ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে ঘরবন্দি হয়ে আছেন মডেল ও অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল। একটু অবসর পেলেই ছুটে যান ঘুরতে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আজ হয়তো থাকতেন কোনো এক দূর সমুদ্র পাড়ে। কিন্তু সেসব যেন এখন কেবলই স্বপ্নের মতো। সম্প্রতি টকিজের মুখোমুখি হয়েছিলেন ‘ন ডরাই’কন্যা। কোয়ারেন্টিনের জীবনযাপনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।
সত্যি বলতে, আমার নিয়মিত জীবনও এখনকার মতোই। এখনো অফিসে যেতে হচ্ছে। তবে প্রতিদিন নয়, মাঝেমধ্যে। শুটিং নেই, ঘুরতে যেতে পারছি না। এ অংশটা বাদ দিলে আমার জীবনযাপন যে রকম ছিল, তেমনই আছে। বাসায় কাজ করি, রান্না করি, খাইদাই আর ছবি দেখি।
আমি লিখতে খুব পছন্দ করি। অবশ্য এটা কেউ জানে না। রাতের বেলা প্রতিদিন লিখতে ভালো লাগে। প্রতিদিন নিজের ঘরটা নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা করি, যেন মন ভালো থাকে। আমি নতুন নতুন গাছ লাগাই। গাছ লাগানো আমার খুব পছন্দের একটা কাজ।
আমি সাধারণত গল্প লেখি। তাছাড়া আমার মধ্যে রাতের বেলা কিছু দার্শনিক চিন্তাভাবনার উদ্রেক হয়, সেসব লেখার চেষ্টা করি।
এই অবসরে কতগুলো গল্প লিখেছেন?
এটা গোনা হয়নি। কিন্তু আমার একটা ডায়েরি শেষ হয়েছে। আর একটা কিনতে হবে। আমি যে খুব বেশি লিখি তা নয়। কিন্তু যা লিখি, তার একটা গভীর অর্থ রয়েছে আমার কাছে।
না, না। এগুলো নিশ্চিতভাবেই কেউ দেখবে না। এগুলো আমার নিজের জন্য লেখা।
ছবি দেখা হচ্ছে। তবে বই পড়া হচ্ছে না। আগে খুব বই পড়তাম। মাঝখানে কাজের চাপে বই পড়ার ধৈর্যও কমে গেছে। তাছাড়া যা আছে, তাও পড়া শেষ। নতুন বইও আমার কাছে নেই।
কোয়ারেন্টিনের আগে বেশ ব্যস্ত ছিলাম। অনেক কাজ আটকে ছিল। আমার ছবিটা মুক্তির খুব বেশি দিন হয়নি। পহেলা বৈশাখ আর ঈদ খুব ব্যস্ত সময় আমাদের জন্য। আমি আসলে বেশকিছু কাজে যুক্ত ছিলাম। পরে লকডাউন হয়ে গেল। কাজেই সব কাজ বাতিল।
নাটক বা চলচ্চিত্র ছিল না। কিছু ওয়েব সিরিজের কাজ ছিল। এছাড়া বেশকিছু ফটোশুটের কাজ ছাড়াও কিছু প্রমোশনাল ইভেন্টের কাজ ছিল। সবকিছুই বাতিল
হয়ে গেছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ‘ন ডরাই’
ছবিটি হয়তো দর্শকরা ঈদে আবারো দেখতে পেতেন। এখন তা হচ্ছে না। এটা নিয়ে কোনো খারাপ লাগা?
সত্যি বলতে, ‘ন ডরাই’
যাদের দেখার কথা, তারা এরই মধ্যে দেখে ফেলেছেন। যারা দেখতে পারেননি, তাদের উদ্দেশে বলব, সবকিছুর জন্য এত বেশি অপেক্ষা করতে হয় না। যা করে ফেলার, আজই করে ফেলুন। অতীত তো চলে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ আসবে কিনা কেউ জানে না। যারা দেখেননি, আমি জানি না তারা দেখতে পারবেন কিনা। একটু মন খারাপ হচ্ছে। আর যারা দেখেছেন, তাদের কাছ থেকে তো বেশ ভালো রিভিউ পেয়েছি। ফলে এত বেশি আপসেট নই।
আমি অফিসের সহকর্মীদের সঙ্গে বসে লাঞ্চ করতে চাই। যে যার মতো অফিস করি, দেখা হয় না। তাই আশা করছি, প্রথম দিনই সবাই মিলে লাঞ্চ করা হবে।
এখন আমি সবচেয়ে বেশি মিস করছি ভ্রমণ। আমি অনেক বেশি ভ্রমণ করি। গ্রীষ্মের ছুটিতে সাধারণত ঘুরতেই থাকি। এ সময়টায় আসলে আমার ঘুরতে থাকার কথা, অথচ এখন
বাসায় বন্দি।
কখনই না। আমি একদমই ঘরে থাকার মানুষ না। একটু হলেও বের হব। যেদিন বের হই না, তার মানে ধরে নিতে হবে আমি অসুস্থ। সে সময়টা বাসায় থাকি। আবার যখন শুটিংয়ের চাপ বেশি থাকে, তখন কাজ শেষে দুই দিন ধরে ঘুমাই। এটাই মূলত আমার বাসায় থাকা।
আমার একটা ভালো দিক হলো আমি পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারি। ইতিবাচকতাকে ধারণের চেষ্টা করছি। উপভোগের চেষ্টা করছি। কিন্তু মাঝেমধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসে। মনে হয় একটু বের হই। একটু বিশুদ্ধ বাতাস ফুসফুসে নেয়া দরকার, একটু সমুদ্রের পাড়ে, নদীর পাড়ে যাওয়া উচিত। এগুলো ছাড়া বাসায় নিজের কাজ করে চলে যাচ্ছে সময়।
নিজেকে চেনার জন্য এ সময়টা দরকার ছিল। আমি লক্ষ করছিলাম, সবাই এমন হয়ে
গিয়েছে যে যার যা ইচ্ছা তাই করছে।
নিজেকে হয়তো ভুলে যাচ্ছে। নিজের অস্তিত্ব বা স্বপ্নটা কী, কোথায় আছে—সব ভুলে যাচ্ছিল। আমিও হয়তো মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাচ্ছিলাম। নিজেকে চিনতে এ সময়টা আমাকে সহায়তা করছে।










