‘এক পল কা জিনা’,
‘না তুম জানো না হাম’,
‘ও সনম’
প্রভৃতি হিন্দি গানের সুমিষ্ট সুর আমরা মনের অজান্তেই গুনগুন করে গেয়ে থাকি। কিন্তু এসব গান যিনি গেয়েছেন তিনি আমাদের কাছে অধরাই থেকে গেছেন। কারণ তিনি নির্জনতাপ্রিয়, বেশি দিন এক জায়গায় থাকতে পছন্দ করেন না। জনসমুদ্রে হাঁফিয়ে ওঠেন তিনি। লাকি আলি গায়কি নামে আমরা তাকে চিনি।
মকসুদ মেহমুদ আলি তার প্রকৃত নাম। জন্ম ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৫৮। পিতা বলিউডের প্রসিদ্ধ কমেডিয়ান মেহমুদ আলি। পিতা চেয়েছিলেন ছেলে তার মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করুক। কিন্তু অভিনয়ে আগ্রহ না দেখিয়ে তিনি কার্পেট পরিষ্কার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হন। বাবা যেন তাকে অভিনেতা হওয়ার ব্যাপারে চাপ না দেন সেজন্য এ কাজ করেছিলেন লাকি। সম্প্রতি একটি আলাপচারিতায় তিনি ব্যক্তিজীবনের এসব না বলা কথা স্মরণ করেন।
লাকি আলি ১৯৭৮ সালে ‘এক বাপ ছে বেটে’
সিনেমায় প্লেব্যাকের মাধ্যমে তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। এ ছবির ওয়াকিং অ্যান্ড আই অ্যাম ওয়াকিং অ্যালোন গানটি তিনি গান। উল্লেখ্য, ছবিতে তার পিতা মেহমুদ আলি নিজের ছয় ছেলেকে নিয়ে অভিনয় করেছিলেন। এরপর তার দ্বিতীয় গান ছিল ‘দুশমন দুনিয়া কা’
সিনেমার ‘নাশা নাশা’
গানটি।
লাকি আলি তার প্রথম অ্যালবাম ‘সুনো’
দিয়ে ভারতীয় পপ সংগীতের জনপ্রিয় একজন শিল্পী হয়ে ওঠেন। ১৯৯৬ সালে অ্যালবামটির জন্য সেরা পপ গায়ক হিসেবে স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। এমটিভি এশিয়া চার্টে টানা ৬০ সপ্তাহের জন্য তিনি শীর্ষে ছিলেন। তার ‘ও সনম’
অ্যালবামের টাইটেল সংটি সেরা ভারতীয় পপ গান হিসেবে আজও বিবেচিত। তার দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘সিফর’
প্রথম অ্যালবামের সফলতাকে টেক্কা দিতে পারেনি। কিন্তু তৃতীয় অ্যালবাম ‘আক্স’
ভক্তদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছিল।
আলাপচারিতায় আরো আশ্চর্যকর কথা উঠে আসে। সংগীতে কোনো প্রশিক্ষণ নেই বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘নিজেকে বেসুরো মনে করি আমি। আমরা রেওয়াজও করি না খুব একটা। কনসার্টের আগে দোয়া করে বাকিটা সৃষ্টিকর্তার ওপর নির্ভর করি। শুধু শ্রোতার ভালো লাগলেই হলো।’
সেক্ষেত্রে গান খারাপ হলে দায়টা নিজের কাঁধে নিতে রাজি লাকি আলি। নীরবতার অষ্টম নোট অনুসন্ধানে সর্বদা নিজেকে ব্যস্ত রাখেন।
গান নিয়ে লাকি আলির নানা রকম ভাবনা উঠে আসে তার আলাপচারিতায়। তিনি ভিন্ন কোনো মাত্রা অনুসন্ধান করছেন। লাকি বলেন, ‘সবকিছুই তো সারগামের সাতটি নোটের মধ্যে। কিন্তু সবসময়ই আমি অষ্টম নোটের অনুসন্ধানে থাকি। আর এ নোটটিই হলো নীরবতা তথা মোক্ষের নোট। শিল্পের ভৃত্য হিসেবে আমি সেখানেই পৌঁছতে চাই।’
লাকি আলি নিজেকে বোহেমিয়ান মনে করেন। তার অন্তরে আছে বোহেমিয়া। বাবার মৃত্যুর পর তিনি মুম্বাই ছেড়ে গিয়েছিলেন। মুম্বাইকে নিজের ‘মাইকা’
বলে উল্লেখ করেন। বস্তুত বাবা মেহমুদের মৃত্যুর পর তিনি নিজের জায়গাটা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তিন বলেন, ‘বহু মানুষের ভিড়ে নিজেকে আমার এক অপরিচিত মনে হতো। আগন্তুক মনে হতো।’
অথচ ততদিনে লাকি আলি ভারতের তরুণদের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী।
বাবার কথামতো অভিনেতা হতে না চাইলেও এক জীবনে তিনি বেশকিছু সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে কিতাব (১৯৭৭), ত্রিকাল
(১৯৮৫), সুর:
দ্য মেলোডি অব লাইফ (২০০২), কাঁটে
(২০০২), কসক
(২০০৫), গুড
লাক (২০০৮), রান
অ্যাওয়ে (২০০৯) উল্লেখযোগ্য। কিন্তু কোথাও স্থায়ী হননি। কিছু না কিছু খুঁজে গেছেন সারা জীবন। মারীকালে ফিরেছেন তিনি নতুন চেহারায়।
সম্প্রতি ‘মহব্বত জিন্দেগি’ নামে তার একটি গান মুক্তি পেয়েছে। গানটির বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, মহামারী ও যুদ্ধের অনিশ্চয়তার এ সময়ে ইতিবাচকতা নিয়ে গানটি রচিত। উপদেশ নয়, বরং মানুষের মনে আশার সঞ্চারের জন্য গানটি গেয়েছি।










