সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। এখনো সীমান্তবর্তী তিন উপজেলায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সুরমা নদীর পানি একাধিক পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে রয়েছে। কানাইঘাট উপজেলার সদরের প্রধান বাজারে এখনো হাঁটু পানি রয়েছে। বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৭৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সিলেট কার্যালয় সূত্র জানায়, সুরমার পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জকিগঞ্জের অমলসিদে কুশিয়ারা নদী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, সারি, গোয়াইন, পিয়াইন ও ধলাই নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, সিলেটে ১৮ মে পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে রাতের বেলা বৃষ্টি বেশি হবে। পাউবো কর্মকর্তারা জানান, ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসাম প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ঢল ও বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে- গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট এলাকার নিম্নাঞ্চল। এই তিন উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট এবং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব গ্রামের সঙ্গে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন। এ উপজেলায় ফসলি জমিও তলিয়ে গেছে। একই অবস্থা গোয়াইনঘাটের।

কানাইঘাটে সুরমার পানি বিপদ সীমার ১৪২ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা ও লোভা নদীর পানি এখন ও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সুরমা এবং লোভার ডাইক ভেঙ্গে পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় প্লাবিত হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকা, রাস্তা-ঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার কারণে হাজার হাজার বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। কানাইঘাট উপজেলা সদরের প্রধান বাজারে এখনো হাঁটু পানি রয়েছে। আজ রোববার দুপুর থেকে বৃষ্টি কম হওয়ায় পানি অল্প অল্প করে কমতে শুরু করেছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে এরইমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বন্যা কবলিত উপজেলাগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৭৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।