দেশের দুই জেলায় শিশুসন্তানসহ ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে তিন সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছেন বাবা। পরে বাবাও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। মানিকগঞ্জে ঘরের দরজা ভেঙে এক প্রবাসী, তার স্ত্রী ও দেড় বছরের মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—

সুনামগঞ্জ: জেলার তাহিরপুরে তিন সন্তানকে বিষ খাইয়ে সরাফত আলী নামের এক ব্যক্তি নিজেও বিষপান করেছেন। এতে তিন শিশুরই মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই বাবাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল ভোরে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনী লাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তিন শিশু মাওয়া আক্তার (১০), শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতের কোনো এক সময়ে ওই ব্যক্তি তার তিন শিশুসন্তানকে বিষ খাইয়েছেন। পরে নিজেও বিষপান করেন। সকালে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ঘটনাটি জানতে পেরে চারজনকেই দ্রুত উদ্ধার করে বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক শিশুদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাত জানান, ভোরে খবর পেয়ে পুলিশ ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে পৌঁছে তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।

মানিকগঞ্জ: সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহিরচর জান্নাকান্দি গ্রামে নিজের বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন একরাম হোসেন (৪০), তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা (২৪) ও দেড় বছরের মেয়ে অ্যালিজা। গতকাল দুপুরে ঘরের দরজা ভেঙে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, সৌদি আরব প্রবাসী একরাম হোসেন মাস তিনেক আগে দেশে আসেন। মা, ভাই ও ভাবিসহ একরামের পরিবার একই বাড়িতে থাকত। পুলিশ আরো জানায়, একরামের মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। আর ঘরের ভেতর তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ পড়ে ছিল। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একরাম হোসেন তার স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরো নিশ্চিত হওয়া যাবে। জানা গেছে, একরাম বারাহিরচর জান্নাকান্দি গ্রামের নূর হক ডাক্তারের ছেলে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে ভিড় করে স্থানীয়রা।