কারো যখন রক্তের তৃষ্ণা পেয়ে বসে তখন আর কিছুতেই তাকে থামানো যায় না। নিজের মনের ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। সে এতটাই ক্ষুব্ধ আচরণ করতে থাকে যে চারপাশে একের পর এক ক্ষতি ডেকে আনে, যতক্ষণ পর্যন্ত নিজে শেষ না হয়ে যায়। কিন্তু কথায় আছে, বিপদ যখন আসে তখন চারদিক থেকেই আসে। রক্তের তৃষ্ণা পেয়ে বসছে একে একে আরো অনেককে।
এমনই গল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কানাডিয়ান চলচ্চিত্র ‘রাবিড’-এর কাহিনী। ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি মূলত ১৯৭৭ সালে নির্মিত একই নামের ভৌতিক জনরার চলচ্চিত্রের রিমেক। এক ধরনের মহামারী ছড়িয়ে পড়ার কারণে একে একে মানুষ অমানুষ হয়ে উঠছে। একে অন্যের রক্তের প্রতি নেশাতুর হয়ে উঠছে। ঠিক যেন তৃষ্ণার্তের সামনে এক জগ পানি রাখার মতো। রাবিড অর্থ যেমন অত্যধিক ক্ষুব্ধ, ঠিক তেমনই এর চরিত্রগুলোও যেন একে একে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে মানবজাতির ওপর।
কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ফ্যাশন ডিজাইনার রোজ নামের একটি চরিত্রকে ঘিরে। নিয়মিত কর্মক্ষেত্রে হেনস্থা হতে হয় তাকে। নিজের ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছে একরকম। এমন সময় একদিন এক মোটরসাইকেল অ্যাকসিডেন্টে বড় ধরনের চোট পায় সে। তার চোয়াল প্রায় গায়েব হয়ে বিশ্রী অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় হাসপাতালের ডাক্তাররা তাকে এক ধরনের পরীক্ষামূলক স্টেম-সেল অপারেশনের কথা জানান। কিন্তু এ অপারেশন বেশ ঝুঁকিপূর্ণও বটে। কোনো উপায়ান্তর না দেখে তাতে রাজি হয়ে যায় রোজ।
সবকিছু ঠিকঠাক চললেও কিছুদিন পর রোজ নিজের ভেতরকার পরিবর্তন উপলব্ধি করতে শুরু করে। তার মধ্যে রক্ত পানের নেশা জাগছে। ঠিক যেমন ভ্যাম্পায়ার বা জম্বিদের হয় তেমন। কিন্তু সে জম্বি হয়ে যায়নি, বরং সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করছে। কিন্তু একদিন নিজের ওপর সে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। একজনের গলায় কামড়ে ধরে রক্ত পান করা শুরু করে দেয়। ব্যস খুলে যায় নরকের দ্বার। এরপর একে একে সবাই পরিণত হচ্ছে জম্বিমতো মানুষে যাদের রক্তের নেশা পেয়ে বসেছে। অমানুষদের হাতে পড়তে যাচ্ছে পৃথিবী। এরই মধ্যে এক চিলতে আশার আলো দেখা যায়, এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে। কিন্তু সেজন্যও চূড়ান্ত মূল্য চুকাতে হবে।
১১০ মিনিট দৈর্ঘ্যের কানাডিয়ান এ ছবিটি পরিচালনা করেছেন জেন সোসকা ও সিলভিয়া সোসকা। আর ১৯৭৭ সালের ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন ডেভিড ক্রোনেনবার্গ। রাবিড ছবিটি প্রথম প্রদর্শিত হয় ২০১৯ সালের ২৬ আগস্ট লন্ডন ফ্রাইটফেস্ট চলচ্চিত্র উৎসবে। ছবিতে প্রধান প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন লরা ভ্যান্ডেরভুর্ট, বেন হলিংসউর্থ ও ফিল ব্রুকস। ছবিটি চলচ্চিত্র সমালোচকদের কাছেও মোটামুটি ভালো সাড়া পায়। তবে ছবিটি খুবই স্বল্প পরিসরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়া হয়।










