বকেয়া বেতন দাবিতে নারায়ণগঞ্জে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে ৩ ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল শুরু হয়। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের
আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
গতকাল বেলা ১১টায় ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় রূপসী পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেতন-ভাতার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় রফতানিমুখী পোশাক কারখানা রূপসী গার্মেন্টসে প্রায় আড়াইহাজার শ্রমিক কাজ করেন। ওই কারখানার ফেব্রুয়ারি ও মার্চ এ দুই মাসের বেতন বকেয়া। বুধবার শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ বেতন পরিশোধ না করায় শ্রমিকরা গতকাল কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকরা কারখানা থেকে রাস্তায় নেমে আসেন। তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের শিবু মার্কেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশ গিয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। শ্রমিকরা তাদের দাবিতে অনড় থাকেন। কারখানা মালিক কর্তৃপক্ষ ৭ এপ্রিল বেতনের প্রদানের আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা তা না মেনে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন।
এদিকে বেলা ৩টার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের সরিয়ে দিয়ে যানবাহন চালুর চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও শর্টগানের গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশেল সঙ্গে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসানসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
কারখানার সুইং অপারেটর আকলিমা জানান, মালিকপক্ষ গত দুই মাসের বেতন বকেয়া রেখেছে। তাদের বেতন নিয়ে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ করেছেন। বুধবার বেতন প্রদান না করায় তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।
কারখানার সহকারী উপমহাব্যবস্থাপক মো. নাছির উদ্দিন বলেন, শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। তাদের আগামী ৭ এপ্রিল বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা তা মানেননি। শ্রমিকদের বিক্ষোভ নিরসনে শিল্প পুলিশসহ সবার সঙ্গে মিলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, শ্রমিকরা বৃহস্পতিবারের মধ্যে বেতন প্রদানের দাবি করলেও সেটা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের বেতনের সঙ্গে ব্যাংকিংসহ অন্যান্য অনেক বিষয় রয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আমীর খসরু বলেন, বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। তাদের আগামী ৭ এপ্রিল বেতন প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন মালিকপক্ষ। বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে গেলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পাল্টা বেশকিছু টিয়ারশেল ও শর্টগানের গুলি ছুড়েছে। কত রাউন্ড টিয়ারশেল ও শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ করা হয়েছে তা পরে গণনা করে বলতে হবে। তিনি বলেন, ২টার দিকে যানবাহন চলাচল শুরু হলেও ওই সড়কে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়।










