বন্যায় বিপর্যস্ত সিলেটের সার্বিক পরিস্থিতির এখনো উন্নতি হয়নি। সুরমা নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও বাড়ছে কুশিয়ারার পানি। প্লাবিত এলাকার বেশির ভাগই এখনো ডুবে রয়েছে পানির নিচে। নগরীর পরিস্থিতিও একই। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন স্থানে ভেসে উঠছে মরদেহ। এরই মধ্যে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে সুরমা নদীর সিলেট পয়েন্টে পানি বিপত্সীমার দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার ও কানাইঘাটে ১ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর অমলসিদ পয়েন্টে ১ দশমিক ৮৪ সেন্টিমিটার, শেওলা পয়েন্টে বিপত্সীমার দশমিক ৬৩ ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপত্সীমার দশমিক ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

নদীর পানি কমতে থাকায় নগরীতে প্লাবিত এলাকাগুলোর পানিও কমতে শুরু করেছে। তবে উপশহর, তালতলা, তেররতন, ঘাসিটুলাসহ বিভিন্ন এলাকা এখনো পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। নগরীর বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হলেও অন্ধকারে রয়েছে প্লাবিত এলাকা। এসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বানভাসিদের।

সিলেটে পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী একেএম নিলয় পাশা জানান, কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ায় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কিছু এলাকা নতুন করে প্লাবিত হতে পারে। তবে তা মারাত্মক রূপ নেবে না। সুরমার পানি কমতে পারে। বৃষ্টিপাত বন্ধ রয়েছে।

ভয়াবহ এ বন্যায় মোট সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মৃতদের মধ্যে সিলেট সদরে তিনজন, সুনামগঞ্জের ছাতকে তিনজন, মৌলভীবাজারে একজন রয়েছেন।

সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে পৃথক জায়গায় দাদি-নাতিসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হচ্ছেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা এ কে আবুল কাশেম (২৪) ও তার দাদি ছুরেতুন নেছা (১০৫)। প্রাণ হারানো আরেকজনের নাম আব্দুল হাদি (১৮)। তিনি নলকট গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে ছাতক পৌরসভার কানাখালী রোডের আখড়া এলাকায় পীযূষ (৪০) ও ছৈলা-আফজালাবাদ ইউনিয়নের রাধানগর এলাকার জুনেদ (২৭) পানিতে ডুবে মারা গেছেন। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের আদিত্যের মহাল এলাকায় ঢলের পানিতে গত শনিবার তলিয়ে যাওয়া এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই শিশুর নাম জানা যায়নি।

জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানান, বন্যাদুর্গতদের জন্য ত্রাণ তত্পরতা অব্যাহত রয়েছে। সবক’টা উপজেলায় শুকনো খাবার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। তবে বিভিন্ন জায়গায় খাদ্যগুদাম ডুবে থাকায় সাময়িক সমস্যা পোহাতে হচ্ছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিলেট পরিদর্শনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা তাদের সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

তবে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল এখনই সচল হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রানওয়ে থেকে পানি নামলেও অ্যাপ্রোচ লাইট তলিয়ে থাকায় আরো সময় নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, আরো কয়েকদিন এ বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা যত দ্রুত সম্ভব এ বিমানবন্দর চালু করার চেষ্টা করব। পানি না নামলে আমাদের তেমন কিছু করার নেই। ফ্লাইট বন্ধ থাকায় যাত্রীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরাও ফ্লাইট চালুর জন্য প্রস্তুত রয়েছি। পানি নামলেই ফ্লাইট চালু করা হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালন) এয়ার কমডোর সাদেকুর রহমান বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে এ বিমানবন্দরের ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। ফ্লাইট চালুর কথা থাকলেও অ্যাপ্রোচ লাইট তলিয়ে থাকায় আরো কয়েকদিন ফ্লাইট বন্ধ থাকতে পারে।