খুলনায় এবার ১৯টি স্থানে কোরবানির পশুরহাট বসেছে। এছাড়াও ২টি অনলাইন পশুরহাটও রয়েছে। শেষ সময়ে সকল হাটেই কোরবানির পশু কেনা-বেচা জমজমাট হয়ে উঠেছে। গত বছর খুলনার বিভিন্ন এলাকায় ৩৪টি কোরবানির পশুর হাট ছিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার নির্ধারিত ও নিয়মিত হাট ছাড়া কোন উন্মুক্ত স্থানে হাট বসেনি। খুলনার জমজমাট পশুর হাটগুলোতে এবছর ছোট গরুর চাহিদা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে, এই মহামারীতেও কোরবানির পশুর এ হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শনার্থীরাও আসছেন। তারাও বাজার ঘুরে গরু দেখছেন। ক্রেতা-বিক্রেতার পাশাপাশি কেসিসি’র বাজার পরিচালনা কমিটি এবং আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত জোড়াগেট পশুর হাটে খুলনাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পশু আসছে। শেষদিকে এসে হাটে পুরোদমে বেচা-কেনা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা পর্যন্ত এ হাটে ২ হাজার ৩৪২টি পশু বিক্রি হয়। এর মধ্যে গরু ১৯২০টি ও ছাগল ৪১৮টি। এ বাবদ হাসিল আদায় হয় ৬৬ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪৭ টাকা।
জানা গেছে, গত ২৬ আগস্ট কেসিসি পরিচালিত জোড়াগেট পশুর হাটের উদ্বোধন করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে হাটে পশু কেনা-বেচা শুরু হয় ২৭ আগস্ট। প্রথমদিকে পশুর উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন উপজেলাসহ আশপাশ জেলা থেকে প্রচুর পশু এসেছে। স্থানীয় হাটগুলো শেষ হওয়ায় শুক্রবার এ হাটে পশুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং পুরোদমে বেচা-কেনা শুরু হবে। তবে হাটে আসা বড় পশুর চাহিদা ও দাম অনেক কম বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারা।
বাগেরহাট থেকে আসা বিক্রেতা মো. আবুল হোসেন জানান, তার দু’টি গরু এখনও হাটের সেরা গরুর মধ্যে রয়েছে। ব্রমাজাতের গরুর ওজন ২২ মণ ও অস্ট্রেলিয়ান জাতের গরুর ওজন ২৪ মণ। গরু দু’টির দাম চেয়েছেন ১৯ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২২ মণ ওজনের গরুর দাম উঠেছে ৫ লাখ টাকা আর ২৪ মণ ওজনের গরুও দাম উঠেছে সাড়ে ৬ লাখ টাকা। কিন্তু তাতে তিনি বিক্রি করতে রাজি হননি। কারণ উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হওয়ায় চরম লোকসানে পড়তে হবে।
অপরদিকে মাঝারী সাইজের ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা দামের গরুর কদর রয়েছে। এ ধরনের গরুও বেচা-বিক্রি অনেক বেশি। বিক্রেতা আবুল খায়ের বলেন, তিনি নিজের খামারে পালিত ৩টি গরু নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে বড় গরুটির ওজন সাড়ে ৭ মণ হবে। দাম চাচ্ছেন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ক্রেতারা এসে দেখে দাম শুনে চলে যাচ্ছেন।
কালিয়া ইসলামপুরের অপর বিক্রেতা আফতাব মোল্লা বলেন, তার ৫ মণ ওজনের গরুর দাম ১ লাখ ৫ হাজার টাকা চচ্ছেন। দামও বলছেন ক্রেতারা। তবে, তা সন্তোষজনক নয়।
বিক্রেতা আব্দুল বারিক শিকদার তার ১১০ কেজি ওজনের ছোট গরুর দাম হাকিয়েছেন ৭০ হাজার টাকা। তবে, ৫৫ হাজার টাকা দাম বলছেন ক্রেতারা। কিন্তু হাটে ক্রেতার সংখ্যা কম হওয়ায় তিনি এখনও বিক্রি করেননি। আরও অপেক্ষা করছেন।
কালিয়ার অপর খামারি মোহাব্বত শেখ বলেন, তিনি ১৭টি গরু নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গরুটির ওজন সাড়ে ৬ মণ হবে। দাম চাচ্ছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। তবে, ক্রেতারা এসে দেখে চলে যাচ্ছেন। দামও কম বলছে ক্রেতারা।
মহানগরীর খালিশপুরের বাসিন্দা নাজমুল হুদা বলেন, ব্যাপারীরা অনেক দাম হাকাচ্ছে। গরু হিসেবে যার দাম অনেক বেশি। ফলে এখনও কেনার মত হয়নি, গরুও আসতে শুরু করেছে। তাই কিনতে একটু সময় নিচ্ছেন।
অপর ক্রেতা মেহমুদ আলম বলেন, দাম সম্পর্কে ধারণা নিতেই হাটে এসেছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। হাটে গরু বাড়লে দামও নাগালের মধ্যে চলে আসবে।
কেসিসি’র ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন জানান, ইতোমধ্যে পশুর হাট জমে উঠেছে। হাটে প্রচুর পশু এসেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে ক্রেতার উপস্থিতি বেড়েছে। আজ শুক্রবার পুরোদমে বেচা-কেনা শুরু হবে। তাই গতবারের চেয়ে এ বছর রাজস্ব আয় বেশি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, কুরবানির হাটে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি এবং সরকারি নিদের্শনা মেনে পশু ক্রয় ও বিক্রয় করতে হবে। হাটে প্রবেশ পথে জীবাণুনাশক ছয়টি টানেল স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রবেশের সময় মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। বয়স্ক ও শিশুরা পশুর হাটে প্রবেশ করতে পারবেন না। এবারে পশুর হাটে সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চিত করাসহ জাল নোট শনাক্তকরণ, কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে হাসিল আদায়সহ সকল আধুনিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সার্বক্ষণিক পশু ও হাটে আগতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।









