বাংলাদেশের সিনেমার জীবন্ত কিংবদন্তি ববিতা। তিনি দেশের প্রখ্যাত সব পরিচালকের নির্দেশনায় বহু বিখ্যাত সিনেমায় অভিনয় করেছেন। বেশ কয়েকবার শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রাভিনেত্রীও হয়েছেন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ‘আজীবন সম্মাননা’য়ও ভূষিত হয়েছেন। সেই নন্দিত ও জনপ্রিয় নায়িকা ববিতাকে দীর্ঘদিন নতুন কোনো সিনেমায় দেখা যাচ্ছে না। তবে তিনি সিনেমায় অভিনয় করতে চান।
সিনেমায় আসার জন্য একটা ভালো গল্প চান ববিতা। একদম মৌলিক একটি গল্প। যে গল্প নিয়ে কখনো কোথাও কোনো সিনেমা নির্মাণ হয়নি। আবার কিছু ভালো গানও চান। কারণ গানই হলো সিনেমার প্রাণ। কথা প্রসঙ্গে আওকাত হোসেন পরিচালিত ১৯৮১ সালের ৪ ডিসেম্বর মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সাক্ষী’ সিনেমার ‘পারি না ভুলে যেতে’ গানটির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে ববিতা বলেন, ‘পারি না ভুলে যেতে-স্মৃতিরা মালা গেঁথে-হারানো সে পৃথিবীতে ডেকে নিয়ে যায়-আমারে কাঁদায়—কী সুন্দর গানের কথা, কী চমৎকার গানের সুর। আমার লিপে গানটি দর্শক উপভোগ করেছিলেন। এতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন শ্রদ্ধেয় শাহনাজ রহমতুল্লাহ। তিনি এত আবেগ দিয়ে গান গাইতেন, যা সত্যিই মনকে নাড়া দিত। আমার খুব মনে পড়ে, এ গানের কিছু দৃশ্য বিএফডিসির বাইরে হয়েছিল। বাকি শুটিং এফডিসির ভেতরে গাড়ির মধ্যে বসেই আমাকে করতে হয়েছিল। মূলত সিনেমাটোগ্রাফার তার মেধা দিয়ে এ গানের দৃশ্যায়ন করেছিলেন। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর গানটি বেশ সাড়া ফেলেছিল। এ গান এখনো শ্রোতা দর্শকের মাঝে বেঁচে আছে। একটি গানের আবেদন কতটা শক্তিশালী হলে এত বছর পরও দর্শকের কাছে প্রিয় থাকে। আরো বহু যুগ এ গান বেঁচে থাকবে।’
পুরনো অনেক কিছুই মনে পড়ে ববিতার। তিনি তা নিয়ে কথাও বলেন। ববিতা বলেন, ‘মনে পড়ে সে বছর আমার অভিনীত আরেকটি ছবি বেশ সাড়া ফেলেছিল। আমজাদ হোসেন ভাইয়ের ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’। এ সিনেমার গানগুলোও বেশ সাড়া ফেলেছিল। কিন্তু পারি না ভুলে যেতে গানটি এখনো চাইলেই ভুলতে পারি না। প্রায় সময়ই গুনগুন করে গাই আমি।’
ববিতা অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিল নারগিস আক্তারের ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’।










