হলিউডে সুনাম কুড়িয়েছেন গ্যারি ওল্ডম্যান। মেথড অ্যাক্টিংয়ে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন বহু অভিনেতাকে। চরিত্রের প্রয়োজনে শারীরিক গড়ন বদলাতে জুড়ি নেই তার। কখনো টিংটিঙে শুকনো আবার কখনো ভারী শরীর তৈরি করেছেন। ২০১৭ সালে তিনি অভিনয় করেছিলেন ‘ডার্কেস্ট আওয়ার’ সিনেমায় উইনস্টন চার্চিলের চরিত্রে। আর এ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে অস্কার পেয়েছিলেন তিনি। সে অভিনেতা এবার তার ক্যারিয়ারের জন্য ধন্যবাদ দিলেন হ্যারি পটার ও ব্যাটম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। হ্যারি পটারে সাইরিয়াস ব্ল্যাক ও ব্যাটম্যানে তিনি অভিনয় করেছিলেন জেমস গর্ডন চরিত্রে। গ্যারি জানান, সিনেমায় তার ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তি জীবনকেও প্রভাবিত করেছিল চরিত্র দুটো।
সম্প্রতি ‘দ্য ড্রিউ ব্যারিমোরের শো’-এ অংশ নেন গ্যারি। সেখানে তিনি বলেন, ‘৪২ বছর বয়সে একদিন ঘুম থেকে উঠে জানলাম আমার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। আর আমি আমার ছেলেদের কাস্টডি পেয়েছি। আমার জন্য এটা বেশ বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, কারণ তখনকার অনেক সিনেমা দূরের দেশে শুট হচ্ছিল। ছেলেদের দেখাশোনার ব্যাপার ছিল। আমাকে থাকতে হয়েছিল তাদের কাছে। সে কারণে অনেক কাজ তখন ছেড়ে দিয়েছি।’
হলিউডে একবার কাজ ছেড়ে দেয়া মানে আরো অনেক কাজের সম্ভাবনা নষ্ট হওয়া। সেখান থেকেই গ্যারি পিছিয়ে পড়েন। এরপর তার ক্যারিয়ার নতুন করে শুরু হয় হ্যারি পটার ও ব্যাটম্যান সিরিজের মাধ্যমে। হ্যারি পটারের তুলনায় অবশ্য ব্যাটম্যানের গর্ডন হিসেবে তিনি বেশি জনপ্রিয় ও প্রশংসিত। সিনেমা দুটি ও তার প্রভাব নিয়ে গ্যারি বলেন, ‘স্রষ্টাকে ধন্যবাদ হ্যারি পটার আর ব্যাটম্যানের জন্য। আপনাকে আমি জানাই এ দুটো সিনেমা আমার জীবন বদলে দিয়েছে। কারণ এ সিনেমা দুটো আমাকে কম কাজ আর তুলনামূলক বেশি অর্থ দিয়েছে। আমি আমার সন্তানদের ভরণপোষণের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাই তখন।’
তবে ক্রিস্টোফার নোলানের ব্যাটম্যান সিরিজের প্রথম সিনেমা ‘ব্যাটম্যান বিগিনস’ করার সময় গ্যারিকে বেশ খাটতে হয়েছে। তাকে বারবার লন্ডন ও লস অ্যাঞ্জেলেস ভ্রমণ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ব্যাটম্যানের প্রথম সিনেমাটি করি, লন্ডনকে সাজানো হয়েছিল গথাম হিসেবে। আমি সে সময় ২৭ বার লন্ডন-লস অ্যাঞ্জেলেস আসা যাওয়া করেছি। একদিনে যেতাম। পরদিন শুট করতাম। নোলানকে ধন্যবাদ। তিনি সময়সূচি মেনে কাজ করতেন। এরপর আমি তিনদিন থাকতাম বাড়ি গিয়ে। আবার একদিনের জন্য লন্ডন গিয়ে শুট করতাম। আমি চাইনি আমার সন্তানরা আয়ার কাছে বেড়ে উঠুক।’
গ্যারির বিরুদ্ধে তার স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন। সে অভিযোগ ২০১৮ সালে তিনি আবার করেন অস্কার কমিটিকে। তিনি বলেছিলেন, অস্কার কমিটি একজন নারী নির্যাতনকারীকে পুরস্কৃত করেছে।
এ ঘটনার পর গ্যারির ছেলে গালিভার একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন। বাবার সম্পর্কে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব মিথ্যা অভিযোগ বারবার তুলে আনার প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট কিছু মানুষ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেই এসব করেছেন।’ এছাড়া তিনি বাবাকে ‘গাইডিং লাইট’ বলে উল্লেখ করেন।
সূত্র: ভ্যারাইটি










