আমেরিকা যেভাবে কিউবাকে দেখায়, দেশটা তেমন নয়। জন অ্যালপার্ট তার ডকুমেন্টারিতে অন্য কিউবাকে ধরেছেন। কিউবা অ্যান্ড দ্য ক্যামেরাম্যান নামক ডকুমেন্টারি কিউবাকে নতুন করে প্রকাশ করে। অন্তত ৪০ বছর ধরে তিনি নিয়মিত কিউবায় গেছেন। সেখানে দেশটির প্রতি আমেরিকার সৃষ্টি করা চাপ তিনি দেখেছেন। পাশাপাশি দেখেছেন সেখান থেকে কিউবার নাগরিকরা কেমন করে বেরিয়ে আসতে চায়। একটা সময় তিনি ফিদেল কাস্ত্রোর খুব কাছাকাছি এসেছেন। আমেরিকার প্রচার কিউবা আর বাস্তবের কিউবার পার্থক্য যেকোনো দর্শক অ্যালপার্টের ডকুমেন্টারি থেকে বুঝে নিতে পারবে।
নেটফ্লিক্সে স্ট্রিম হওয়া এ তথ্যচিত্র সিনেমার প্রায় সব বৈশিষ্ট্যই ধারণ করে। অন্যদিকে এর মধ্যে রয়েছে গভীর অন্তর্দৃষ্টি। কিউবা অ্যান্ড দ্য ক্যামেরাম্যান একদিকে সিনেমার গুণে গুণান্বিত, অন্যদিকে এতে সাংবাদিকতার ছাপও স্পষ্ট। অ্যালপার্ট কিউবাকে বুঝতে ফিদেলের কাছে গেছেন। ফিদেলকে আমেরিকা বলে, এক সামান্য সন্ত্রাসী যে কিনা নিজের ইমেজ বদলে একজন নায়ক হয়ে উঠেছে। কিন্তু ফিদেলের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো অ্যালপার্ট ভিন্ন গল্প জানেন। সেটিই তিনি প্রকাশ করেছেন তার তথ্যচিত্রে।
অ্যালপার্ট সর্বপ্রথম ১৯৭০ সালে কিউবা ভ্রমণ করেছিলেন। কিউবার সমাজতান্ত্রিক নীতি নিউইয়র্ক সিটির শ্রমিক সমাজে কাজ করে কিনা তা দেখা ছিল উদ্দেশ্য। সে সন্ধানে অ্যালপার্টের তথ্যচিত্রের একটি চরিত্র ক্রিস্টোবাল যে কিনা কোনো কঠিন সময়েও হাসতে পারে। বাস্তব চিত্রায়নে অ্যালপার্টের ধারাটি একটু ভিন্ন। তিনি প্রথম যখন কাস্ত্রোর চোখে পড়েন, তখন একটি শিশুর প্যারাম্বুলেটরে ক্যামেরা নিয়ে যাচ্ছিলেন। অ্যালপার্ট অনেক সময়েই তার স্ত্রীকে সঙ্গে করে ঘুরতেন। এমন এক সময়েই কাস্ত্রো তাকে বেশকিছু সাক্ষাত্কার দিয়েছিলেন।
কাস্ত্রোর সঙ্গে অ্যালপার্টের দেখা সাক্ষাতের বিষয়গুলো বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। অ্যালপার্টই একমাত্র আমেরিকান, যিনি কাস্ত্রোর আমেরিকা সফরের সময় তার ও তার দলের সঙ্গী হয়েছিলেন। যাত্রাটি বিশেষ এবং তার গল্পটাও বিশেষ হয়ে ওঠে। কেননা এখানেই কাস্ত্রো বলেছিলেন তার কোনো বুলেটপ্রুফ ভেস্ট প্রয়োজন নেই, কেননা তার একটি নৈতিক ভেস্ট রয়েছে। এখানে দেখা যায় অ্যালপার্ট কাস্ত্রোকে সরাসরি সব ধরনের প্রশ্ন করছেন এবং কাস্ত্রো এ সরাসরি প্রশ্ন করার ধারাটি নিয়ে তাকে ব্যঙ্গ করছেন কখনো। বিষয়টি কখনো কখনো রসাত্মক আবার কখনো অবাক করে দেয়। কাস্ত্রোর সঙ্গে অ্যালপার্টের যোগাযোগ পরে কমে যায়। ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলে কিউবার অবস্থা ক্রমে খারাপ হয়ে ওঠে।
১১৪ মিনিটের তথ্যচিত্রের শেষ দিকে বিষয়টির দিকে মন দিয়েছেন পরিচালক। দুরবস্থার সময়ে অনেক কিউবার অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটের সঙ্গে লড়াই করে নিজের দেশে টিকে ছিলেন। অন্যরা আমেরিকায় অভিবাসী হন। অ্যালপার্ট কিউবার প্রতি সহানুভূতিশীল, সেজন্য এর সমস্যাগুলো এড়িয়ে যান না। অবশ্য কাস্ত্রোর সমালোচনা করার ব্যাপারে তাকে খানিকটা অনিচ্ছুক মনে হয়। নেতার একনায়কতান্ত্রিক বেশকিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি নীরব। কিন্তু পশ্চিমাবিশ্ব এড়িয়ে যায় এমন কিছু বিষয় তিনি দেখেছেন, যেমন তার মতে, কিউবায় থেকে যাওয়া জনগণ বিশ্বাস করত আমেরিকান প্রভাব বলয়ের বাইরেও একটা রাষ্ট্র হতে পারে।
অ্যালপার্টের বর্ণনার বিষয় বেশ বিস্তৃত। এখানে অনুসন্ধিত্সু ও সাধারণ দর্শক তাদের দেখার মতো বিষয় পাবেন। তিনি যেমন হতাশা খুঁজে পেয়েছেন, তেমনি দেখেছেন সেখানকার মানুষ এখনো সংবেদনশীল। এখানে অ্যালপার্টের গল্পে কিউবাকে খুঁজে পাওয়া যায়, কেননা তিনি বারবার দুই কৃষক ভাইয়ের গল্প বলেছেন, যাদের জীবনের কঠিন বাস্তবতা কিউবার রূপক হয়ে ওঠে।
সূত্র: স্ক্রল ডট ইন










