উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে গান গাইছেন। ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন তিনি। একটা সময় বাংলাদেশ বেতারে নিয়মিত গান গাইতেন তিনি। শুধু বেতারের জন্য কিছু গান গেয়েছিলেন রুনা লায়লা, সেসব গানও বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। দুই দশকের বেশি সময় পর আবারো বেতারের জন্য একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। গানটির শিরোনাম ‘ও বৃষ্টি তুমি’। গানটি লিখেছেন সুমন সরদার। সুর করেছেন সাদেক আলী। সাদেক আলী দীর্ঘদিন ধরে রুনা লায়লার সঙ্গে একজন মিউজিশিয়ান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। এর আগেও সাদেক আলীর সুরে রুনা লায়লা চ্যানেল আইয়ের জন্য শিশুদেরকে নিয়ে একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন। তবে এবার রুনা লায়লা সাদেক আলীর সুরে বাংলাদেশ বেতারের ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসের জন্য গান গাইলেন। ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসের ড্রামা স্টুডিওতে গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়। বেতারে গান রেকর্ডিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে রুনা লায়লা বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর বেতারে এসে ভীষণ ভালো লাগল। বেতারের আধুনিকায়ন দেখে মুগ্ধ হয়েছি। আর সবার আন্তরিকতাও আমাকে মুগ্ধ করেছে। গানটির কথা যেমন ভালো লেগেছে, সুরটাও ভীষণ ভালো লেগেছে। আশা করা যাচ্ছে, গানটি শ্রোতাদের ভালো লাগবে। বাংলাদেশ বেতারে এর আগেও আমার গাওয়া কয়েকটি গান বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গানটিও ভালো লাগবে সবার।’ সাদেক আলী বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় রুনা আপা এর আগেও আমার সুরে গান করেছেন। তবে এবারের গানটি নিয়ে আমার স্বপ্ন ছিল। আপা গানটি গেয়েছেন, তাতেই ধন্য আমি।’
সুমন সরদার বলেন, ‘এর আগে আমার লেখা গান গেয়েছেন রফিকুল আলম ভাই, রথীন্দ্রনাথ রায় দাদা, আবিদা আপাসহ আরো অনেকে। তবে এবারই প্রথম শ্রদ্ধেয় রুনা লায়লা আপার কণ্ঠে আমার গান। আমি মূলত একজন কবি। কবি হিসেবে সলিল চৌধুরী পুরস্কারে ভূষিত হয়েছি। তবে এখন আমার লেখা গান রুনা আপা গাইলেন। এ যেন পুরস্কার প্রাপ্তির মতোই অনেক বড় বিষয়। খুব আশাবাদী গানটি নিয়ে।’ সাদেক আলী জানান, শিগগিরই গানটি বাংলাদেশ বেতারে প্রচারে আসবে।
১৯৭২ সালের আগস্টে ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। স্বাধীন দেশে এটি হলো বেতারের সর্বপ্রথম স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি আর্কাইভিং স্থাপনা। ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসেই সর্বপ্রথম বাংলাদেশ বেতারে ডিজিটাল যুগের সূচনা হয় ২০০১ সালের ১৮ জুন ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসে ডিজিটাল আর্কাইভিং কার্যক্রম উদ্বোধনের মাধ্যমে। রুনা লায়লার গান রেকর্ডিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন মৃধা, আঞ্চলিক পরিচালক রওনক জাহানসহ আরো অনেকে।
১৯৬৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগীতশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন রুনা লায়লা। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানি চলচ্চিত্র জুগনুতে প্রথম প্লেব্যাক করেন। আর পেছন ফিরে দেখতে হয়নি রুনাকে। ১৯৬৬ সালে উর্দু চলচ্চিত্র হাম দোনোর জন্য তাকে উনকি নজরোসে মোহাব্বাতকা জো পয়গাম মিলা নামের একটি গজল গাইতে বলা হয়। ১৯৭০ সালের মধ্যেই তিনি প্রায় এক হাজার গান রেকর্ড করে ফেলেন। আল্লাহ মেঘ দে, একা একা কেন ভালো লাগে না, ইস্টিশনে রেলগাড়িটা, সাধের লাউ, খাঁচার ভিতর অচিন পাখির মতো শতাধিক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি।










