দীর্ঘ প্রায় পাঁচবছর পর লক্ষ্মীপুরে ট্রেড করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে জেলা স্টেডিয়াম মাঠে ‘টিসিবির পণ্য কিনুন, আর্থিক ভাবে লাভবান হোন’ স্লোগানে ট্রাকে করে টিসিবি’র পণ্য বিক্রির কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল। গেল ৮ মে ‘লক্ষ্মীপুরে বিক্রি হয় না টিসিবির পণ্য’ শিরোনামে বণিক বার্তায় সংবাদ প্রকাশের পর এ উদ্যোগ নিল কর্তৃপক্ষ।

পণ্য বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের (নেজারত শাখা) সহকারী কমিশনার মো. বনি আমিন ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল আরমান রিদোয়ান শাকিক।

জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল জানান, লক্ষ্মীপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে টিসিবির পণ্য সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এ নিয়ে বণিক বার্তা পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। বিষয়টি নজরে এলে জেলার মানুষের ন্যায্য মূল্যে পণ্য সেবা নিশ্চিত করতেই আজ থেকে এ টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হলো। এতে বাজার মূল্য থেকেও কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন সাধারণ মানুষ। আগামীতে এ সেবা অব্যহত থাকবে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ট্রেড করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রধান কার্যালয় থেকে নতুন করে ‘নিউ ত্রয়ী শখ’ ও ‘এম এ ট্রেডার্সের’ নামে দু’টি ডিলার প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। ‘নিউ ত্রয়ী শখ’ ডিলার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ এহতেসান হায়দার বাপ্পী লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং অপর ‘এম এ ট্রেডার্সের’ ডিলার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. ফারুক। তারা দুই ধাপে আগামী ২০ মে পর্যন্ত ন্যয্য মূল্যে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করবেন। এর মধ্যে সয়াবিন তৈল ৮০ টাকা লিটার, ডাল ও চিনি ৫০ টাকা কেজি মূল্যে বিক্রি করবেন।

সৈয়দ এহতেসান হায়দার বাপ্পী বলেন, আপাতত ৩টি পণ্য সরবরাহ শুরু করা হয়েছে। এর মধ্যে তেল ২ হাজার লিটার, চিনি ৮শ কেজি ও মশুর ডাল ২ হাজার কেজি বিক্রি করা হবে। লাভের জন্য নয় লক্ষ্মীপুরের মানুষকে ন্যায্য মূল্যে পণ্য সেবা নিশ্চিত করতে চান বলেই এ উদ্যোগে এসেছেন বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ট্রেড করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পক্ষ থেকে জেলায় টিসিবি’র পণ্য বিক্রির জন্য ১২ জন ডিলার নিয়োগ করা হয়। তারা বিভিন্ন অজুহাতে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে জেলায় টিসিবির কোন পণ্য বিক্রি করেন নি। তাছাড়া কেউ তাদের নিবন্ধন নবায়নও করেননি। এতে জেলার নিম্ন আয়ের মানুষ ন্যায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য ক্রয় থেকে বঞ্চিত ছিলেন। নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতেও তারা টিসিবির পণ্য ক্রয় সেবা থেকে বঞ্চিত তারা।

পরে নতুন দুই ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার থেকে অনুষ্ঠানিকভাবে জেলায় টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়। তবে এদিনে করোনাভাইরাসের কারণে বিশেষজ্ঞদের নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করতে দেখা গেছে। ট্রাকে থাকা ব্যানারে অন্তত ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষকে হুড়োহুড়ি করে পণ্য কিনতে দেখা গেছে।


>> লক্ষ্মীপুরে বিক্রি হয় না টিসিবির পণ্য