দীর্ঘ অপেক্ষার পর মুক্তি পেল ধানুশের ৫০তম সিনেমা ‘রায়ান’। তামিল সিনেমাটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্য লেখা ও পরিচালনার কাজটিও করেছেন তিনি। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন এসজে সুরিয়া, প্রকাশ রাজ ও সন্দ্বীপ কিশান। ৫০তম সিনেমায় পা রেখে ধানুশ স্থাপন করলেন নতুন নজির। রায়ানের নাম যুক্ত হলো তার ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ আয়ের ওপেনিং ডে তকমা নিয়ে। প্রথম দিনেই সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৫০ লাখ রুপি।
চলচ্চিত্র পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান স্যাকনিল্কের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রথম দিনে কেবল তামিল সংস্করণ থেকেই রায়ণের আয় হয়েছে ১১ কেটি রুপি। তেলেগু সংস্করণ থেকে আয় ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি। রায়ান মুক্তির আগে ধানুশের সবচেয়ে বেশি আয়ের ওপেনিং ছিল কারনান সিনেমা দিয়ে; ২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি ১০ কোটি ৪০ লাখ রুপি আয় করেছিল প্রথম দিনে।
রায়ণ মুক্তির পর সবচেয়ে বেশি দর্শকের উপস্থিতি দেখা গেছে চেন্নাইয়ে; ঠিক পেছনেই রয়েছে পন্ডীচেরি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও দিল্লি। হিন্দিভাষী অঞ্চলগুলোতেও ভালো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে পুনে, লক্ষ্ণৌ, জয়পুর, চণ্ডিগড়ে বাড়ছে ভিড়। সিনেমার গল্পটা মূলত আবর্তিত হয়েছে ফাস্টফুট রেস্টুরেন্টের এক মালিককে কেন্দ্র করে; যিনি গ্যাংস্টারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সিনেমায় রায়ান ও দুর্গার মধ্যকার ঘটনাকে পৌরাণিক রাবণ ও শূর্পণখার সম্পর্কের সমান্তরালে এগিয়ে নেয়া হয়েছে।
গত বছরের জানুয়ারিতে সিনেমাটি সম্পর্কে প্রথম ঘোষণা দেয়া হয়। সিনেমার শিরোনাম ছিল ‘ডি-৫০’, যা ধানুশের ৫০তম সিনেমা হিসেবে চিহ্নিত। ৫০তম সিনেমায় আসা পর্যন্ত ধানুশের সফলতা কম নয়। এর মধ্যে চারটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তুলেছেন ঝুলিতে। দুটি সেরা অভিনেতা বিভাগে আর দুটি প্রযোজনার জন্য। পেয়েছেন আটটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড সাউথ ও একটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। তাছাড়া ফোর্বস ইন্ডিয়ার সেরা ১০০ তারকার তালিকায় ছয়বার উঠেছে তার নাম।
ধানুশের প্রথম সিনেমা ছিল ২০০২ সালের থুল্লুভাধো ইলামি। ক্রমে পোল্লাধাভান, ইয়ারাদি নি মোহিনির মতো সিনেমার সফলতা রুপালি দুনিয়ায় তার আসন পোক্ত করে। তার হাত ধরে আসতে থাকে একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা। ২০১৩ সালে ‘রঞ্ঝনা’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে পা রাখেন বলিউডে, যা তাকে ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড এনে দেয়। পরিচালক হিসেবে তার হাতেখড়ি ২০১৭ সালের পা পান্দি সিনেমা দিয়ে। গড়ে তুলেছেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান উন্ডারবার ফিল্মস। এখানেই সীমায়িত নয় তার কর্মযজ্ঞ। সংগীতেও তৈরি করেছেন স্বতন্ত্র পরিচয়। ২০১১ সালে তার হোয়াই দিজ কোলাবেরি ডি গানটি প্রথম ভারতীয় সংগীত হিসেবে ১০ কোটি ভিউর মাইলফলক অতিক্রম করে ইউটিউবে। তার ‘রাউডি বেবি’ গানটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দেখা ভারতীয় গানের একটি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস










