ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেন। আর তাকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করতে যাচ্ছেন পশ্চিম বাংলার নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি। সিনেমার নাম ‘পদাতিক’। এ সিনেমায় মৃণাল সেনের চরিত্রে অভিনয় করবেন চঞ্চল চৌধুরী। গত জানুয়ারিতে মৃণাল সেন হিসেবে চঞ্চলের লুক প্রকাশ পেয়েছিল। যাতে দেখতে অবিকল মৃণাল সেনের মতোই লেগেছিল তাকে।
সৃজিত মুখার্জির পদাতিকের মৃণাল বেশকিছু দিন আগেই কলকাতা গেছেন। এরই মাঝে সিনেমার শুটিংও শুরু হয়েছে। গতকাল চঞ্চল চৌধুরীর শুটিং সেটের বেশকিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি করে। এ আলোচনার সূচনা জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাহানাজ খুশির ফেসবুক পোস্ট। চঞ্চল ও খুশির বহুদিনের বন্ধুত্বের কথা সবার জানা। এ অভিনেত্রী গতকাল প্রিয় বন্ধুর নতুন লুকের চারটি ছবি পোস্ট করে শুভকামনা জানিয়েছেন। এর পরই মৃণাল রূপে চঞ্চল আলোচিত হতে থাকেন।
কলকাতার বেচু চ্যাটার্জি স্ট্রিটের মধ্যে একটি সরু গলির একটি পুরনো চার তলা বাড়িতে মহাসমারোহে চলছে পদাতিকের শুটিং। গতকাল ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে পদাতিকের শুটিং নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। প্রতিবেদক তার প্রতিবেদনটিতে সিনেমার সেটের নির্মাতা, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পরিশ্রম ও অভিব্যক্তি বেশ ভালোভাবেই তুলে ধরেছেন। শুটিং সেটেই সিনেমাটি নিয়ে বলতে গিয়ে সৃজিত মুখার্জি বলেন, ‘ছবিটা আসলে একদমই ভালোবাসার জায়গা থেকে বানানো। কোনো রকম স্ট্র্যাটেজি বা টাকা কামানোর লক্ষ্য থেকে নয়। মৃণাল সেন আসলে কলকাতা শহরটাকে ভীষণ ভালোবাসতেন। এলডোরাডো বলতেন এ শহরকে। সেই এলডোরাডো আজ মৃণাল সেনকে ভুলে গেছে। কোনো রাস্তার নাম, পার্কের নাম, মেট্রো স্টেশনের নাম কোথাও তিনি নেই। তাই কলকাতাকে মনে করিয়ে দেয়া এ ট্রিবিউটের মাধ্যমে।’
মৃণাল সেনের চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরীকে নেয়া প্রসঙ্গে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সৃজিত বলেন, ‘দুজনের মুখের মিল আছে। মৃণাল বাবুর মতোই চঞ্চলের চোখের দৃষ্টি অত্যন্ত ধারালো ও সজাগ। তাছাড়া মৃণাল বাবুর রাজনীতি চেতনা, তার যাপন ও দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও চঞ্চলের প্রচুর মিল।’
চঞ্চল চৌধুরী তার অভিনয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গেও তুমুল জনপ্রিয়। সম্প্রতি ওয়েব কনটেন্টগুলো জনপ্রিয়তার মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর সঙ্গে হাওয়া সিনেমার চান মাঝির বেশের চঞ্চল বাংলাদেশে ও কলকাতার মানুষের মন জয় করেছিলেন, যার আভাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে স্পষ্ট।
সৃজিত মুখার্জির সিনেমার মধ্য দিয়েই কলকাতার বড় পর্দায় আসছেন এ অভিনেতা। নির্মাতা সৃজিত প্রসঙ্গে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘সৃজিতের অনেক সিনেমা আগে দেখেছিলাম। তাই জানতাম কী ধরনের সিনেমা তিনি বানান। এখন কাজ করতে গিয়ে বুঝলাম, পরিচালক হিসেবে তার ভাবনা কতটা পরিষ্কার।’
মৃণাল সেনের চরিত্র নিয়ে তিনি বলেন, ‘মৃণাল সেনের চরিত্রটি যেকোনো শিল্পীর জন্য অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। দর্শক যেকোনো বায়োপিক হুবহু মেলানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ভিন্ন একজন মানুষের সঙ্গে হুবহু মিলে যাওয়া তো সম্ভব নয়। প্রথম দিকে একটু ভয় লাগছিল। কিন্তু সৃজিত খুব সাহায্য করেছে। আমায় অনেক মেটেরিয়াল দিয়েছে দেখার জন্য। তখন আমার আগ্রহটা বেড়ে যায়।’
মৃণাল সেনের সঙ্গে নিজের চেহারার খানিক মিল রয়েছে বলে মনে করেন এ অভিনেতা। এ নিয়ে চঞ্চল বলেন, ‘আদল মেলালে দেখতে কাছাকাছি লাগে। কিন্তু একটা মানুষের ব্যক্তিত্ব, দর্শন, আদর্শের জায়গাটা ধরতে গেলে তাকে নিয়ে গবেষণা করতে হয়। মৃণাল সেন তার সিনেমার মধ্য দিয়ে নিজের পরিচয়টা দিয়ে গেছেন। তাই সে বিষয়গুলো ভালো করে বোঝার চেষ্টা করেছি।’
এরই মধ্যে প্রকাশ হয়েছে পদাতিকের পোস্টার। সিনেমাটির পোস্টার গত ১১ জানুয়ারি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে শুভকামনা জানিয়েছেন বলিউড শাহেনশা অমিতাভ বচ্চন। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘সব সময় শুভকামনা’। পোস্টে তিনি সিনেমার নাম, চঞ্চল চৌধুরী ও সৃজিত মুখার্জির নাম হ্যাশট্যাগে রেখেছেন।
পদাতিকে চঞ্চল চৌধুরীর বিপরীতে অভিনয় করছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মনামি ঘোষ। তাকে এ সিনেমায় দেখা যাবে মৃণাল সেনের স্ত্রী গীতা সেনের চরিত্রে। পদাতিকে মৃণাল সেনের যৌবনের অংশটির রূপ দেবেন কোরক সামন্ত। মৃণালপুত্র কুনাল সেনের চরিত্রে অভিনয় করবেন সম্রাট চক্রবর্তী। আগামী ১৪ মে মৃণাল সেনের শততম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে পদাতিক নির্মাণ হচ্ছে।










