‘নারীজন্ম ধন্য হোক আপন ভাগ্য গড়ার অধিকারে’ স্লোগানে নাট্য সংগঠন স্বপ্নদল পালন করবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ উপলক্ষে ৮ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে দলটি পরিবেশন করবে নারী জাগরণের কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন। 

চিত্রাঙ্গদা প্রদর্শনীর আগে দেয়া হবে সম্মাননা। এবার স্বপ্নদলের সম্মাননা পাচ্ছেন অভিনেত্রী ও নির্দেশক হৃদি হক। নাট্যজন অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে হৃদি হকের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন প্রধান অতিথি চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি, অস্ট্রেলিয়ার রেনেসাঁ ড্রামা সোসাইটি মেলবোর্নের দলপ্রধান কামরুজ্জামান বালার্ক প্রমুখ। স্বপ্নদলের প্রধান জাহিদ রিপন জানিয়েছেন, বিশ্বের সব নারীকে সম্মান জানাতে ২০১২ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করে আসছে দলটি। এ পর্যন্ত স্বপ্নদলের সংবর্ধনা পেয়েছেন নাট্যজন ফেরদৌসী মজুমদার, শিমুল ইউসুফ, লাকী ইনাম, নূনা আফরোজ, আইরিন পারভীন লোপা, সাধনা আহমেদ, ত্রপা মজুমদার, রোকেয়া রফিক বেবী, মোমেনা চৌধুরী, আছমা আক্তার লিজা, জয়িতা মহলানবীশ প্রমুখ। সে ধারাবাহিকতায় এবার হৃদি হকের হাতে উঠছে এ সম্মাননা।

হদি হক এ নিয়ে বলেন, ‘‌যেকোনো প্রাপ্তি আনন্দের। আমার জন্য আজকের এ সম্মাননা আমার প্রাপ্তির পাতায় নতুন সংযোজন। বিশ্ব নারী দিবসে সব নারীদের জানাই শুভেচ্ছা।’ একসময় টেলিভিশনের পর্দায় নিয়মিত দেখা যেত হৃদি হককে। এরপর নির্মাণেই বেশি মন দেন তিনি। টেলিভিশন ও মঞ্চ নিয়ে সমান ব্যস্ত এ অভিনেত্রী সিনেমাও নির্মাণ করেছেন। গত বছরের ১৮ আগস্ট মুক্তি পায় হৃদি হক পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘১৯৭১: সেই সব দিন’। এর মূল ভাবনা প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হকের। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হৃদি হক নির্মাণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমাটি। প্রথম নির্মিত সিনেমা দিয়েই দর্শক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। 

অন্যদিকে স্বপ্নদলের চিত্রাঙ্গদা নাটকটি নিয়ে জাহিদ রিপন জানান, রবীন্দ্রনাথ মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা-উপাখ্যান অবলম্বনে ১৮৯২-এ কাব্যনাট্য রূপে এবং ১৯৩৬-এ নৃত্যনাট্য রূপে চিত্রাঙ্গদা রচনা করেন। স্বপ্নদলের চিত্রাঙ্গদা প্রযোজনাটি নির্মিত হয়েছে কাব্যনাট্য পাণ্ডুলিপি অবলম্বনে। এর নাট্যকাহিনীতে উপস্থাপন হয় মহাবীর অর্জুন সত্য পালনের জন্য একযুগ ব্রহ্মচর্যব্রত গ্রহণ করে মণিপুর বনে এসেছেন। মণিপুর-রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা, অর্জুনের প্রেমে উদ্বেলিত হলেও অর্জুন রূপহীন চিত্রাঙ্গদাকে প্রত্যাখ্যান করেন। অপমানিত চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা মদন ও যৌবনের দেবতা বসন্তের সহায়তায় এক বছরের জন্য অপরূপ সুন্দরীতে রূপান্তরিত হন। এবার অর্জুন যথারীতি চিত্রাঙ্গদার প্রেমে পড়েন। কিন্তু অর্জুনকে লাভ করেও চিত্রাঙ্গদার অন্তর দ্বন্দ্বে ক্ষত-বিক্ষত হতে থাকে অর্জুন প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালোবাসেন, চিত্রাঙ্গদার বাহ্যিক রূপ নাকি তার প্রকৃত অস্তিত্বকে? এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকটির কাহিনী।