বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকালে অসংখ্য গুম-খুন-অপহরণ-মিথ্যা মামলার হয়রানি, নির্যাতনের পরও বিএনপির একজন নেতাকর্মীও রাজপথ ছাড়েনি। একই পরিবারের এক ভাই গুম হয়েছে, আরেক ভাই গিয়ে তার জায়গায় পরের দিন রাজপথে আন্দোলনকে আরো তীব্রতর করার প্রতিজ্ঞার শপথ নিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। কৌশলের নামে গুপ্ত কিংবা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বিএনপির কর্মীরা।’

গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপির পরিবার’ নামের দুটি সংগঠন এর আয়োজন করে।

ষড়যন্ত্র-অপপ্রচার চালিয়ে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে দলের নেতাকর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের আপসহীন ভূমিকা রাখতে পারে; সেই দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ দমন করে রাখতে পারবে না।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বহু সন্তান আজও অপেক্ষায় আছে, তাদের গুম হয়ে যাওয়া বাবা একদিন ফিরে এসে দরজায় কড়া নাড়বেন। বহু মা এখনো আশায় আছেন, হারিয়ে যাওয়া সন্তানটি আবার “‍মা” বলে ডাকবেন। এ অপেক্ষা রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় দায়।’

বিএনপির এ শীর্ষ নেতা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, অনেককে হত্যা করা হয়েছে, হাজারেরও বেশি মানুষকে গুমের শিকার হতে হয়েছে। আজ এখানে গুম হওয়া সেই মানুষগুলোর কিছু পরিবারের সদস্য উপস্থিত আছেন। আবার অনেক পরিবার এখনো অপেক্ষায় আছেন।’ সীমাবদ্ধতা থাকলেও গুম হওয়া মানুষকে উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘সকল শহীদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী দিনে বিএনপি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতার কারণে এ মুহূর্তে আমি হয়তো বিস্তারিতভাবে সে পরিকল্পনা আজকের এ অনুষ্ঠানে তুলে ধরতে পারছি না।’

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি তাদের বিতর্কিত ভূমিকা দেখা গেছে। তার পরও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ধৈর্যের পরিচয় দিতে চায়।’

দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। কেউ কেউ বিভিন্ন রকম কথা বলে একটি অবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে, যেখানে এ গণতন্ত্রের পথ যেটি তৈরি হয়েছে সেটি যাতে বাধাগ্রস্ত হয়।’

তারেক রহমান আরো বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব, দল-মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাদের সজাগ থাকার জন্য। যারা বিভিন্ন উসিলা দিয়ে বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথকে আবার নষ্ট করার বা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে, তারা যাতে সফল না হয়।’

গুম ও হত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৭১ সালে যারা শহীদ হয়েছেন এ দেশকে স্বাধীন করার জন্য, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, বিগত ১৬ বছরে যারা গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন, চব্বিশের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন—প্রতিটি অন্যায়ের বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগামী দিনে অবশ্যই বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দরকার।’

তিনি বলেন, ‘এবার যদি আমরা একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সরকার গঠনের সুযোগ হাতছাড়া করি তাহলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সেই শহীদদের প্রতি জুলুম করা হবে, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অমর্যাদা করা হবে।’