ভারতের ৬৯তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল অনেক আগেই। এবার পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে তা তুলে দেয়া হলো। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে একটি অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার দেয়া হয়। ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন বিজেতারা। এর মধ্যে ছিলেন আলিয়া ভাট, কৃতি শ্যানন, আল্লু অর্জুন, শ্রেয়া ঘোষাল, ওয়াহিদা রেহমান, এসএস রাজামৌলি, আর মাধবন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে নজর কেড়েছেন আলিয়া ভাট ও রণবীর কাপুর। দুজনে তারা একসঙ্গেই উপস্থিত হয়েছিলেন অনুষ্ঠানে। বলিউডের এ দম্পতিকে নিয়ে মিডিয়া দারুণ আগ্রহী। স্বভাবতই তাদের ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা নিয়ে ছুটছিলেন সাংবাদিকরা। পাশাপাশি আলিয়ার শাড়িও নজর কেড়েছিল। কেননা তিনি বিয়ের শাড়িটি পরে এসেছিলেন।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অন্যান্য অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের তুলনায় আলাদা। রাষ্ট্রীয় আয়োজন হওয়ার কারণে এখানে সবাই উপস্থিত হন আনুষ্ঠানিক পোশাকে। আলিয়ার মতোই প্রায় সাদামাটা পোশাকে এসেছিলেন কৃতি শ্যানন। তার পরনে ছিল অফ হোয়াইট শাড়ি। আলিয়া, কৃতি ও আল্লুর পোশাকের রঙ ছিল কাছাকাছি। সে কারণেই হয়তো তিনজন এ নিয়ে মজা করছিলেন। মূল অনুষ্ঠানের বাইরে ছবি তুলেছেন তিনজন। এছাড়া কৃতিকে দেখা যায় আল্লু অর্জুনের সঙ্গে পুষ্পার একটি পোজ দিতে।

কৃতি তার ইনস্টাগ্রামে এ ছবিগুলো পোস্ট করেছেন। ‘‌মিমি’ সিনেমার জন্য তিনি আলিয়া ভাটের সঙ্গে যৌথভাবে সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন। পুরস্কার পাওয়ার পর মা-বাবার সঙ্গে সে খুশি ভাগ করে নিয়েছেন কৃতি। বাবা-মায়ের সঙ্গে তোলা ছবিও আপলোড করেছেন ইনস্টাগ্রামে।

এদিকে আলিয়া ভাট পুরস্কার পেয়েছেন গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়িতে তার অভিনয়ের জন্য। সময়টা খুবই ভালো যাচ্ছে আলিয়ার। বেশকিছু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি এ বছর। রণবীরের সঙ্গে সংসারও করছেন চুটিয়ে। আগামী ডিসেম্বরে মুক্তি পাচ্ছে রণবীরের নতুন সিনেমা ‘‌অ্যানিমল’।

অনুষ্ঠানে রণবীরের উপস্থিতিও নজর কেড়েছে অনেকের। পাশাপাশি নিজের কর্মকাণ্ড দিয়েও আলোচনায় এসেছেন এ অভিনেতা। গাড়ি থেকে নেমে তিনি আলিয়ার পাশে তেমন একটা দাঁড়াচ্ছিলেন না। গলাবন্ধ কালো কোট ও সব্যসাচীর শাড়িতে আলিয়া-রণবীর জুটিকে ক্যামেরায় ধরতে যে চেষ্টা চলছিল, তাকেই বিরক্ত করতে রণবীরের এ প্রচেষ্টা হয়তো। পাশাপাশি তাকে দেখা গেছে ওয়াহিদা রেহমানের পাশে। রণবীর এ বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর পাশে ছিলেন রক্ষকের মতো। ফটো সাংবাদিকদের তিনি সাবধানে কাজ করার কথা বলেন।

ওয়াহিদা রেহমান এবার ভূষিত হয়েছেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে। তিনি সিনেমায় অবদানের জন্য ভারতীয় সিনেমার সর্বোচ্চ এ পুরস্কার লাভ করলেন। পুরস্কার প্রদানের আগে হলরুমে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানান। ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ওয়াহিদা রেহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘‌ওয়াহিদা রেহমানের হাতে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার তুলে দিতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি তাকে অভিনন্দন জানাই। তিনি তার প্রতিভার বলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি তার নিজের জীবনেও একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন।’

ওয়াহিদা রেহমান তার অনভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘‌আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি এ পুরস্কার পেয়ে। আমি আজ যেখানে এসেছি, তা আমার ইন্ডাস্ট্রির কারণে।’ ইন্ডাস্ট্রি, পরিচালক ও নির্মাতাদের পাশাপাশি তিনি ধন্যবাদ দিয়েছেন মেকআপ আর্টিস্ট, হেয়ার ড্রেসার থেকে শুরু করে সেই সব মানুষকে, যাদের গৌণ মনে করা হয়। ওয়াহিদা তাদের মুখ্য করে তুলে ধরেছেন।

পুরস্কার গ্রহণ করেছেন এসএস রাজামৌলি, এমএম কিরাবানী, আর মাধবন, করণ জোহর, বিবেক অগ্নিহোত্রী, শ্রেয়া ঘোষাল প্রমুখ।

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস