টানা তিনদিনের ছুটিতে কক্সবাজার সৈকতে ছুটে এসেছেন হাজারো পর্যটক। এতে আয় বেড়েছে সৈকতের হকারের। পর্যটকের নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।
গতকাল দুপুরে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, জেড স্কিতে চড়ে নীল জলরাশি উপভোগে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়। আর সৈকতের প্রবেশদ্বারে বালিয়াড়িতে ঘোড়ায় চড়ে ঘুরছেন অনেক পর্যটক। অনেকে ঘোড়ার পিঠে উঠে ছবি তুলেই আনন্দ খুঁজে নিচ্ছেন। শুধু ওয়াটার বাইক বা ঘোড়ায় চড়া নয়, সাগরের লোনাজলে গা ভাসাতে যেন অপার আনন্দ সবার। কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে উত্তাল আনন্দে গোসলে মেতেছেন। আর কেউ এই আনন্দ উৎসবের দৃশ্য ধরে রাখতে তুলছেন ছবি।
ঢাকার বনশ্রী থেকে আসা ডাক্তার দম্পতি মারুফ-সালমা জানান, কক্সবাজার আমাদের প্রাণের জায়গা। ছুটি পেলে ছুটে আসি এ পর্যটন শহরে। হালকা বৃষ্টি হলেও কক্সবাজারে অনেক ভালো লাগছে।
ঘোড়ার পিঠে উঠে ছবি তোলেন টাঙ্গাইলের স্বর্ণা। তিনি বলেন, কক্সবাজারে আমি প্রথম এসেছি। সমুদ্রস্নান করে অনেক ভালো লেগেছে। এখন থেকে প্রতি বছর সুযোগ পেলে কক্সবাজার চলে আসব। দেখা গেছে, পর্যটকের উপস্থিতিতে ব্যস্ততা বেড়েছে সৈকতের ঘোড়াওয়ালা, জেড স্কি চালক ও ফটোগ্রাফারদের। তারা বলছেন, টানা ছুটিতে পর্যটক বেশি আসায় আয়ও বেড়েছে তাদের।
কলাতলী সৈকতের ঘোড়াওয়ালা কাদের বলেন, পর্যটকরা আর আগের মতো ঘোড়ায় চড়েন না। তাই আয়-রোজগারও কম। কিন্তু এখন টানা ছুটিতে অনেক পর্যটক এসেছেন। অনেকেই ঘোড়ার পিঠে উঠে ঘুরছেন, ছবি তুলছেন। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ২ হাজার টাকার মতো আয় করেছি।
জেড স্কি চালক রফিক বলেন, সপ্তাহের অন্যান্য দিন ১০ হাজার টাকা আয় করলেও বৃহস্পতিবার ৩০ হাজার টাকা ও গতকাল দুপুর পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা আয় হয়েছে।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, কক্সবাজারে কয়েকদিন ধরে হালকা বৃষ্টি হলেও বৃহস্পতিবার থেকে পর্যটক এসেছেন মোটামুটি। শুক্রবার ও শনিবার যথারীতি পর্যটক থাকেন। তবে নিত্যপণ্য ও লোডশেডিংয়ের কারণে পর্যটক ও মালিক পক্ষ চরম সমস্যায় রয়েছে। সামনে এ রকম হলে হোটেল মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, টানা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের উপস্থিতি বাড়ায় বিভিন্ন স্পটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ টিমও কাজ করছে। তাই পর্যটকরা নিরাপদে কক্সবাজার ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন সেজন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ সবসময় মাঠে আছে।










