বলিউডের অন্যতম সেরা কোরিওগ্রাফার সরোজ খান। বলিউডের বেশকিছু গান নব্বইয়ের দশককে সংজ্ঞায়িত করে। যেমন ‘এক দো তিন’, ‘চোলি কে পিছে’, ‘নিমুড়া নিমুড়া’সহ আরো কিছু গান। এ গানগুলোর নাচের কোরিওগ্রাফ সরোজ খানের করা। তবে দেবদাসের গান ‘‌ডোলা রে ডোলা’ই তাকে এনে দেয় জীবনের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। নুরসত বদরের লেখা গানটির সুর করেন ইসমাইল দরবার। শ্রেয়া ঘোষাল ও কবিতা কৃষ্ণমূর্তির কণ্ঠে এ গানে পারফর্ম করেছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই ও মাধুরী দীক্ষিত। পুরো আয়োজনটি এমন প্রভাব ফেলেছিল যে অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের পরিহিত শাড়ি-গহনা মূলধারার ফ্যাশনের অংশ হয়ে যায়। কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় শুয়ে এ গানের কোরিওগ্রাফি করেছিলেন সরোজ।

সঞ্জয় লীলা বানসালীর অন্যতম উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রজেক্ট ছিল দেবদাস। আর ডোলা রে গানটিকে সরোজ খান তার ক্যারিয়ারের ‘সবচেয়ে কঠিন’ গান বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং বলেছিলেন এটা তার ‘সাফল্যের পালক’। গানটির নাচের দৃশ্য ছিল অনেকটা ঐশ্বরিয়া ও মাধুরীর লড়াই। দুজনই শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রী ও প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ নৃত্যশিল্পী হওয়ায় দর্শক ভিডিওজুড়ে তুলনা করেছেন কে এগিয়ে থাকবেন। সরোজ এ ব্যাপারে সচেতন ছিলেন এবং তাকে নিশ্চিত করতে হয়েছিল যে দুজনেরই পর্যাপ্ত নাচের সুযোগ থাকে, যেন মনে না হয় একজনকে অন্যজনের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

২০১২ সালে মুম্বাই মিররকে তিনি বলেন, ‘মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বরিয়া রাই দুজনেই অসাধারণ নৃত্যশিল্পী এবং আমি কাউকেই এমন অনুভূতি দিতে পারতাম না যে তাদের নাচ ভালো হয়নি। আমি ভয় পাচ্ছিলাম একজন যেন নিজেকে বঞ্চিত মনে না করে, কিন্তু সৌভাগ্যবশত তেমন কিছু হয়নি।’ সরোজ জানান, দুজনেই পর্দায় দুর্দান্ত হলেও তাদের প্রস্তুতির ধরন আলাদা ছিল—মাধুরী বহুদিন মহড়া করে সেটে আসতেন, আর ঐশ্বরিয়া সেটেই মহড়া দিতেন।

তবে গানটির শুটিংয়ের সময় সরোজ ভীষণ অসুস্থ ছিলেন। কুইন্টকে বানসালী বলেন, ‘শুটিংয়ের সময় সরোজজি ভীষণ অসুস্থ ছিলেন। তিনি প্রচণ্ড যন্ত্রণায় ছিলেন, কিন্তু মাটিতে শুয়ে নির্দেশ দিতেন। তিনি ১৫ দিন শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন।’

পেশাদারত্ব ও আবেগ মিলিয়ে কাজ করেছিলেন সরোজ। সে কারণেই গান, নাচ ও সেট মিলিয়ে এ গান হয়ে উঠেছিল সময়ের অন্যতম সেরা কাজ। এখনো এ গান দর্শককে টানে।

এখানেই শেষ নয়। সিনেমা মুক্তির দিন হাসপাতালে ছিলেন সরোজ। বানসালী ও ঐশ্বরিয়া তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে সরোজ নিজের শারীরিক অবস্থার চেয়ে গানের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বেশি ভাবিত ছিলেন। বানসালী বলেন, ‘আমরা তাকে দেখতে গেলে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন গানটা কেমন চলছে। দর্শক হাততালি দিচ্ছে কিনা।’

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস