ব্রিটনি স্পিয়ার্সের বাবা জেমি স্পিয়ার্স এক দশকেরও বেশি সময় পর মেয়ের বিষয়ে জনসমক্ষে মুখ খুললেন। গত বছর আদালতের দেয়া তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব ছাড়েন তিনি। এর আগে বাবার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন গায়িকা। খবর হলিউড রিপোর্টার।

ডেইলি মেইলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জেমি জানান, আদালতের দেয়া সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। ১৩ বছর তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অভিভাবকত্ব ছাড়া ব্রিটনি বেঁচে থাকতেন কিনা এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশও করেন।

জেমি স্পিয়ার্স বলেন, সবাই আমার সঙ্গে একমত হবে না। একটা সময় পুরো বিষয়টি নরকে পরিণত হয়েছে। তবে আমি আমার মেয়েকে পুরো মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি। আমার অভিভাবকত্ব ছাড়া ব্রিটনি এখন কোথায় থাকত? এবং আমি জানি না সে বেঁচে থাকত কিনা। আমি মনে করি না।

আদালতের দেয়া দায়িত্ব প্রসঙ্গে বলেন, ব্রিটনি ও তার সন্তানদের বাচ্চাদের জন্য এটি রক্ষাকবচ ছিল। আমি মনে করি না যে, এটা ছাড়া সে বাচ্চাদের ফিরে পেত।

গত বছরের নভেম্বরে লস অ্যাঞ্জেলসের একজন বিচারক আধা ঘণ্টারও কম সময়ের শুনানিতে বাবার অধীন থেকে মুক্ত হতে চাওয়া ব্রিটনির আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন। এর আগে বাবার অভিভাবকত্ব ‘অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে বেশকিছু অভিযোগ তোলেন জনপ্রিয় তারকা। এমনকি বেশ আগে শুরু হওয়া ‘#ফ্রিব্রিটনি’ আন্দোলনও জোরদার হয়ে ওঠে।

বর্তমানে স্বামী মডেল স্যাম আসগারির সঙ্গে অ্যাঞ্জেলেসে বসবাস করছেন ব্রিটনি স্পিয়ার্স। গত এপ্রিলে আসগারির সঙ্গে প্রথম সন্তানের ঘোষণা দিলেও পরের মাসে জানান, তার গর্ভপাত হয়েছে।

সাবেক স্বামী কেভিন ফেদারলিনের সঙ্গে ব্রিটনি রয়েছে দুই ছেলে।

জেমি স্পিয়ার্স এখন আরেক মেয়ে লিন স্পিয়ার্সের সঙ্গে লুইজিয়ানার গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন। দুই নাতির অভাব অনুভব করেন জানিয়ে এও বলেন, এমন কিছু বলতে চান না, যাতে মেয়ে মনে ব্যথা পায়।

জেমি স্পিয়ার্স আরো বলেন, তার অধীনে থাকা ব্রিটনিকে আর্থিকভাবে সাহায্য করেছে। কারণ গায়িকা তখন একেবারে ভেঙে পড়েছিল ও তার কাছে কোনো অর্থ ছিল না। তিনি ব্রিটনিকে স্বাভাবিক জীবনের জন্য সক্ষম হতে সাহায্য করেছিলেন।

তবে শুধু ব্রিটনি নয় জেমির বিরুদ্ধে গায়িকার ভক্তসহ অনেকের অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে, জোর করে মানসিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গান ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এর জবাবে জেমি স্পিয়ার্স বলেন, আমি শুধু বলতে পারি যে বেশিরভাগ লোকেরই সত্য সম্পর্কে ধারণা নেই। সত্যটি কী তা ব্রিটনির আইনজীবীরও জানা নেই। মিডিয়া সত্য শোনেনি। তারা শুধু ব্রিটনির অভিযোগ শুনেছে।