বছরের অন্যতম আকর্ষণ ডিসির ‘অ্যাকুয়াম্যান অ্যান্ড দ্য লস্ট কিংডম’। সিনেমাটির জন্য দর্শক অপেক্ষা করছে বহুদিন ধরে। এর মধ্যে এসেছে ডিসির বেশকিছু সিনেমা। কিন্তু কোনোটাই দর্শককে মুগ্ধ করতে পারেনি। অ্যাকুয়াম্যান নিয়ে তারা আশায় আছে। কিন্তু এটি নিয়ে নাটক করে চলেছে সংশ্লিষ্টরা। ২০ ডিসেম্বর মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমাটি নিয়ে জনি ডেপ-অ্যাম্বার হার্ড কেস চলাকালে নানা সমস্যা হয়েছিল। সে গুজব বাড়তে বাড়তে সিনেমাটি পার করেছে নানা পর্যায়। সম্প্রতি এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। ডেপ-হার্ডের কোর্ট শুনানির বেশকিছু দলিল প্রকাশ হয়েছে, যেখানে অ্যাম্বার দাবি করছেন সিনেমার সেটে তার সঙ্গে মোমোয়া বাজে আচরণ করেছেন।
শুনানির এ তথ্যগুলো মূলত অ্যাম্বারের থেরাপিস্ট ড. ডন হিউগসের কাছে দেয়া অ্যাম্বারের বক্তব্য। এটি লিগ্যাল প্যাডে লেখা, যেখানে হার্ড বলেছেন, ‘জেসন আমাকে সিনেমা থেকে বাতিল করতে চেয়েছিল। সে সিনেমার সেটে জনির মতো পোশাক পরে হাজির হয়েছিল। সে মদ খেয়ে আসত সিনেমার সেটে।’ কিন্তু হার্ডের এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ডিসির এক মুখপাত্র। ভ্যারাইটিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘জেসন একজন ভদ্রলোক। এছাড়া সে পেশাদার। জেসনকে কখনো সেটে মাতলামি বা সহকর্মীদের সঙ্গে বাজে আচরণ করতে দেখা যায়নি।’ জেসন মোমোয়ার ভক্ত ও তার সঙ্গে কাজ করা ক্রুরাও একই কথা বলেছেন। তারা বিশেষভাবে বলেছেন, ‘জেসন একজন পরিশ্রমী ও পেশাদার অভিনেতা। কাজ শেষে কখনো সে এক মগ বিয়ার খেতে পারে. কিন্তু সেটে কখনো মাতাল হয়ে হাজির হয়নি। অসদাচরণ তো পরের কথা।’
কেবল জেসন মোমোয়া নন, হার্ড অভিযোগ করেছেন সিনেমার পরিচালক জেমস ওয়ানের বিরুদ্ধেও। অ্যাম্বার হার্ডের ভাষায়, ‘সে আমার সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেছে। আমাকে বলা হয়েছে অ্যাকুয়াম্যান নিয়ে আমি কোনো পোস্ট করতে পারব না। সবকিছুতে আমার দোষ ধরা হয়েছে। আমি দুঃখ প্রকাশও করেছি। কিন্তু সেটে আমার সঙ্গে কেউ সেলফি তোলারও অনুমতি পেত না।’ এ অভিযোগও ডিসির তরফ থেকে নাকচ করা হয়। জেমস ওয়ানের বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ কখনো ওঠেনি। ডিসির মতে, ‘ওয়ান অন্যতম একজন আশাবাদী ও ইতিবাচক মানুষ। তিনি তার সেটে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেন সবার জন্য। অ্যাকুয়াম্যানও তার ব্যতিক্রম হয়নি।’
সিনেমাটি নিয়ে নানা সমস্যা শুরুতেই ছিল। লস্ট কিংডমের আগে ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাকুয়াম্যান’ আয় করেছিল ১০০ কোটি ডলারের বেশি। ডিসির তাই আশা ছিল লস্ট কিংডম আরো ব্যবসা দেবে। কিন্তু জেমস গান ও পিটার স্যাফরান আসার পর বহু সিনেমা বাতিল হয়েছে। সে কাতারে পড়তে পড়তে বেঁচে গেছে এটি। কিন্তু অ্যাম্বার সূত্রে আবার ঘোলা হয়েছে পানি।
সূত্র: ভ্যারাইটি










