এ উপলক্ষে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আয়োজন করা হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী স্মরণানুষ্ঠান। প্রদর্শনী, গান, নৃত্য ও আলোচনার মাধ্যমে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে বহুমাত্রিক এ শিল্পীকে। চারুকলা অনুষদ ও মতলুব আলী প্রতিষ্ঠিত ‘মানব শিল্প সাহিত্য সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’ যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই দলীয় সংগীত ‘এসো বন্ধু এসো তোমার সকল বৈভবে’র সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করা হয়। পরে আলোচনা পর্বে ইমেরিটাস অধ্যাপক ও শিল্পী হাশেম খান স্মৃতিচারণা করেন প্রিয় সহকর্মীকে নিয়ে। এ সময় বক্তৃতা দেন সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘মতলুব আলী ছিলেন একজন সত্যিকারের সৃজনশীল শিল্পী। তিনি চিত্রকলার পাশাপাশি সংগীত, সাহিত্যসহ নানা মাধ্যমে কাজ করেছেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি চিত্রকলায় আরো গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন এবং তার শিল্পচর্চা নতুন মাত্রা পায়।’

উল্লেখ্য, মতলুব আলী ছিলেন চারুকলা অনুষদের সাবেক ডিন। ১৯৪৬ সালের ১৭ এপ্রিল রংপুরে তার জন্ম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে দীর্ঘ শিক্ষকতার জীবনে তিনি অঙ্কন ও চিত্রন বিভাগের অধ্যাপক, শিল্পকলার ইতিহাস ও ভাস্কর্য বিভাগে ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছর ৪ নভেম্বর তিনি মারা যান।

স্মরণানুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল শিল্পীর নিজের লেখা ও সুর করা গান নিয়ে পরিবেশনা। তার স্ত্রী প্রখ্যাত ইলেকট্রিক হাওয়াইয়ান গিটার শিল্পী রেহেনা মতলুব রবীন্দ্রসংগীত ‘তুমি রবে নীরবে’ পরিবেশন করেন। এরপর ছায়ানটের শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে গান পরিবেশন করেন। পাশাপাশি আলী পুষ্পিতা মউরী ও মানব শিল্প সাহিত্য সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর শিল্পীরাও পরিবেশন করেন একাধিক সংগীত।

এ আয়োজনের অংশ হিসেবে চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারি ১ ও ২-এ ‘বর্ণিল অন্বেষা’ শিরোনামে মতলুব আলীর একাদশ একক চিত্রকলা প্রদর্শনী চলছে। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন মাধ্যমে আঁকা তার ১০২টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে, যা তার দীর্ঘ শিল্পজীবনের বহুমাত্রিকতা তুলে ধরে। প্রদর্শনীটি আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এবং প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শকের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এর আগে শিল্পীর সর্বশেষ একক প্রদর্শনী হয়েছিল ২০১৬ সালে নিউইয়র্কে।