বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ‘গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষিতে অধিক গুরুত্ব দিতেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া। শহরের বড় বড় অবকাঠামো, প্রকল্প মানে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নয়, গোটা জাতির উন্নয়নে গ্রামের উন্নয়নই মুখ্য। গ্রামীণ অবকাঠামো, কৃষির উন্নয়নে প্রথমবার সরকার গঠনের পর ওই বছরই তিনি বিভিন্ন ধাপে চাষীদের মোট ১০ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করেছেন।’

গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. মঈন খান। সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএবিসিসিআই) খালেদা জিয়ার স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

এসএবিসিসিআই সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী, সাবেক সিনিয়র সচিব শামসুল আলম, অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন, এসএবিসিসিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী এনায়েতুর রহমান।

ড. মঈন খান বলেন, ‘১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ঋণের দায় নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে ছিলেন কৃষকরা। ১৯৯১ সালে নির্বাচনের আগে কৃষকদের ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। সেই কথা অনুযায়ী সরকার গঠনের পর বিভিন্ন ধাপে ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ করেছিল তৎকালীন বিএনপি সরকার, যা দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে পরিচিত। ’

খালেদা জিয়ার স্মতিচারণ করে ড. মঈন খান বলেন, ‘আশির দশকের এক কঠিন সময়ে খালেদা জিয়ার মাধ্যমেই রাজনীতিতে পদার্পণ করেছিলাম। অনেকটা জোর করেই আমাকে রাজনীতিতে এনেছিলেন তিনি। তার সমর্থন ছাড়া আজকের এই রাজনৈতিক অবস্থান কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।’ বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির মূল ভিত্তি বেগম খালেদা জিয়াই স্থাপন করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন ড. মঈন খান। তিনি বলেন, ‘সাবমেরিন কেবল স্থাপন এবং দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে কম্পিউটার বিতরণের উদ্যোগ খালেদা জিয়ার সময়েই শুরু হয়েছিল। শিক্ষার প্রসারে বেগম জিয়া খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।’

আলোচনা সভা শেষে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়ার আয়োজন করা হয়।