা, বিষ—এর মতো বেশকিছু গান শ্রোতাদের উপহার দিয়েছে।










