বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এখন নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচনী প্রচারণা, ভোট, স্থানীয়দের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি ও এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এবিএম ফরহাদ

নির্বাচনী ব্যস্ততা কেমন কাটছে?

অনেকদিন পর ভোট নিয়ে জনগণের মধ্যে বেশ আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন, ভোট ও প্রচার-প্রচারণা নিয়ে ভোটাররা খুবই খুশি। ব্যস্ততা বলতে নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর থেকে দিনরাত্রি জনগণের কাছে যাচ্ছি। জনগণও স্বাগত জানাচ্ছে।

নির্বাচনী এলাকার পরিবেশ নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

নির্বাচনের পরিবেশকে মিশ্র বলা যায়। একদিকে ভোটাররা উচ্ছ্বসিতভাবে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি জানতে চাচ্ছেন। তাদের নিজেদের দাবি তুলে ধরছেন। অন্যদিকে ভোটটা সুষ্ঠু হবে কিনা, সে বিষয়েও উদ্বেগ আছে। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে কিনা, এ নিয়েও উদ্বেগ আছে। তবে এবার মানুষ সচেতন। নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা আস্থা ফেরাতে কাজ করছি। যদি আস্থা ফেরানো না যায় তাহলে আগের কয়েকটা নির্বাচনের মতো ভোটার উপস্থিতি নিয়ে একটা শঙ্কা থেকে যাবে। এখানে বর্তমান সরকার ও প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে হবে। কীভাবে নির্বাচনের বিষয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করা যায়, সে উদ্যোগ নিতে হবে।

এ আসনে ভোটের ফলাফল নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?

আমি আমার জয়ের বিষয়ে বেশ আশাবাদী। গত ২২ তারিখ থেকে প্রচারণায় আছি। যথেষ্ট সমর্থন পাচ্ছি। সর্বশ্রেণীর মানুষ, নারী-পুরুষ, হিন্দু-মুসলিম ও বিভিন্ন পেশাজীবী—সবার অভূতপূর্ব সাড়া লক্ষ করছি। আমি আগেও জনগণের প্রতিনিধি হয়ে সংসদে গিয়েছিলাম। তবে জেলে যাওয়ার কারণে বেশিদিন কাজ করতে পারিনি। যে কয়দিন বাইরে ছিলাম, যা করেছি; এ ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী। আমার আত্মবিশ্বাসের জায়গা হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। ফলে মানুষ এ জায়গায় আমার প্রতি আস্থাশীল এবং আমার জয়ের যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখছি।

নির্বাচনী এলাকার জনগণের জন্য আপনার প্রতিশ্রুতি কী?

আমার নির্বাচনী এলাকা যেহেতু আমার নিজের জন্মভূমি, সেহেতু এখানকার জনসাধারণের জন্য আমার কিছু প্রতিশ্রুতি অবশ্যই আছে। এ এলাকা দুটি উপজেলা ও চারটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এখানকার সাধারণ মানুষ লবণ ও মৎস্য চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা আমার প্রধান প্রতিশ্রুতি। এখানে যাতে তাদের উন্নয়নের ধারায় ফেরাতে পারি, সেটির জন্য প্রথমত যোগাযোগ তৈরি করব। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচাতে এখানে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। পানচাষীরা যেন ন্যায্যমূল্য পান এবং পানকে যাতে জিআই পণ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সে বিষয় আমার প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে। এছাড়া রফতানিমুখী বাণিজ্যে চিংড়ি ও মাছ চাষকে আরো শক্তিশালী করতে চাই। যেসব প্রাকৃতিক ও দেশীয় সম্পদের উত্তোলন সম্ভব, সেগুলোর রফতানিমুখী রূপান্তর নিশ্চিত করতে চাই। এছাড়া উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম জলদস্যু ও ভূমি দখলদার। আমি এগুলো থেকে এ মহেশখালী-কুতুবদিয়াকে মুক্ত করতে চাই।

আগামীতে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক জোন হতে যাচ্ছে মহেশখালী। বিষয়টি এলাকার উন্নয়নে কী ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন?

মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক জোন গড়ে উঠবে মহেশখালীতে। এটি ব্যাপক সম্ভাবনাময় একটি সমুদ্রবন্দর হতে যাচ্ছে। এখন প্রয়োজন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি। সে লক্ষ্যে কাজ করছি আমি। উপদেষ্টাদের অনুরোধ করছি। তাদের সঙ্গে বৈঠক করছি। এখন সি ট্রাক চলাচল শুরু হয়েছে। এখান থেকে কক্সবাজার শহরের যোগাযোগটা আরো উন্নত করা হবে। সে বিষয়ে মাস্টারপ্ল্যান রয়েছে। এ প্ল্যান বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য কেন্দ্র হবে মহেশখালী।

পেকুয়ার মগনামা থেকে কুতুবদিয়া যাতায়াতের প্রধান বাধা জেটিঘাটের বেহাল দশা। এ থেকে উত্তরণে কী উদ্যোগ নেবেন?

আমার নির্বাচনী এলাকার দুটি দ্বীপই সমুদ্রবেষ্টিত হওয়ায় বন্যা-ঘূর্ণিঝড়ে প্লাবিত হয়। এখানে সবার আগে দরকার একটি টেকসই বাঁধ। আমি নির্বাচিত হলে সেটি নিয়ে কাজ শুরু করে দেব। সে পরিকল্পনা রয়েছে। আরেকটি হচ্ছে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ফেরি চলাচলের দুর্ভোগ। এখানে মগনামা ঘাটটি অনেকদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখানে একটি নতুন জেটিঘাট তৈরি করতে সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা এবং নৌ-পরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। দুজনকেই সঙ্গে নিয়ে কাজটি করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতের অগ্রগতির দিকে সুদৃষ্টি দিয়েছেন। আমাদেরও এ অঞ্চলকে ঘিরে একই পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে এ অঞ্চলের ভঙ্গুর চিত্রকে পাল্টে দিতে পারব।