বাংলাদেশের ব্যস্ত তারকাদের একজন আশনা হাবিব ভাবনা। নাটক, সিনেমা ও ওয়েব কনটেন্টে অভিনয় দিয়ে দর্শক মাতিয়ে রেখেছেন তিনি। নৃত্যশিল্পী হিসেবেও অনবদ্য এ অভিনেত্রী। অভিনয় ও ব্যক্তি জীবনের নানা বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন ভাবনা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী
‘যাপিত জীবন’ সিনেমা নিয়ে বলুন।
সেলিনা হোসেনের বহুল আলোচিত উপন্যাস যাপিত জীবন থেকেই এ সিনেমাটা নির্মাণ হচ্ছে। এটা অসাধারণ একটি উপন্যাস, যা এ সময়ে এসে এ প্রজন্মের কাছে আমাদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য সেরা। যাপিত জীবন দারুণ একটা দেশপ্রেমের গল্প। খুব যত্ন নিয়ে সিনেমাটার কাজ করেছি। আমি বলব, খুব ভালো কাজ হতে যাচ্ছে। এখন সম্পাদনার কাজ চলছে। চেষ্টা করছি দর্শকের সামনে ভালো একটা কিছু নিয়ে আসার জন্য।
বাবার পরিচালনায় অভিনয় করার অভিজ্ঞতা কেমন?
যেহেতু এটা বাবার সিনেমা, তাই আমাকে অনেক বেশি সচেতন থাকতে হয়েছে। হয়তো কাজ শেষে আমি সেটে থাকতাম না, কিন্তু আমাকে ডাবল সচেতন হয়ে আরো বেশি সময় দিতে হয়েছে। যখন শুটিং শুরু হয়েছে, আমি এটা অনুভব করিনি যে বাবার সিনেমার শুটিং হচ্ছে। আমার মনে হয়েছে, এটা ভাবলে আসলে মন দিয়ে কাজ করা সম্ভব হবে না। সবারই তো বাবা-মার সঙ্গে কাজ করতে আরাম লাগে। আমারো লেগেছে। খুব ভালো লেগেছে, বলা যায় একধরনের ফ্যামিলি ওয়ার্ক।
‘এক্সকিউজ মি’ সিনেমার কাজ এখন কোন পর্যায়ে?
সিনেমাটার চিত্রনাট্য নিয়ে এখনো কাজ হচ্ছে। হিরো-হিরোইন কে হবে সে ঘোষণা এসেছে। এখনো শুটিং শুরু হয়নি। আর সিনেমার গল্পটা এখন না বলি।
চলতি বছরে পর্দায় আপনার কোন কাজগুলো আসতে যাচ্ছে?
এ বছর ‘দামপাড়া’ সিনেমাটা মুক্তি পাবে। হয়তো খুব তাড়াতাড়ি এর মুক্তির বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। অন্যদিকে যাপিত জীবন এ বছর মুক্তি পাবে কিনা এখনো বলা যাচ্ছে না। যেহেতু এটা অনুদানের সিনেমা, এর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় জড়িত রয়েছে। তাই মুক্তির সময় বলা মুশকিল।
এখন কোন কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
মাসটা জুড়েই বইমেলা নিয়ে ব্যস্ত। কারণ আমার বই এসেছে। এরই মধ্যে জানুয়ারির শুরুতে ঈদের তিনটা নাটকে কাজ করেছি। যেহেতু আমি ছোট পর্দায়ও অভিনয় করি, তাই ঈদে খুব বেশি কাজ না করলেও কিছু কাজ করতেই হয়। এরই মধ্যে শুরুও করে দিয়েছি। বইমেলায় আমার বই নিয়েই কাজ করছি।
মেলায় আপনার লেখা বইটি নিয়ে বলুন।
এবার আমার দুটো বই আসার কথা। একটি কবিতার, অন্যটি উপন্যাস। এরই মাঝে কবিতার বই মেলায় এসেছে। নাম ‘ডানপন্থী কবিতারা’। মেলা শেষ হলে কিছুদিন পর প্রকাশ হবে আমার চতুর্থ উপন্যাস ‘কাজের মেয়ে’। আমি আমার লেখায় সে কথাগুলোই বলতে চাই, যেটা সবাইকে জানাতে ইচ্ছে করে। আমি আমার বক্তব্য পরিষ্কার করতে চাই। সে কথাগুলোই বইয়ের মাধ্যমে লিখি।
ছবি আঁকার প্রতি ভালোবাসা কবে থেকে?
করোনাকালীন যখন বাসায় আটকা ছিলাম, তখন আমি পেইন্টার হয়ে গেছি। আমার মনে হয়, আমি কভিডের সময়টা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছি। অনেক ছবি বিক্রি করেছি। পরিকল্পনা আছে, আগামী মে মাসে আমার আঁকা ছবি নিয়ে একক চিত্র প্রদর্শনী হবে। আমি খুব কৃতজ্ঞ, অনেক মানুষ আমার আঁকা ছবি পছন্দ করে। মানুষ যখন পয়সা খরচ করে আমার ছবি কেনে, আমি খুব অবাক হই এবং অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হই। ভালো লাগে যে করোনাকালীন সৃষ্টিকর্তা আমাকে একটা সুন্দর উপহার দিয়েছেন।
এখন কি কাজের ফাঁকে ছবি আঁকা হয়?
হ্যাঁ, চেষ্টা করি। যদিও এ বছর আঁকা শুরু করিনি। কারণ এখন অনেক ব্যস্ত আমার কাজ নিয়ে। কিন্তু সেটের মধ্যে দেখা যায়, একটা শট দিয়ে এসে আমি স্ক্রিপ্টের মধ্যেই ছবি আঁকছি। আমি আসলে কখনো বসে থাকি না। আমার কাছের মানুষ যারা, তারা জানে আমি সবসময় কাজের মধ্যে থাকি। কাজই আমাকে প্রকৃত আনন্দ দেয়। সেটা ছবি আঁকা, লেখালেখি, নাচ কিংবা অভিনয় যাই হোক না কেন। আমি জীবনটাকে অন্য রকম করে দেখি, আমি এ জীবনে অবসর চাই না।
আপনার অভিনীত সিনেমা ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ একাধিক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে। এ নিয়ে অনুভূতি কী?
এটা আমাদের পুরো টিমের জন্য আনন্দের। আমি অনেক খুশি। লাল মোরগের ঝুঁটি সিনেমায় আমি একটি টাকাও নিইনি। কারণ এটা মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা। নির্মাতা অনেক কষ্ট করে সিনেমাটা বানিয়েছেন, আমি তার সঙ্গে যুক্ত থাকতে চেয়েছি শিল্পী হিসেবে। আমি টাকা কিংবা অ্যাওয়ার্ডের কথা চিন্তা করিনি। এ কষ্টের যখন অর্জন আসে, তখন অনেক ভালো লাগে। আমি বলতে চাই, মূলত মাতিয়া বানু শুকু আপার কারণে আমরা সিনেমাটা শেষ করতে পেরেছি। আমার খুব পছন্দের মানুষ তিনি। আপা যে অ্যাওয়ার্ড পেতে যাচ্ছেন, আমার মনে হচ্ছে এটা আমি পাচ্ছি।










