সিডনি সুইনির নতুন সিনেমা ‘ক্রিস্টি’। বক্সিংকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এটি। রিংয়ের ভেতর তিনি সিনেমার বাকি অংশ থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। পরিচালক ডেভিড মিশো বলেছিলেন, ‘লড়াইয়ের দৃশ্যগুলোয় আমার খুব কম ভূমিকা ছিল। ওটা মূলত সুইনি আর স্টান্ট টিমের মধ্যকার বোঝাপড়ার ফল।’ সিডনি নিজে মনে করেন, তিনি এ সিনেমার জন্য মুষ্টিযোদ্ধা ক্রিস্টি মার্টিন হয়ে উঠতে চেয়েছেন।
চরিত্রের জন্য দেড় স্টোনের (প্রায় ১৫ কেজি) মতো ওজন বাড়িয়েছিলেন সিডনি, যাতে বাস্তব মুষ্টিযোদ্ধা ক্রিস্টি মার্টিনের ওজনের (১৩৫-১৩৭ পাউন্ড) কাছাকাছি পৌঁছানো যায়। শুটিং চলাকালীন তিনি সহ-অভিনেতা বেন ফস্টারের সঙ্গে ভাগ করে খেতেন তার ক্যালরিযুক্ত প্রিয় খাবার আনক্রাস্টেবলস—এক ধরনের ছোট হিমায়িত জ্যাম স্যান্ডউইচ।
সুইনি নিজের অভিনয় দেখতে ভালোবাসেন, কিন্তু ফস্টারের কাছে সেটা কষ্টকর। তার মতে, ‘কখনো কখনো ওটা খুব গভীরে দাগ কেটে বসে।’ তাদের পরিচালক মিশো ও সহলেখক মিরাহ ফকস দুজনই অস্ট্রেলিয়ান, শান্ত ও চিন্তাশীল।
যদিও সুইনির দেহের রূপান্তর ও বক্সিং দক্ষতা সবচেয়ে বেশি শিরোনাম কুড়িয়েছে, ক্রিস্টি মূলত এক নির্যাতনমূলক সম্পর্কের গল্প। জিম এমন এক প্রভাবশালী ব্যক্তি, যিনি স্ত্রীর ক্যারিয়ার ও জীবন দুটোই নিয়ন্ত্রণ করেন। মিশোর মতে, ‘এ সিনেমার আকর্ষণ ছিল, কীভাবে এমন সম্পর্কগুলো কাজ করে, তা অন্বেষণ করা।’
সিনেমার ভাবনা আসে যখন মিশোর এক ব্যবসায়িক সহকর্মী জানান, ক্রিস্টি মার্টিনের জীবন নিয়ে সিনেমা বানানোর ক্ষেত্রে কপিরাইট ইস্যু নেই। প্রথমে মিশো জিজ্ঞেস করেন, ‘ক্রিস্টি মার্টিন কে?’ পরে তিনি নেটফ্লিক্সের প্রামাণ্যচিত্র আনটোল্ড: ডিল উইথ দ্য ডেভিল দেখে ক্রিস্টির জীবনের প্রতি আকৃষ্ট হন।
তারপর শুরু হয় অভিনেত্রী খোঁজার প্রক্রিয়া। মিশো বলেন, ‘এ সিনেমার জন্য আমার এমন কাউকে দরকার ছিল, যার জনপ্রিয়তা আছে, বয়স উপযুক্ত, শারীরিকভাবে সক্ষম। সবচেয়ে বড় কথা, যার মধ্যে নিজেকে নতুন করে তৈরির আগ্রহ আছে।’ তিনি বলেন, ‘সুইনির সঙ্গে প্রথম জুম মিটিংয়েই বুঝেছিলাম, ও এ চরিত্র ভীষণভাবে চায়।’
সুইনি প্রথমে ক্রিস্টি মার্টিনকে চিনতেন না। পরে অনেক দিকেই ক্রিস্টির সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পান। তিনি বলেন, ‘রিংয়ের ভেতর ও বাইরে আমাদের দুজনেরই লড়াই আছে। ভুল বোঝাবুঝি, জটিল সম্পর্ক, নিজের পরিচয় খোঁজা—এসব আমারও গল্প।’
সিনেমায় ক্রিস্টির যাত্রা দেখানো হয় এক ছোট শহরের মেয়ের জীবন থেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতির পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত। কিন্তু খ্যাতির সঙ্গে তার ব্যক্তিত্বে আসে ভণ্ডামি ও আত্মবিরোধিতা। তিনি টেলিভিশনে নিজেকে ‘প্রথাগত গৃহিণী’ হিসেবে উপস্থাপন করেন, অথচ ভেতরে ভেতরে নিজের পরিচয়ের সঙ্গে লড়াই চলতে থাকে।
সুইনির নিজের জীবনেও বিতর্কের অভাব নেই। ২০২২ সালে তার মায়ের জন্মদিনের পার্টিতে অতিথিদের ‘মাগা’ ধাঁচের টুপি পরা নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় নিজেকে ঠিক রাখার চেষ্টা করি, কিন্তু মানুষ আমার ওপর তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা চাপায়। আমি যতই নিজের মতো থাকি, অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।’
ফকসের মতে, ক্রিস্টির রূঢ় আচরণ আসে আত্মঘৃণা ও খারাপ প্রভাবের সংমিশ্রণ থেকে। সুইনির দৃষ্টিতে, ‘ক্রিস্টি নারীবাদের বিপক্ষে ছিলেন না, তিনি শুধু কোনো আন্দোলনের মুখপাত্র হতে চাননি। তিনি যা ভালোবাসতেন, সেটাই করতে চেয়েছিলেন।’
শুটিং শেষ হওয়ার সাত সপ্তাহ পরই সুইনি আবার ইউফোরিয়ার তৃতীয় মৌসুমের কাজে ফেরেন। তাই ওজন দ্রুত কমাতে হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘ক্রিস্টি হিসেবে আমি নিজেকে সবচেয়ে শক্তিশালী ও জীবন্ত মনে করেছিলাম।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান










