বাণিজ্যিক ছবিতে নায়িকারা এখন আর ‘আর্ম ক্যান্ডি’
নয়। বলিউডে এখন নায়িকারা অনেক ক্ষেত্রে মুখ্য চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন আবার তা না হলেও ছবিতে তারা নায়কের সমান গুরুত্ব নিয়েই পর্দায় উপস্থিত থাকছেন। তারা পর্দায় অ্যাকশন দৃশ্যে থাকছেন, কখনো ঝাঁপ দিচ্ছেন উঁচু ভবন থেকে, কখনো লড়ছেন অসম সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য। বলিউডের অভিনেত্রীরা দেখিয়ে দিয়েছেন নায়করা যা করতে পারেন সেটা তারা গ্ল্যামার গার্লরাও পারেন। আর পুরো বিষয়টা কোনো ভাসা ভাসা ব্যাপার নয়, বরং এ পরিবর্তন এসেছে ধীরগতিতে কিন্তু নিশ্চিতভাবেই।
এখনকার বলিউড নায়িকারা তাদের ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই মনোযোগ দিচ্ছেন স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তোলার দিকে। তাদের প্রচেষ্টা এখন ফল দিচ্ছে। পরিচালক থেকে সাধারণ দর্শক এখন পর্দায় মাচো হিরোদের জায়গায় নায়িকাদের দেখতে অভ্যস্ত হচ্ছেন। ‘হিরো’
নয় এখন ‘শিরো’দের জন্য তৈরি হচ্ছে গল্প। শিরোরা ঝড় তুলছেন বক্স অফিসেও।
দীপিকা পাড়ুকোন
বলিউডে এখন অভিনেত্রীদের নাম নিলে সবার আগে যাদের নাম চলে আসবে দীপিকা পাড়ুকোন তাদের অন্যতম। ২০০৭ সালে শাহরুখ খানের সঙ্গে ওম শান্তি ওম ছবির মাধ্যমে বলিউডে যাত্রা করেছিলেন তিনি। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। লাভ আজকাল (২০০৯), হাউজফুল
(২০১০), দেশী
বয়েজ (২০১১)—বাণিজ্যিকভাবে সফল ছবিগুলোতে দেখা গেছে দীপিকাকে। ককটেল (২০১২) ছবিতে দীপিকা তার তারকা প্রভাব দেখান। বোহেমিয়ান লাভ স্টোরির গল্প আবর্তিত হয় দীপিকাকে ঘিরে, সঙ্গে ছিলেন সাইফ আলী খান ও ডায়ানা পেন্টি। ছবিটি আয় করেছিল ১২৩ কোটি রুপি। পিকুতে দীপিকা তার অবস্থান দৃঢ় করেন এবং বুঝিয়ে দেন তিনি একটি ছবিকে সফলভাবে একাই টেনে নিয়ে যেতে পারেন। পিকুতে দীপিকা কাজ করেন অমিতাভ বচ্চন ও ইরফান খানের সঙ্গে, ছবিটি আয় করে ১৪৯ কোটি রুপি। ২০১৫ সালে মুক্তি পায় দীপিকার বাজিরাও মাস্তানি এবং ২০১৮ সালে পদ্মাবত। বলাই বাহুল্য, দুটো ছবিই দারুণ আলোচিত। বক্স অফিসেও হিট, ছবি দুটো আয় করে যথাক্রমে ৩৫৫ ও ৫৭২ কোটি রুপি। এর মাধ্যমে তিনি বলিউডের বাণিজ্যিক ছবির রানী হয়ে ওঠেন। ছবিগুলোতে রণবীর সিং ও শহীদ কাপুর সহশিল্পী হলেও দীপিকাই ছিলেন মূল চরিত্রে। পদ্মাবত ছবিতে তিনি পুরুষ তারকাদের চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছেন।
২০২০ সালে ছপাক ছবিটা ছিল দীপিকার জন্য লিটমাস টেস্টের মতো। অ্যাসিড আক্রমণের সার্ভাইভার লক্ষ্মী আগারওয়ালের বায়োপিক ছিল ছবিটি। বলিউডের গ্ল্যামার গার্ল প্রথমবার চেষ্টা করলেন একটি গ্ল্যামারহীন চরিত্রে। ছবিটি বক্স অফিসে আয় করে ৫৫ কোটি রুপি। এটা যে শতকোটির হিট হবে না সেটা স্বাভাবিক ছিল এবং বাজেটের চেয়ে বেশ ভালো আয় করে ছবিটি মুনাফাও নিশ্চিত করে। অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন তো ছিলই।
আলিয়া ভাট
আলিয়া ভাটের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে বাণিজ্যিক হিট স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার ছবিতে। ছবিটি বক্স অফিসে আয় করে ১০৯ কোটি রুপি। এরপর বেশ বড় একটি ঝুঁকি নেন আলিয়া। অভিনয় করেন ডার্ক ফিল্ম হাইওয়েতে। ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন রণদীপ হুদা, তবে মূল চরিত্রে ছিলেন আলিয়াই। ভিন্ন রকমের গল্প হওয়ার পরও ছবিটি ৫২ কোটি রুপি আয় করে। ছবিতে তার অভিনয় প্রশংসা কুড়ায়। এর পরও আলিয়া গ্ল্যামার না খুঁজে বাছা চরিত্রে কাজ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ২০১৬ সালের উড়তা পাঞ্জাব। ছবিতে তিনি পাঞ্জাবে এক বিহারি অভিবাসীর চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিটি ৯১ কোটি রুপি আয় করে। ডিয়ার জিন্দেগি ছবিতে আলিয়াকে দেখা গেছে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত এক তরুণীর ভূমিকায় যে নিয়মিত থেরাপি নিতে শুরু করে এবং শাহরুখ খান ছিলেন তার কাউন্সেলর। ছবিতে আলিয়া শাহরুখের প্রেমে পড়েন। ছবিটি আয় করে ১৩৫ কোটি রুপি। এরপর ২০২৮ সালে সবচেয়ে বড় সাফল্যটি পান আলিয়া ভাট। রাজি ছবিতে তিনি ভারতীয় এক গুপ্তচরের ভূমিকায় অভিনয় করেন, যে দায়িত্ব পালনে পাকিস্তানের মাটিতে চলে যায়। রাজি আয় করে ১৯৫ কোটি রুপি। ছবিটি আলিয়া নিজের একার কাঁধে টেনে নিয়েছেন। ২০১৯ সালে গালি বয় ছবিটি যারা দেখেছেন তারা অনেকেই মনে করেন ছবির নাম গালি গার্ল হওয়াটাই বরং সমীচীন ছিল। গালি বয় আয় করে ২৩৮ কোটি রুপি।
সূত্র: ফিল্মফেয়ার










