প্রথম এশীয়-আমেরিকান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রায় অঙ্কিত হতে যাচ্ছেন হলিউড তারকা আনা মে ওয়াং। সোমবার থেকেই তার মুখাবয়ব খচিত কোয়ার্টার মুদ্রা দেখা যাবে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী এশীয়-আমেরিকান অভিনয়শিল্পীদের অংশগ্রহণ ও বহুমাত্রিক ভূমিকা বৃদ্ধিতে আনা মে ওয়াং যে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছেন, তার স্বীকৃতি দিতেই এ উদ্যোগ। বিশেষ ক্ষেত্রগুলোয় অবদান রাখার জন্য আমেরিকান নারীদের নিয়ে কোয়ার্টার সিরিজ উন্মোচন করছে দেশটি। ২০২২ সালের উন্মোচনের ধারাবাহিকতায় পঞ্চম আনা মে ওয়াং।

নির্বাক যুগে হলিউডের শীর্ষ তারকাদের একজন ছিলেন আনা, যিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাস করা চীনা দম্পতির সংসারে ১৯০৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে পা রাখেন অভিনয় জগতে। তার তিন বছর পর ১৯২২ সালে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হন দ্য টল অব দ্য সি সিনেমায়। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। থিফ অব বাগদাদ, পিটার প্যান, ডটার অব দ্য ড্রাগন, অ্যা স্টাডি ইন স্কালেট থেকে জাস্ট জো সব মিলিয়ে ৬০টি সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। নির্বাক যুগের ৪০টি ও সবাক যুগের ২০টি। হলিউড ইতিহাসে যে বড় রকমের বিবর্তন হয়েছে, তার সাক্ষী আনা।

রুপালি পর্দায় বৈষম্যকেও খুব কাছে থেকে দেখেছেন এ অভিনেত্রী। সে সময়ে হলিউড চলচ্চিত্রে চাইনিজদের নিষ্ঠুর, ধ্বংসাত্মক ও ভিলেন হিসেবে উপস্থাপনের একটা

রেওয়াজ ছিল। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের কাছ দেয়া এক সাক্ষাত্কারে ওয়াং তার প্রতিবাদ জানান। সমকালীন অভিনেত্রীদের চেয়ে তার পারিশ্রমিক ছিল অনেক কম। উদাহরণ হিসেবে কেবল সাংহাই এক্সপ্রেস সিনেমার কথাই ধরা যাক। এখানে অভিনয়ের জন্য মার্লিন দিয়েত্রিচ ৭৮ হাজার ১৬৬ ডলার পারিশ্রমিক পান। অথচ সহ-অভিনেত্রী হিসেবে আনা পান মাত্র ৬ হাজার ডলার।

হলিউডের সবচেয়ে সুদর্শনা নারীর একজন বলে গণ্য করা হতো তাকে। অথচ কোনো রোমান্টিক চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্রে নেয়া হয়নি। তার কারণ ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর চুম্বন দৃশ্য প্রদর্শন আমেরিকায় তখন নিষিদ্ধ। হলিউডের এত সীমাবদ্ধতার কারণেই আনা একসময় ইউরোপে চলে যান ক্যারিয়ারের প্রয়োজনে। ইংরেজির পাশাপাশি হাজির হতে থাকেন জার্মান ও ফ্রেঞ্চ চলচ্চিত্রেও। যুক্ত হয় আরো অভিজ্ঞতা। অবশ্য আবার ফেরত আসেন হলিউডে। ১৯৫১ সালে মুক্তি পায় টিভি সিরিজ দ্য গ্যালারি অব মাদামে লিউ-সং। প্রথম এশীয়-আমেরিকান নারী হিসেবে এই প্রথম টিভি সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যায় তাকে।

১৯৬০ সালে তাকে হলিউড ওয়াক অব ফেম-এ স্বীকৃতি দেয়া হয়। এ অর্জনও এশীয়-আমেরিকান হিসেবে প্রথম। এশীয়-আমেরিকান দ্বিতীয় নারী হিসেবে লুসি লিউ হলিউড ওয়াক অব ফেমে জায়গা পেয়েছেন ২০১৯ সালে।

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান