উইল স্মিথের থাপ্পড়ের শব্দ এখনো শোনা যায়। ক্রিস রকের সঙ্গে তার বিবাদের কারণে নানাভাবেই বাধা পাচ্ছেন স্মিথ। এখন একটি প্রশ্ন আসে, এ বছর তিনি আবার অস্কার জিততে পারবেন কিনা। মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার অভিনীত সিনেমা এমানসিপেশন। দাসপ্রথা নিয়ে এর গল্প। একজন পালিয়ে যাওয়া দাসের জীবনের কথা বলে সিনেমাটি। এটির প্রযোজনা ও অভিনয়ের জন্য স্মিথ পেয়েছেন সাড়ে ৩ কোটি ডলার। এ সিনেমায় অস্কার জয়ের মতো সব ধরনের উপাদানই আছে বলে মনে করেন অস্কার ও সিনেমা বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু চড় কাণ্ডের কারণেই আটকে যাবেন স্মিথ, এমনটাই মনে করছেন সবাই। 

বিষয়টি একটু জটিল। স্বাভাবিকভাবে মনে করা হচ্ছে অস্কার থেকে স্মিথকে নিষিদ্ধ করা মানে তিনি বা তার সিনেমা অস্কার প্রাপ্তির জন্য লড়তে পারবে না। এ ধারণা ভুল। স্মিথের সিনেমা অস্কার দৌড়ে অংশ নিতে পারবে। এমনকি অস্কার জয়ও তার জন্য অসম্ভব নয়। নীতি অনুসারে এতে কোনো বাধা নেই। অস্কার লাভের জন্য স্মিথ ক্যাম্পেইন করবেন বা তাকে দিয়ে অ্যাপল ক্যাম্পেইন করাবে, এতেও সন্দেহ নেই। কেননা এ বছর অস্কার দৌড়ে আরো অনেক কঠিন প্রতিযোগী রয়েছেন। দ্য হোয়েলের জন্য ব্রেন্ডন ফ্রেজার, এলভিসের জন্য অস্টিন বাটলার, দ্য বানশিস অব ইনেশেরিনের জন্য কলিন ফেরেল ও দ্য সান নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন হিউ জ্যাকম্যান।

উইল স্মিথ এ সিনেমার একজন প্রযোজক। সে হিসেবে সিনেমাটিকে ‘‌ সেরা সিনেমা’র তালিকায় রাখলে এবং এটি অস্কার জয় করলে তার ভাগীদার হবেন স্মিথও। অন্যদিকে সেরা অভিনেতা হলে তো কথাই নেই। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি পুরস্কৃত হলেও তা গ্রহণ করতে পারবেন না। 

এর আগে গত অস্কারে সেরা সিনেমা ও সেরা অভিনেতার জন্য মনোনয়ন পেয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন উইল স্মিথ। এছাড়া গত বছর অ্যাপল স্টুডিওর কোডা অস্কারে সেরা সিনেমার পুরস্কার পেয়েছিলেন। সেখান থেকে একটি বড় সম্ভাবনা আছে অ্যাপল তাদের সিনেমা নিয়ে ক্যাম্পেইন করবে। এমানসিপেশনও অ্যাপলের সিনেমা। এমানসিপেশনের গল্প, স্মিথের অভিনয় ও অ্যান্টনি ফাকুয়ার পরিচালনার গুণে সিনেমাটি সম্ভাবনাময়। সেক্ষেত্রে সব মিলিয়ে সিনেমার গুণেই অস্কার জয়ের একটি বড় সম্ভাবনা ধরে রাখছে। কিন্তু সেটাও কতটা পুরোপুরিভাবে সম্ভব হবে তা জানতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।


সূত্র: ভ্যারাইটি