জেমস ক্যামেরনের রোমান্টিক মহাকাব্য টাইটানিক আবার পাল তুলেছে। শুক্রবার থিয়েটারে নতুনভাবে মুক্তি পেয়ে রোববার শেষ হতে হতে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করতে পারে জেমস ক্যামেরনের এ মাস্টারপিস। টাইটানিক মুক্তির ২৫তম বার্ষিকীতে এর থ্রিডি সংস্করণ মুক্তি দেয়া হয়েছে।

ক্যামেরনের সর্বশেষ সিনেমা অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার এখন বক্স অফিস শাসন করছে। সিনেমাটি টাইটানিকের ২১৯ দশমিক ৪ কোটি ডলারেরও বেশি বক্স অফিসের আয়কে অনুসরণ করছে। আর এখন ক্যামেরনের দুটো সিনেমাই বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসের চার্টে সর্বকালের সেরা তিনের তালিকায় থাকার জন্য প্রতিযোগিতা করছে। দ্য ওয়ে অব ওয়াটার এর মধ্যেই টাইটানিকের আন্তর্জাতিক বক্স অফিস আয়কে অতিক্রম করেছে। উত্তর আমেরিকা বক্স অফিসের ক্ষেত্রে টাইটানিকের চেয়ে মাত্র ১ কোটি ডলার পিছিয়ে আছে অ্যাভাটার সিকুয়াল। এর আগে ২০১২ সালেও টাইটানিক মুক্তি পেয়েছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমাটি প্রায় ৬ কোটি ডলারের বেশি ব্যবসা করেছিল। ২০১২ সালে টাইটানিক সিনেমা বৈশ্বিক বক্স অফিসে ৩৫ কোটি ডলার আয় করেছিল। এবারের টাইটানিকের নতুন মুক্তি আরো ব্যবসাসফল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। 

টাইটানিকের সঙ্গে একই দিনে মুক্তি পেয়েছে কমেডি-ড্রামা ঘরানার সিনেমা ম্যাজিক মাইকস লাস্ট ড্যান্স। এটি প্রথমে এইচবিও ম্যাক্স এক্সক্লুসিভের জন্য নির্মিত হলেও শেষ পর্যন্ত থিয়েটারে মুক্তি দেয়া হয়। ভ্যালেন্টাইন ডেতে এ দুটি সিনেমা যুগলদের আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকবে। দিবসটি ঘিরে সিনেমা দুটির মধ্যে ভালো প্রতিযোগিতা হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে সামগ্রিক বিবেচনায় টাইটানিক অ্যাভাটার সিকুয়ালের চেয়ে অনেক এগিয়ে। ১৯৯৭ সালে টাইটানিকের প্রথম মুক্তির বছরে টিকিটের মূল্য ছিল ৪ দশমিক ৬৯ ডলার। বর্তমানে টিকিটের গড় মূল্য অন্তত আড়াই গুণ বেশি। টাইটানিকের ঝুলিতে এমন সব অর্জন আছে, যা হলিউডের আর কোনো সিনেমার পক্ষে অর্জন সম্ভব নয়। এমনকি ক্যামেরনের কোনো সিনেমাও টাইটানিকের রেকর্ড অতিক্রম করতে পারবে না। প্রথম মুক্তির পর টাইটানিক ১৫ সপ্তাহ ধরে বক্স অফিসে শীর্ষে ছিল। এর আগে কিংবা পরে আর কোনো সিনেমা এমন সাফল্য দেখাতে পারেনি। দ্য ওয়ে অব ওয়াটার এর নবম সপ্তাহে প্রবেশ করছে। এ সপ্তাহে সিনেমাটির ১ কোটি ডলারের মতো আয়ের সম্ভাবনা আছে। অথচ টাইটানিক এর নবম সপ্তাহে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার আয় করেছিল। বর্তমান হিসাবে তা ৭ কোটি ডলার। 

সূত্র: ইন্ডিওয়্যার