টাসোনির চরিত্রটি নিখুঁত, ফিটফাট। এর সঙ্গে আপনি নিজেকে কীভাবে মানিয়েছেন?

গত চার সপ্তাহের মধ্যে এটিই আমার প্রথম সাক্ষাত্কার। যেহেতু এটি ভিডিওতে হচ্ছে, তাই আমার স্ত্রী আমাকে বলেছিলেন যে আমার দাড়ি কামানো উচিত। আমার কাছে ফিটফাট থাকার বিষয়টি ততটা গুরুত্বপূর্ণ না যতটা গুরুত্ব ফ্র্যাঙ্ক এটিকে দিত। অবশ্য ফ্র্যাঙ্ক একটি বিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাই তাকে সবসময় নিজেকে মার্জিত দেখাতে হবে। তবে আমি সবসময়ই নিজেকে উপস্থাপন করায় মনোযোগ দেয়ার চেয়ে অভিনয়ে বেশি সময় দিতাম।

যদি কখনো বাস্তব জীবনে কোনো লজ্জাকর কেলেঙ্কারিতে ধরা পড়েন তাহলে কি সেই পরিস্থিতি সামলাতে পারবেন? কী মনে হয় আপনার?

না, আমি মনে করি না যে আমার পক্ষে তা সম্ভব হবে। এমনকি ছোটবেলায়ও আমি কখনই তেমন তীক্ষ বুদ্ধিসম্পন্ন ছিলাম না। কৈশোর বয়সে আমার বাবা একা আমাকে মানুষ করেছিলেন, তাই আমার হাতে নিজের জন্য অনেক সময় থাকত। তবে আমি কখনই সেই বাচ্চাদের মধ্যে ছিলাম না যারা মনোযোগ পাওয়ার জন্য সমস্যা তৈরি করত। আমি যতটা পারি সমস্যা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি।


এ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য কোন বিষয়টি আপনাকে আকৃষ্ট করেছিল?

প্রথম আমাকে যা আকর্ষণ করেছিল তা হচ্ছে এটি একটি সত্য গল্প এবং তারপর মনুষ্যত্বের ফাঁকা স্থানগুলো। অনেক লোক জেলে গিয়েছিল, কারণ তারা এমন কাজ করেছিল যা খুব খারাপ। তারা পাবলিক ফান্ডের ১২ মিলিয়ন ডলার চুরি করেছিল। এটি ছিল স্কুলের ইতিহাসের বৃহত্তম চুরি। আসলে এটি ঘটেছিল মনুষ্যত্বের  সেই ফাঁকা স্থানগুলোর কারণে। ছোট ছোট কিছু চুরি যা কিনা আপনার কাছে এ মুহূর্তে ন্যায্যতা পাচ্ছে, তা জমতে জমতে সেই হিসাব যে ১২ মিলিয়ন ডলারের মতো বিশাল পরিমাণে যেয়ে ঠেকতে পারে তা প্রমাণিত। এটি এমন যে আপনি মুদি দোকানে যান এবং আঙুর চুরি করে ভাবেন যে কেবল একটি আঙুর খাচ্ছি, এটি সামান্য বিষয়। আমি কোনো খারাপ মানুষ নই। ছয় বছর পরে দেখা যাবে আপনি এই দোকান থেকে অর্থ চুরি করছেন। একটি খারাপ মানুষ ভাবে না যে খারাপ কাজ করছে। সে খারাপ কাজগুলোকেই নিজের মতো করে ন্যায্যতা দেয়।

লকডাউন কীভাবে মোকাবেলা করছেন?

আমি এখন একটি জিনিসই করি তা হলো ধ্যান। আমাদের প্রতিদিনের জীবন ঠিক পানির পৃষ্ঠের মতো। একদিন শান্ত ও প্রশান্ত এবং পরের দিন এটি তরঙ্গায়িত হতে পারে। কিন্তু পানির তলদেশটি কিন্তু সবসময়ই শান্ত। ধ্যান করার মাধ্যমে নিজেকে সেই শান্ত অবস্থায় রাখা যায়। আমি কমপক্ষে ২৫-৩০ বছর ধরে ধ্যান করছি। আমি নিজেকে নিয়ে চিন্তিত নই, তবে আমার বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ থাকা এবং তাদের বন্ধুদের আশপাশে না পাওয়ায় তাদের মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমি আশা করি খুব দ্রুত সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

 

সূত্র: আউট ম্যাগাজিন