ববি হাজ্জাজ। জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এনডিএমের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসন থেকে যদিও ভোটে লড়ছেন বিএনপির প্রার্থী হয়ে। নির্বাচনের পরিবেশ, প্রতিশ্রুতি ও ভোটের প্রস্তুতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। জানিয়েছেন ভোট নিয়ে কিছু শঙ্কার কথাও। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনিকা মাহজাবিন

নির্বাচনী প্রচারণায় কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

জনগণের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। যেখানেই যাচ্ছি লোকজন আমার হয়ে হ্যান্ডবিল বিলি করতেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসছে।

ভোটাররা আপনার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কারণ কী বলে মনে করেন?

আমার প্রতিশ্রুতি আসলে ব্যতিক্রমী কিছু নয়—জনগণের যেটা প্রয়োজন, সেটাই। বরং জনগণের ন্যায্য চাহিদা যদি কেউ পূরণ না করে, সেটাই ব্যতিক্রম। আমার এলাকার মানুষের প্রধান প্রয়োজন হলো একটি সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ এবং সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে নিয়মিত জবাবদিহি। তারা গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির স্থায়ী সমাধান চান। এ এলাকার জনগণের দরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সমস্যার সমাধান। রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা প্রয়োজন। আবার অনেক জায়গায় রাস্তাও নেই। থাকলেও তা সরু বা চলাচলের অযোগ্য। এছাড়া সময়োপযোগী বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও প্রয়োজন।

রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় আমরা কোনো সন্ত্রাস হতে দেব না। চাঁদাবাজি হতে দেব না। অপরাধ কমাতে এরই মধ্যে আমরা হটস্পটগুলোয় সিসিটিভি লাগাচ্ছি। অ্যাপ বানিয়ে দিয়েছি যেটায় এলাকাবাসী এবং থানা অ্যাকসেস করতে পারে। এছাড়া থানার সঙ্গে হটলাইন করে দেয়া হয়েছে। সবাইকে আমরা একত্র করে এ কাজগুলো করার ব্যবস্থা করছি। দখলদারি, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। তিতাস, ওয়াসাকে জবাবদিহির মধ্যে নিয়ে আসব। এটি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে আমরা মাসিক টাউন হলের ব্যবস্থা করছি। জনপ্রতিনিধি, সরকারি দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের প্রত্যেক মাসে একবার করে ওয়ার্ডে নিয়ে আসব। তারা জনগণের জবাব দেবেন। পাঁচ বছরে একবার না, জনগণের কাছে প্রতি মাসেই জবাবদিহি করা হবে।

এলাকার তরুণদের নিয়ে কোনো ভাবনা আছে?

এলাকার কিছু মাঠ দখল হয়ে আছে, সেগুলো মুক্ত করা হবে। সেখানে পার্ক তৈরি করা হবে। স্কুল-কলেজের মানোন্নয়নে কাজ করব। জাতীয় পর্যায়ে বা জোটের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা আছে তরুণদের জন্য এক কোটি নতুন চাকরি তৈরি করা। আমার এলাকাটি আরো ব্যবসাবান্ধব করার পরিকল্পনা আছে। চাঁদাবাজি ও রাস্তা দখল বন্ধ করে দেয়া হলে এ এলাকায় মানুষ তখন স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা করতে পারবে।

বিহারি ক্যাম্পগুলো নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

বিহারি ক্যাম্পের নেতাদের সঙ্গে এরই মধ্যে আমরা বসেছি, আলোচনা করেছি—কীভাবে কমপ্লিট রিকনস্ট্রাকশনে যেতে পারি? এখানে বড় স্ট্রাকচার তৈরি করব আমরা। তাদের সঙ্গে নিয়ে স্টেপ বাই স্টেপ সেগুলো করা হবে। সেখানে তাদের লিভিং স্পেস দেয়া হবে এবং সঙ্গে মার্কেট স্পেস থাকবে, যেখান থেকে তারা কিছু হলেও ভাড়া তুলতে পারবে। এই যে মার্কেট স্পেস হবে সেখানে ক্যাম্পের তরুণ বা জনগোষ্ঠী যারা আছেন তারা নতুন ব্যবসা খুলতে পারবেন, আবার চাকরিরও সুযোগ তৈরি হবে। আমরা নতুন সম্ভাবনা তৈরির কাজে আছি।

কোন শ্রেণীর ভোট বেশি পাবেন বলে মনে করছেন?

আমি মনে করি সব ভোটই আমি বেশি পাব। আপনি পুরুষ ভোট বলেন, নারী ভোট বলেন, বিহারি ভোট বলেন। মাইনরিটি, মানে অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীর ভোটও পাব। সব শ্রেণীরই বেশির ভাগ ভোট আমি পাব বলে বিশ্বাস করি।

সময় তো আর বেশি নেই, ভোট নিয়ে কোনো শঙ্কা আছে বলে মনে করেন?

এ নির্বাচন কমিশনের মতো দুর্বল কমিশন আমি কখনো দেখিনি। নির্বাচন কমিশন যেহেতু প্রচণ্ড দুর্বল এবং প্রবাসী ভোট কাউন্ট করার কোনো সিস্টেম তারা ঠিকভাবে এখনো তৈরি করেনি, এখানে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কিছু কিছু ফাঁকফোকর রয়েছে বলে আমি মনে করি। তবে সে জায়গা থেকে আমরা সচেষ্ট থাকতে চেষ্টা করব যেন সেটা কেউ করতে না পারে।