দেশের বিনোদন অঙ্গনের নিয়মিত মুখ রুনা খান। নাটক, সিনেমা ও ওটিটি কনটেন্ট সব ধারায়ই সাবলীলভাবে দেখা মেলে এ অভিনেত্রীর। গত বছরের পুরোটা সময় অভিনয় ও লুকের জন্য আলোচনায় ছিলেন তিনি। নতুন বছরে তার ব্যস্ততা নিয়ে কথা হয় বণিক বার্তার সঙ্গে। চলতি বছরে কাজের খবর জানতে চাইলে রুনা জানান, এ বছর তার জন্য আরো বেশি রঙিন হতে যাচ্ছে। কারণ নতুন দুটি সিনেমা ও ওয়েব ফিল্ম নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি।
গত বছর রুনা খান শেষ করেছেন পরিচালক মাসুদ পথিক পরিচালিত ‘বক—দ্য সোল অব নেচার’ সিনেমাটির কাজ। এছাড়া কৌশিক শংকর দাস পরিচালিত ‘দাফন’ সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন রুনা। ওয়েব ফিল্ম প্রসঙ্গে এ অভিনেত্রী জানান, ২০২৩ সালে শাহরিয়ার নাজিম জয়ের পরিচালনায় ‘শোধ’ ও কাজল আরেফিন অমির পরিচালনায় ‘অসময়’ নামের দুটি ওয়েব ফিল্মের কাজ করেছেন। নতুন বছরে আরো চারটি কাজ নিয়ে আসবেন। তিনি বলেন, ‘গত বছর আমি অনেক কাজ করেছি। আমি মনে করি, উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আন্তঃনগর ওয়েব সিরিজ অন্যতম। এটার জন্য দর্শকের কাছে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। এছাড়া আমি দুটি সিনেমা ও ওয়েব ফিল্ম করেছিলাম। আসন্ন কাজগুলো নিয়ে আমি ভীষণ আশাবাদী। চিত্রনাট্য পড়ার পরই কাজগুলো আমার ভালো লেগেছিল। আমার বিশ্বাস, ২০২৪ হবে আমার জন্য অভিনয়ে আরো প্রাপ্তির বছর।’
বক—দ্য সোল অব নেচার কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতা ‘আট বছর আগের একদিন’ অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা। এ সিনেমায় কেন্দ্রীয় একটি চরিত্র ‘সবিতা’। আর এ চরিত্রেই অভিনয় করছেন রুনা খান। সিনেমাটি নিয়ে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘বক সিনেমার মূল দর্শন হচ্ছে প্রকৃতি ও জীবনের গল্প। সুরুজ দেওয়ান একজন বক শিকারি। তার স্ত্রী সবিতা। এ চরিত্রেই আমাকে দেখা যাবে। একটি পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও জীবন দর্শনের গল্প বলার চেষ্টা করছেন পরিচালক মাসুদ পথিক।’ দাফন নিয়ে রুনা জানান, এটি নির্মিত হচ্ছে একটি সত্য ঘটনার অনুপ্রেরণায়। এ সিনেমায় তার চরিত্রের নাম কুলসুম। এক নারীর সংগ্রামের গল্প দেখা যাবে এতে। গল্প ও চরিত্র দুইই পছন্দ হয়েছে বলে দাফন সিনেমায় যুক্ত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
বক ও দাফন সিনেমা দুটির শুটিং পর্বের সময় নিজের লুকের কয়েকটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন রুনা। দুটি চরিত্রেই দুভাবে দেখা মিলেছে এ অভিনেত্রীর। অন্যদিকে ব্যক্তি জীবনে সদা হাস্যোজ্জ্বল রুনা খান। চরিত্রের সঙ্গে মিশে গিয়ে অভিনয় করে দর্শকের কাছে প্রশংসা পান তিনি। আর ব্যক্তি জীবনেও লুকের জন্য দর্শকের ভালোবাসা পান এ অভিনেত্রী। নিজের লাইফ স্টাইল প্রসঙ্গে রুনা বলেন, ‘জীবন চলার পথে এখন তো একটু হিসাব-নিকাশ করেই চলছি। কিছুদিন আগেও মানুষের সঙ্গে প্রাণ খুলে মিশেছি, কথা বলেছি, গল্প করেছি, আড্ডা দিয়েছি। মানুষের কাছে গিয়ে মানুষকে চেনার চেষ্টা করেছি। আমি সবসময় পজেটিভ থাকতে চেষ্টা করি। আর যাদের সঙ্গে চললে পজিটিভ ভাইভটা ফিল করি না, আমি তাদের এড়িয়ে চলছি। আমার কাছে মনে হয়, যে মানুষ খাদ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, যে ঘুষ খাচ্ছে, সে মানুষগুলোই আবার অন্যের বদনাম করছে, তাদের এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। আমি এ ৪০ বছর বয়সে এসে একটি কথাই জোরালোভাবে বলতে চাই, পৃথিবীতে আমি যতদিন বাঁচব, আমার দ্বারা যেন কোনোদিন কোনো প্রাণীর ক্ষতি না হয়। আমি যেন কাউকে মানসিকভাবে হলেও যেন কষ্ট না দিই।’










