বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান। গতকাল রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সভা শেষে এ কথা জানানো হয়।

সভার পরে দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শূন্য পদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।’

এর আগে তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সভা শেষে রাত সাড়ে ১০টার পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এরই মধ্যে তারেক রহমান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থায়ী কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করেছে। চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি যেন সফল হতে পারেন, সে জন্য সবাই দোয়া করেছেন।’

এর আগে ৪ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, শিগগিরই তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হবে।

২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারায় (৩) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রসঙ্গে বলা আছে, ‘যেকোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।’

গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারপারসনের পদটি শূন্য হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দলের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন আনা হলো।

সতেরো বছরের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান।

সভা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো জানান, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত করা হয়েছে। ১১ জানুয়ারি থেকে তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা সফরের কর্মসূচি ছিল। জাতীয় নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদসহ অন্য শহীদদের কবর জিয়ারত এবং কিছু পারিবারিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সফরটি নির্ধারিত হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে সেই সফর স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা সবাই খুব ভালো করে জানেন যে দেশের যে নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সে নির্বাচনকে বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ও বানচাল করার জন্য একটি মহল বিভিন্নভাবে চক্রান্ত করছে।’

নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা ঘটানো হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা এরই মধ্যে ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করেছে। একইভাবে বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক দলের নেতাদের, বিশেষ করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কয়েক দিন আগে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মুসাব্বিরকে (আজিজুর রহমান ওরফে মুসাব্বির) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

এসব ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

বৈঠকে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন, দলীয় কর্মসূচি ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং এজেডএম জাহিদ হোসেন।