জওয়ান-ঝড় দিয়ে শাহরুখ খান একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চলেছেন। হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে এমন তোলপাড় অনেকদিন হয়নি। বাহুবলী যদিও দক্ষিণের সিনেমা, কিন্তু হিন্দিতে মুক্তি পাওয়ার কারণে প্রথম সপ্তাহে ভালো ব্যবসা করেছিল এসএস রাজামৌলির এ সিনেমা। এরপর পাঠান এসে বছরের শুরুতে তোলপাড় করেছিল বক্স অফিস। এবার নিজের সিনেমা পাঠানকে টপকে শাহরুখ খান গড়ছেন নতুন ইতিহাস। প্রথম সপ্তাহে বলিউডের সেরা সূচনা দিল অ্যাটলি কুমার পরিচালিত ‘‌জওয়ান’। পাঁচদিনে সারা বিশ্ব থেকে সিনেমাটি তুলে নিয়েছে ৫৫০ কোটি রুপি। এর মধ্য দিয়ে বলিউড সিনেমার বক্স অফিসের ইতিহাস নতুন করে লেখা হলো। 

বলিউড ধুঁকছিল কয়েক বছর ধরে। দক্ষিণী সিনেমার রিমেক করে নিজস্বতা হারিয়ে ফেলা বলিউড যেন মুখ থুবড়েই পড়েছিল। সে জায়গা থেকে ইন্ডাস্ট্রিকে নতুন করে জাগিয়েছিল পাঠান। জানুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া শাহরুখ অভিনীত এ সিনেমা 

বক্স অফিসকে চাঙ্গা করেছিল। ধারণা করা হয়েছিল শাহরুখের বৃহত্তম ব্লকবাস্টার হচ্ছে পাঠান। কিন্তু নিজের সে রেকর্ড ভাঙলেন শাহরুখ। পাঠানের তুলনায় দ্রুত ও বেশি আয় করছে জওয়ান। এরই মধ্যে বছরের তৃতীয় সিনেমা হিসেবে ভারত থেকে ৩০০ কোটি রুপি আয় করেছে অ্যাটলি কুমার পরিচালিত এ সিনেমা। অন্য দুটি সিনেমার একটি পাঠান ও অন্যটি গদর টু। জওয়ানের পঞ্চম দিন ছিল সোমবার। কর্মদিবস থাকা সত্ত্বেও এদিন সিনেমাটি ভারতে আয় করেছে ৩০ কোটি রুপি। সচনিল্ক এ তথ্য দিয়েছে। সোমবার এ আয়ের মাধ্যমে ভারত থেকে সিনেমাটির আয় দাঁড়ায় ৩১৬ কোটি ১৬ লাখ রুপি। এর আগে চতুর্থ দিন অর্থাৎ রোববার বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আয় দেখেছে বক্স অফিস। সিনেমাটি মুক্তির প্রথম রোববার আয় করেছে ৮০ কোটি ১০ লাখ রুপি। এদিন হিন্দি সংস্করণ থেকে এসেছে ৭১ কোটি ৯৩ লাখ রুপি। তামিল ও তেলেগু সংস্করণ থেকে আয় হয়েছে যথাক্রমে ৫ কোটি ও ৩ কোটি ৪৭ লাখ রুপি।

গতকালও সিনেমাটি এর সাফল্যের ধারা ধরে রেখেছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এর অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়েছিল সাড়ে ৬ কোটি রুপির। বক্স অফিস ধারণা করছে, প্রায় তিন লাখের বেশি টিকিট বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সে হিসাবে ষষ্ঠ দিন জওয়ানের মোট আয় হতে পারে ২৫ কোটি রুপির বেশি। অতিমারী-পরবর্তী সময়ে হিন্দি সিনেমার জন্য বড় অংক বললে ভুল হবে না। এখন দেখার বিষয় সিনেমাটি ১ হাজার কোটি রুপির ক্লাবে কত দিনে ঢোকে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে