নতুন বছরের শুরুতেই অরিজিনাল সিরিজ নিয়ে আসছে দেশের জনপ্রিয় ওটিটি প্লাটফর্ম চরকি। ২০২৬ সালের প্রথম কনটেন্ট হিসেবে প্লাটফর্মটি মুক্তি দিচ্ছে পারিবারিক গল্পনির্ভর সিরিজ ‘আঁতকা’। সিরিজটি মুক্তি পাবে ১৪ জানুয়ারি রাত ১২টায়, অর্থাৎ ১৫ জানুয়ারি থেকে দর্শক এটি দেখতে পাবে চরকিতে।
নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের নিয়ে নির্মিত এ সিরিজের গল্প আবর্তিত হয়েছে একটি পরিবারকে ঘিরে। পারিবারিক আবহের মধ্যেই রয়েছে নানা টুইস্ট, ফান আর হালকা হররের ছোঁয়া। সিরিজটির গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন রাবা খান। পরিচালনা করেছেন আরাফাত মহসীন নিধি। গল্পকার ও নির্মাতা হিসেবে এটি রাবা ও নিধির প্রথম সিরিজ।
‘আঁতকা’ শব্দটির অর্থ কী—এ বিষয়ে রাবা খান ও নিধি জানান, এটি একটি লোকাল শব্দ, যার অর্থ আচমকা। নাম চূড়ান্ত হওয়ার গল্প বলতে গিয়ে রাবা বলেন, ‘সিরিজের নাম নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কথাবার্তার মধ্যেই আঁতকা শব্দটি উঠে আসে। শব্দটি তাদের কাছে খুব পরিচিত মনে হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এটিকেই সিরিজের নাম হিসেবে ঠিক করা হয়।’
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে শিল্পীরা জানান নানা মজার কথা। সাবেরী আলম বলেন, ‘পুরো কাজটাই ছিল দারুণ অভিজ্ঞতা।’ রোজী সিদ্দিকীর মতে, এটি একটি ফ্যামিলি ড্রামা, আর আবুল হায়াত এক কথায় একে বলেছেন ‘ফ্যামিলি ফান’। সুনেরাহ বিনতে কামাল জানান, সিরিজটি করতে গিয়ে দারুণ মজা পেয়েছেন।

শুটিংয়ের মজার ঘটনার কথা বলতে গিয়ে সাবেরী আলম জানান, একটি দৃশ্যে অভিনেতা তুষার খান ভুল করে ভেবেছিলেন তিনি তার স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করছেন, অথচ তিনি ছিলেন বড় ভাইয়ের স্ত্রীর চরিত্রে। বিষয়টি বুঝতে পেরে সেটে সবাই হেসে ফেলেন। এ প্রসঙ্গে আবুল হায়াত মজার ছলে বলেন, ‘নাটকে তুষার খান সাধারণত স্ত্রী পায় না, তাই এখানে পেয়ে কনফিউজড হয়ে গেছে।’
রোজী সিদ্দিকী বলেন, ‘অনেক দিন পর পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। সেটে এত হাসাহাসি হতো যে অনেক সময় নির্মাতাকে শুটিং থামিয়ে দিতে হতো। ছোটদের সঙ্গে কাজ করে তিনি বুঝেছেন, বড়রাও কতটা ফানি হতে পারে।’
নবীন-প্রবীণদের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে আবুল হায়াত বলেন, ‘অভিনয় করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুনদের সঙ্গে কাজ করা আরো কঠিন, কারণ তারা অনেক ভালো অভিনয় করে।’ আরশ খান জানান, আবুল হায়াতের সঙ্গে প্রথম দৃশ্যটাই ছিল তার জন্য সবচেয়ে বড় চাপ। আগের রাতে টেনশনে তার জ্বরও চলে এসেছিল।
ফারিহা রহমান জানান, একটি ইমোশনাল দৃশ্যে তিনি সত্যিই কেঁদে ফেলেছিলেন, তবে সেটা চরিত্রের কারণে নয়, বরং এত গুণী শিল্পীদের সামনে অভিনয় করতে গিয়ে ভয় থেকেই কান্না চলে এসেছিল।
গল্পের ধরন নিয়ে নির্মাতারা জানান, ২০২৩ সালে আঁতকার ভাবনা আসে। শুরুতে এটি শুধু ফ্যামিলি ড্রামা হিসেবে ভাবা হলেও পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় হরর কমেডির উপাদান। ২০২৪ সালের শেষে চূড়ান্ত চিত্রনাট্য তৈরি হয় এবং চরকির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর বাকি কাজ শেষ করা হয়।
চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘নতুন বছরের প্রথম কনটেন্ট হিসেবে দর্শকের জন্য পারিবারিক গল্পের সঙ্গে ফান ও হালকা হররের অনুভূতি দিতে চেয়েছে চরকি।’ তার আশা, দর্শক খুব সহজেই গল্পটির সঙ্গে সংযোগ অনুভব করবে।
নির্মাতা আরাফাত মহসীন নিধি জানান, তার ইচ্ছা ছিল মাল্টি কাস্টিং নিয়ে কাজ করার। ছোটবেলায় যেসব শিল্পীকে নিয়মিত দেখেছেন, তাদের আবার একসঙ্গে পর্দায় আনতেই এ আয়োজন। সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো যাদের তিনি চেয়েছিলেন, সবাই কাজটিতে সম্মতি দিয়েছেন।
আঁতকা সিরিজে আরো অভিনয় করেছেন মুকুল সিরাজ, সুমন আনোয়ার, তন্ময় পারভেজ, দুর্জয়, আলিফ খান, ফারদীন খান, ফাহাদ রিয়াজ খান, ডালিয়া ও আবু নায়েম।










