বাজ লুরম্যানের সিনেমা এলভিস। এরপর আর বলার প্রয়োজন নেই সিনেমার গল্পটি কী। কিংবদন্তি গায়ক, অভিনেতার জীবন অবলম্বনে নির্মিত এ সিনেমা। এলভিসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন অস্টিন বাটলার। এ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য মনোনীত হয়েছেন অস্কারের সেরা অভিনেতা বিভাগে। এর বাইরে নানা প্রশংসা তো আছেই। সিনেমায় টম হ্যাংকসের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন তিনি। ৩১ বছর বয়সী এ অভিনেতা এলভিসে অভিনয় করার আগে বিভিন্ন শোয়ে অভিনয় করেছেন। এলভিস যেন তার জীবনকেই বদলে দিল। এ নিয়ে অস্টিনের অকপট স্বীকারোক্তি, তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। ভ্যারাইটির সঙ্গে কথোপকথনে এলভিস নিয়ে তার অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার ভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মত উঠে এসেছে।
এলভিসের জন্য অডিশন চলেছিল প্রায় পাঁচ মাস ধরে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, সাধারণত অভিনেতার হতাশ হওয়ার মতো অবস্থা হয়ে যায়। অস্টিনের তা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম, বাজ (লুরম্যান) শুধু অডিশন নেন না, রীতিমতো ওয়ার্কশপ করেন। তার পদ্ধতিটা জানা ছিল। তাই অপেক্ষা করতে আমার অসুবিধা হয়নি...। এ সময়ের মধ্যে আমি অনেক কিছু শিখেছি। স্ক্রিন টেস্টের দিন আমার যে অংশে অভিনয় করার কথা, তিনি সবটা বদলে নতুন একটা পরিস্থিতি দিলেন। আবার এটার জন্য প্রস্তুত হওয়ার পর তিনি বললেন, এ অংশের জন্য আরেকজন অপেক্ষা করছে। তখন মনে হয়েছিল চরিত্রটা আমি আর পাচ্ছি না। কিন্তু তারপর আমি দেখলাম, কেউ যদি ঠিকমতো প্রস্তুতি নেয়, বাজ তা বুঝতে পারেন।’
অস্টিন নানা সময়ই অডিশনে বাদ পড়েছেন। এমন সময় তার কেমন লাগে, সে কথা জানতে চাইলে এ অভিনেতা বলেন, ‘এমন ঘটনা ঘটতেই পারে। প্রত্যাখ্যানকে সহজভাবে নেয়ার চেষ্টা করি। আজ না হলেও আমার প্রিয় নির্মাতার সঙ্গে পাঁচ মাস পরে কাজ করতে পারব।’ বিষয়টি খুব ইতিবাচক তাতে সন্দেহ নেই। মূলত বাটলার তার পুরো ক্যারিয়ারে নানা সময় এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। ফলে তার মধ্যে একটি নিজস্ব ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি ফিলিপ সেমুর হফম্যানের একটি কথার উদাহরণ টেনে বলেন, ‘অডিশনকে কাজ পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে না ভেবে অভিনয়ের সুযোগ ভাবলে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।’
অভিনয়ে ক্যারিয়ার শুরু করার পর থেকেই নানা সময় প্রত্যাখ্যানের শিকার হয়েছেন। কিন্তু এরই মধ্যে অভিনয় করেছেন টারান্টিনোর মতো পরিচালকের সিনেমায়। এলভিসের আগে টারান্টিনোর ‘ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন হলিউড’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। টারান্টিনোর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি একটা সময় পাল্প ফিকশনের চিত্রনাট্য প্রিন্ট করে সেটা পড়তাম। তখন আমি ছোট। এরপর মায়ের সঙ্গে অভিনয়ের ক্লাসে অডিশন দিতে যেতাম...। কোয়েন্টিন একটা অডিশন ১০ মিনিটের বেশি নেন না। আর রেকর্ডও করেন না। তিনি শুধু আপনার দিকে তাকিয়ে থাকবেন। তাতেই বুঝবেন অভিনেতাকে দিয়ে কী হবে। আমি সেদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলাম। আমার আরো দুটো মিটিং ছিল, কিন্তু যেতে পারিনি। ফোনও ছিল না সঙ্গে। আমার এজেন্ট রীতিমতো দুশ্চিন্তায় ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোয়েন্টিন জানান, আমি চরিত্রটা পাচ্ছি এবং তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরেন।’
অস্টিনকে নিয়ে দর্শকের কিছুটা সন্দেহ ছিল। সেটি হলো তিনি এলভিসের চরিত্রটা ঠিক ফুটিয়ে তুলতে পারবেন তো। তখনো অভিনেতা হিসেবে অস্টিনের এত দিনের প্রস্তুতির কথা বাইরে আসেনি। কিন্তু সিনেমা মুক্তির পরই বোঝা গেল অস্টিন একজন পরিণত অভিনেতা। ছবিটি দেখে অনেকেই বলেছেন যেন এলভিসকে পর্দায় দেখা যাচ্ছে। এর বাইরে অস্টিন নিজেই বলেছেন, তার অভিনয় দেখে এলভিস প্রিসলির স্ত্রী দারুণ খুশি হয়েছেন। আর বক্স অফিসে সিনেমাটি আয় করেছে প্রায় ৩০ কোটি ডলার।
সিনেমা নিয়ে অস্টিন খুবই সিরিয়াস একজন মানুষ। সিনেমা নয়, তিনি তার অভিনয় নিয়ে সিরিয়াস। সেখানে ছাড় দিতে চান না। অভিনয় নিয়ে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি শিখেছেন তার সিনিয়র অভিনেতাদের কাছ থেকেও। এলভিসে সহঅভিনেতা টম হ্যাংসের কাছ থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন। অস্টিন বাদে এ সিনেমায় দর্শকের মনোযোগ কেড়ে নেন টম। প্রিয় অভিনেতা বা যাদের কাছ থেকে উৎসাহ, প্রশংসা পেয়েছেন এমন নামের সংখ্যা এত বেশি যে অস্টিনের ভাষায়, ‘অনেক নাম নিতে হবে।’ তবে তিনি রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের সঙ্গে একটি সাক্ষাতের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘গভর্নর অ্যাওয়ার্ডসের রেড কার্পেটে ছবি তোলার সময় রবার্ট ডাউনি জুনিয়র ফটোগ্রাফারদের কাছে এগিয়ে গিয়ে বললেন, ‘আমি দেখব এ কাজটা অস্টিন কেমন করে।" আমি ছবি তুললাম। তারপর আমি বললাম, এবার আপনার পালা। তো আমরা দুজনেই সেরা ছবিটা তোলার চেষ্টা করেছি।’
ভ্যারাইটি অবলম্বনে মাহমুদুর রহমান










