বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশকে আমরা ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। পেছন নিয়ে আর কামড়াকামড়ি করতে চাই না। জাতিকেও আমরা বিভক্ত করতে চাই না। সবাই মিলেমিশে সামনে এগোতে চাই।’

গতকাল রাজধানীর উত্তর কাফরুল এলাকায় ঢাকা-১৫ আসনে নিজের নির্বাচনী জনসংযোগ শুরুর আগে তিনি এ কথা বলেন। দুপুরে উত্তর কাফরুল হাইস্কুল থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন তিনি।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমার একজন প্রতিদ্বন্দ্বী এখানে আছেন। আছেন অনেকেই, তবে একজন বিশেষ প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন। তাকে আমি ওয়েলকাম করি। আসেন ময়দানে, আমরা সবাই আমাদের প্রচার নিয়ে যাই; সুন্দরভাবে, ভদ্রভাবে, শান্তভাবে, সুশৃঙ্খলভাবে। সবাই সবাইকে সম্মান করি এবং যার যার কথা আমরা জনগণের কাছে ছড়িয়ে দিই। আস্থাটা আমরা জনগণের ওপর রাখি। আস্থার ভার নিজের হাতে না নিই। জনগণ যাকে পছন্দ করবে, আমরা সবাই মিলে তাকে পছন্দ করব এবং তাকে ওয়েলকাম করব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, সমবেতভাবে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে একটা আদর্শ এলাকা গড়তে পারব। এখানে অনেক সমস্যা আছে। জলাবদ্ধতার সমস্যা, রাস্তাঘাটের সমস্যা, স্কুল-কলেজের সমস্যা। এখানে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই, আদর্শ মানের মানসম্মত কোনো হাসপাতাল নেই, খেলার মাঠ নেই, পার্ক নেই, ওয়াকওয়ে নেই, বিশ্রামের, ব্যায়ামের কোনো জায়গা নেই। এ ধরনের অনেকগুলো সমস্যা আছে। আমরা আলহামদুলিল্লাহ এ এলাকা নিয়ে রূপকল্প তৈরি করেছি। সবাইকে নিয়েই সমাধান করব। আপনারা দোয়া করবেন।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ এলাকাকে আমি অন্তরে ধারণ করি। এই এলাকা নিয়ে স্বপ্ন দেখি, যেমন সারা দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখি। তবে যেহেতু আমি এখান থেকে নির্বাচন করব, এটার জন্য আলাদা করে স্বপ্ন দেখি। এখানকার প্রতিটি সমস্যাকে নিজের মনোজগতে তুলে আনার চেষ্টা আমি করছি। আল্লাহ যদি সুযোগ দেন, তার একান্ত মেহেরবানিতে এবং জনগণের রায়ে, ভোটে, তাহলে আমরা ইনশা আল্লাহ এ এলাকাকে একটা আদর্শ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করব।’

ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে গতকাল সকালে তার রাজধানীর বসুন্ধরা কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান। এ সময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

আলোচনাকালে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, ‘দল-মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের জনগণ সর্বদা ফিলিস্তিনের ন্যায়সংগত সংগ্রামের পাশে থাকবে। তিনি ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের দখল ও জোরপূর্বক উচ্ছেদের ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা অবিলম্বে বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জাতিসংঘ, ওআইসি ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘ফিলিস্তিন পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের দোয়া, ভালোবাসা, সহযোগিতা ও অকৃত্রিম সমর্থন অব্যাহত থাকবে।’

এ সময় রাষ্ট্রদূত ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের আন্তরিক সমর্থন ও সংহতির জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে এ সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।