তাসমিয়াহ আফরিন মৌ নির্মিত চলচ্চিত্র এর আগে বেশকিছু নামি উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। এবার তার ক্রিয়েটিভ ডকুমেন্টারি ফিল্ম ‘আমার নানুর বাড়ি’ ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইনডিয়ার (আইএফএফআই) ৫৪তম আসরের এনএফডিসি ফিল্ম বাজারে বিশেষ রেকমেন্ডেশন পেয়েছে। ৫১ মিনিটের ডকুমেন্টারি ফিল্মটির ইংরেজি টাইটেল ‘হোয়ার মাই গ্র্যান্ডমা লিভস’।
ফিল্মবাজার কর্তৃপক্ষ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র প্রজেক্টকে আলাদাভাবে রেকমেন্ডেশন দেয়, যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এ চলচ্চিত্র নির্বাচন হয়েছে। এ আয়োজন হতে যাচ্ছে ২০ নভেম্বর।
বাংলাদেশ সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত এ ডকুমেন্টারিতে নারায়ণগঞ্জে শতবর্ষ পুরনো বাড়ির একটি পুকুরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে মূল চরিত্র চলচ্চিত্রকার নিজে, তার নানু ও খালাত ভাই। নানু ২৭ বছর ধরে ওই বাড়িতে একা আছেন আর মৌয়ের কাছে নানুর বাড়ি ও পুকুরটি শান্ত-স্নিগ্ধ গ্রামীণ বাংলার স্মৃতির প্রতীক, যা বর্তমানে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতা ও প্রকৃতিবিনাশী কাজের ভিড়ে এ ধরনের বাড়ি বা জলাশয় কী পরিস্থিতির মাঝে আছে, তারও গল্প হোয়ার মাই গ্রান্ডমা লিভস।
ফিল্ম বাজার প্রসঙ্গে মৌ জানান, বাংলাদেশে ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র নির্মাণ শেষে অন্যতম সমস্যা এর প্রদর্শন। বিশ্বের অন্যান্য দেশে উৎসব ছাড়াও প্রধানত টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ডকুমেন্টারি ফিল্মের প্রধান প্রদর্শক। তারা নিয়মিত প্রামান্য চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রদর্শন ও কমিশন করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে এ চর্চা নেই। হাতেগোনা কিছু টিভি চ্যানেল মাঝেমধ্যে কিছু ডকুমেন্টারি তৈরি করলেও পেশাদার স্বাধীন নির্মাতাদের জন্য তা কার্যকর নয়। এ জায়গা থেকে বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে ফিল্ম বাজারের আলাদা গুরুত্ব আছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ডকুমেন্টারি ফিল্মের জন্য সঠিক পরিবেশক ও প্রদর্শক পাওয়া সম্ভব নয়। তাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বাজারগুলোয় আমাদের যেতে হয়। আমি ফিল্ম বাজারের ভিউইং রুমে আমার চলচ্চিত্রটি জমা দিই। তারা এর বিশেষ রেকমেন্ডেশন করে। প্রতিযোগিতামূলক এ বিভাগে নির্বাচিত হওয়া সুখবরই।’
আইএফএফআই সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ফিল্ম বাজারে ডকুমেন্টারি, হরর, অ্যানিমেশনসহ নানা ঘরানার চলচ্চিত্র প্রকল্প নির্বাচন হয়েছে। যেখানে ভারত ও বহির্বিশ্বের সামাজিক অবস্থার ভিন্ন ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।
তাসমিয়াহ আফরিন মৌ নির্মিত ‘টোকাই ২০১২’ চীনের গুয়াংজু ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্টারি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা শর্ট ডকুমেন্টারি ফিল্ম হিসেবে ২০১৪ সালে পুরস্কৃত হয়।










