দীর্ঘ বিরতির পর টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ গেল। আজ মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পরীক্ষামূলক ট্রিপে রওনা দেয় এমভি বারো আউলিয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাহাজ সংস্থার কক্সবাজারস্থ পরিচালক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর ও কক্সবাজার পর্যটক সেলের ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দজাদী মাহবুবা মঞ্জুর মৌনা।

এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফ দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি নিয়ে জাহাজটি যাত্রা শুরু করে।

এর আগে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রশাসনের সব সেক্টর ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের এক বৈঠকে জাহাজ চলাচলের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বারো আউলিয়ার পরিচালক বাহাদুর বলেন, আজ পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের জাহাজ চালু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের টিমসহ সেন্টমার্টিন পর্যন্ত গিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে কাল থেকে পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিন যেতে পারব। এর মধ্যে অনলাইনে অনেক বুকিং হয়েছে। তবে একদম নিশ্চিত বলা যাবে আজ বিকাল ৪টার মিটিংয়ের পর।

কক্সবাজার পর্যটক সেলের ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা মঞ্জুর বলেন, আজ পরীক্ষামূলক জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বুধবার থেকে পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল করবে।

১৬ বছর ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করলেও নাফ নদীর বিভিন্ন স্থানে বালুচর জেগে ওঠাসহ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের কারণে গত ১ মার্চ থেকে এ রুটে জাহাজ বন্ধ ছিল।

এবার মৌসুমের কিছুটা আগে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় খুশি সেন্টমার্টিনবাসী।

দ্বীপের হোটেল সী-প্রবালের পরিচালক আব্দুল মালেক জানান, গতবছর দেরিতে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় অনেক লোকসান হয়েছিল। এ বছর দ্রুত জাহাজ চলাচলে হোটেল মালিক ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা অনেক খুশি হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, দ্বীপের প্রধান আয় হোটেল ব্যবসা ও পর্যটকদের সেবা। জাহাজ চলাচল ৬ মাস বন্ধের বেকার সময় কাটিয়ে এখন সবাই কর্মমুখী হবে। আমরা দ্বীপবাসীর পক্ষ থেকে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত আছি।