হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ৪১ বছর পর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালু হলো অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। গতকাল রোববার (১৯ মার্চ) দুপুরে হাসপাতালের ওটিতে প্রথম সিজারে ছেলে শিশুর জন্ম দিয়েছেন এক প্রসূতি। বর্তমানে মা ও নবজাতক উভয়েই সুস্থ আছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ সালে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনটির উদ্বোধন হয়। বিভিন্ন জটিলতায় দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এতদিনে ওটি চালু হয়নি। পরিশেষে সব প্রতিবন্ধকতার অবসান ঘটিয়ে চালু হয়েছে ওটি।
স্থানীয়রা জানান, কোনো প্রসূতি মায়ের অবস্থার অবনতি হলে বা সিজারের প্রয়োজন হলে আগে বিভাগীয় শহর রংপুর ও জেলা শহরে গাইবান্ধায় যাওয়া ছাড়া বিকল্প উপায় ছিল না। বর্তমানে হাতের নাগালে এ ব্যবস্থা চালু করায় কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই সিজারিয়ান সেবা পাওয়া যাবে। এ ব্যবস্থা আরো বেগবান করতে ও মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সিজার সেবায় সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সদ্য জন্ম নেয়া শিশুর বাবা সুজন মিয়া বলেন, হাসপাতালে প্রথম সিজার হয়েছে। এ জন্য প্রথমে কিছুটা ভয়ে ছিলাম। কিন্তু সুষ্ঠুভাবে সিজার সম্পন্ন হওয়ার পর খুবই আনন্দিত হয়েছি। আর এ কাজটির পুরো কৃতিত্বই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহর। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এটা অনেক বড় প্রাপ্তি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ বলেন, আল্লাহর রহমতে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ৪১ বছর পর প্রথম সিজারে আমরা সফল হয়েছি। এ সফলতায় হাসপাতালের সকল ডাক্তার ও নার্সরা সহযোগিতা করেছেন। ওটি শেষে প্রসূতিসহ নবজাতককে হাসপাতালের কেবিনে রাখা হয়েছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এখানেই প্রসূতি এবং নবজাতককে সেবা দেয়া হবে।









