আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার লা গ্যালারিতে চলছে শিল্পী জাহাঙ্গীর আলমের ‘প্রাণের গান’ শীর্ষক প্রদর্শনী। গত শুক্রবারে প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন সোসাইটি ফর প্রমোশন অব বাংলাদেশ আর্টের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য আনিস এ খান, আর্ট বাংলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস, শাশা ডেনিমস লিমিটেডের পরিচালক জেরিন মাহমুদ হোসেন, শিল্পী অধ্যাপক মলয় বালা ও আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার পরিচালক ফ্রঁসোয়া ম্রোজ।

জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ওরিয়েন্টাল পেইন্টিং স্টুডিওর ‘রেসিডেন্স আর্টিস্ট’ হিসেবে কাজ করায় জলরঙ ওয়াশ পদ্ধতির একটি নিজস্ব শৈলী তৈরি করেছেন। তার রঙ তুলির ছোঁয়ায় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন তিনি। কখনো গৌড়ীয় নৃত্য, কখনো দেশ, মেঘের লীলাখেলা, হেমন্তের বিকাল, মায়াবী গোধূলি, বাংলার রমণী, আর কখনো বা পৌরাণিক উপাখ্যানের বিষয়-আখ্যান তার চিত্রে দেখা যায়। ফুল নিয়ে তিনি অনেক চিত্র আঁকেন, যা ঠিক বাস্তব ফুলের অনুরূপ নয়। এখানে রঙ আসে রূপের মোহনীয় বারতা নিয়ে। তাই চিত্রপটে বহু চরিত্রের উপন্যাস তৈরি হয় যেখানে গাছ, মাটি, নদী, জল ও মেঘ আলাদা চরিত্র তৈরি করে। শিল্পপ্রেমী দর্শক প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গে কথোপকথন করতে পারবে। বাংলার সরাচিত্রের মোটিফে করেছেন সিরিজচিত্র, যেগুলোয় বাংলার লোকচিত্রকলার নব ভাষার মিশেল রয়েছে। ভেতরের ফুল, নারী অবয়ব, গাছ ও লতাপাতা একটা কল্পিত রসায়নে বিন্যস্ত। 

প্রদর্শনীটি নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ প্রদর্শনীতে রয়েছে জলরঙ ওয়াশ পদ্ধতির কাজ। রঙের চলনে ফিগারের অবয়ব মেঘলীলার অনুরূপ। অধিকাংশ কাজে লাল, নীল, হলুদ, কমলা এসব উজ্জ্বল রঙের সঙ্গে কালো রঙ ব্যবহার করেছেন একই উজ্জ্বলতায়। দাঁড়িয়ে থাকা গাছের বিস্তৃতি, গাছের ফাঁকফোকর ধেয়ে আলোর ফিনকি ও শৈশবস্মৃতির অনুভবতাড়িত আলোছায়ার স্মৃতিধৃত রূপ। নীল রঙের ছোঁয়া আছে প্রায় প্রতিটি কাজে। বর্ষা, বর্ষাস্নাত প্রকৃতি অঙ্কনে মাটির সোঁদা গন্ধ, বাতাসের রং, সংগীতের সুরে একাকার। নব্য-বেঙ্গল স্কুলের শিল্পীদের মতো পৌরাণিক সাহিত্যের নায়িকারা অর্থাৎ রাধা, ললিতা, বিশাখা বা বেহুলা ইত্যাদি চরিত্র বারবার এসেছে সংকীর্তনের ঢংয়ে। 

প্রদর্শনীটি চলবে ১১ নভেম্বর। সোমবার থেকে শনিবার বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এটি সবার জন্য উন্মুক্ত ।