মার্লন ব্রান্ডোর পক্ষ হয়ে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে উঠেছিলেন নেটিভ আমেরিকান অভিনেত্রী সাশিন লিটলফেদার। হলিউডের চলচ্চিত্রে আমেরিকার ভূমিপুত্রদের কীভাবে উপস্থাপন করা হয় সে সম্পর্কে ১ মিনিটের একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। বক্তব্যের জন্য সেদিন কটুবাক্য শুনতে হয়েছিল লিটলফেদারকে। অভিনেত্রী সাশিন লিটলফেদারের প্রতি সেদিনের করা বর্ণবাদী আচরণের জন্য এতদিন পরে একাডেমি অব মোশন পিকচার্স আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
৭৫ বছর বয়স্ক এ অভিনেত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে যাচ্ছে দি একাডেমি মিউজিয়াম অব মোশন পিকচার্স। এ উপলক্ষে একটি কথোপকথন-সন্ধ্যা উদযাপন করছে একাডেমি।
১৯৭৩ সালে ‘দ্য গডফাডার’
চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান ব্রান্ডো। তখন নেটিভ আমেরিকানদের জাতীয় পোশাক পরে ব্রান্ডোর পক্ষে প্রথম নেটিভ আমেরিকান নারী হিসেবে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে ওঠেন লিটলফেদার। তিনি বলেন, ‘ব্রান্ডো আমাকে একটি লিখিত ভাষণ পাঠিয়েছেন। সময়ের অভাবে পুরোটা মঞ্চে পড়া যাবে না। তবে মার্লন এ পুরস্কার গ্রহণ করছেন না।’
তার অতি সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি জানান, আমেরিকার চলচ্চিত্রগুলোয় নেটিভ আমেরিকানদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয় তার নিন্দা জানিয়ে এ পুরস্কার ব্রান্ডো গ্রহণ করছেন না।
সেদিন তার জাতীয় পোশাক পরার জন্য উপস্থিত দর্শকদের অনেকে তাকে ছি ছি করেছিল। একজন তো তার দিকে তেড়ে এসেছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের হস্তক্ষেপে তাকে নিবৃত্ত করা হয়। ১৯৭৩ সালে যখন এ পুরস্কারের উৎসব চলছিল তখন আমেরিকাজুড়ে নেটিভ আমেরিকানদের আন্দোলন ছিল তুঙ্গে। অনুষ্ঠানের দিন থেকে লিটলফেদার অবশ্য বলে আসছিলেন, তাকে উপহাস করা হয়েছে এবং তিনি বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।
একাডেমি মিউজিয়ামের প্রেসিডেন্ট ডেভিড রুবিন এ বছরের জুনে তার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করার বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর রুবিন বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে তিনি লিটলফেদারের সেদিনের কথাকে শক্তিশালী বক্তব্য বলে উল্লেখ করেন। লিটলফেদারের সে বক্তব্য মানুষের প্রতি মানুষের সম্মান প্রদর্শন এবং মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় বলে তিনি জোর দেন।
তাত্ক্ষণিক করা একটি মন্তব্যে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের এমন সিদ্ধান্তকে আশাজাগানিয়া বলে উল্লেখ করেন এ অভিনেত্রী। ৫০ বছর ধরে নিজের ধৈর্যধারণের কথা উল্লেখ করে তিনি রেড ইন্ডিয়ানদের অতিধৈর্যশীল বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রেড ইন্ডিয়ানরা এভাবে ধৈর্য ধারণ করেই টিকে থাকবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান










