ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শন হলো ‘‌প্রিসিলা’। সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে এলভিস প্রিসলির স্ত্রী প্রিসিলার জীবন অবলম্বনে। প্রিসিলার নির্মাতা ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলার কন্যা সোফিয়া কপোলা। সিনেমার প্রেস কনফারেন্সে ছিলেন না প্রিসিলা। তবে উপস্থিত ছিলেন দর্শক আসনে। যখন জানতে চাওয়া হলো সিনেমাটি দেখে তার কেমন লাগল, তখন দর্শক সারি থেকেই উত্তর দেন তিনি। প্রিসিলা বলেন, ‘‌নিজের জীবন পর্দায় দেখার ব্যাপারটা সহজ নয়। সোফিয়া অসাধারণ একটি কাজ করেছেন।’ প্রিসিলা এসব কথা বলার সময় তার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছিল। তিনি বলেন, ‘সোফিয়া হোমওয়ার্ক করেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার কথা বলেছি। আমি চেষ্টা করেছি যতটা সম্ভব তাকে তথ্য দেয়ার।’ 

এ সিনেমার গল্পে এলভিস প্রিসলির সঙ্গে প্রিসিলার সম্পর্কের গল্পটা যথাসাধ্য বলা হয়েছে। এর মধ্যে তাদের প্রথম সাক্ষাৎ থেকে সম্পর্কের পুরো সময়ের চিত্রটা দেখানোর চেষ্টা করেছেন সোফিয়া। সিনেমায় প্রিসিলা প্রিসলি চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্যালি স্প্যানি ও এলভিসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যাকব এরল্ডি। প্রিসিলার সঙ্গে এলভিসের যখন সম্পর্ক শুরু হয় তখন প্রিসিলার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। এ নিয়ে একটি কথা প্রচলিত আছে যে এলভিস প্রিসিলার অল্প বয়সের সুযোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের প্রেস কনফারেন্সে প্রিসিলা জানালেন, এলভিস কখনো তার কম বয়সের সুযোগ নেননি।

সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে প্রিসিলার পরিবারও সন্দেহের মধ্যে ছিল। তারা বুঝতে চাইছিলেন এলভিস কেন তাদের মেয়ের প্রেমে পড়ল। এ নিয়ে প্রিসিলা বলেন, ‘‌আমার বাবা-মার বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল সে কেন আমার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। আমার মনে হয়, আমি একজন ভালো শ্রোতা। এলভিস আমাকে তার মনের সব কথা বলত। তার ভয়, তার আশা থেকে শুরু করে মাকে হারানোর কথা, সব। এটা কখনো বন্ধ হয়নি। আমি সেই মানুষ, যে বসে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সেসব কথা শুনতাম। আমার মনে হয়, আমি বয়সের তুলনায় পরিণত ছিলাম।’

প্রথম দিকে এ সম্পর্কের কথা গোপন রেখেছিলেন প্রিসিলা। তিনি অনেকদিন পর তা প্রকাশ করেছিলেন। এ নিয়ে প্রিসিলা বলেন, ‘সে আমাকে কেন এত বিশ্বাস করত আমি জানি না। তবে পুরো বিষয়টি আমি লুকিয়ে রেখেছিলাম।’

বাজ লুরম্যানের এলভিস অনেক বিষয় এড়িয়ে গেছে মনে করেন সোফিয়া কপোলা। সে কারণেই তিনি প্রিসিলাকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করেছেন। এদিকে সোফিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌আমার মনে আছে, একটা সময় নিজের থেকে বেশি বয়সের এক রকস্টারের প্রেমে পড়েছিলাম। সেখান থেকে আমি সোফিয়ার মনোভাব বুঝতে পারি। সিনেমা নির্মাণেও আমি একই দৃষ্টিকোণ রেখেছি।’

সূত্র: ভ্যারাইটি